সিজারিয়ান ডেলিভারির সময় সামান্য অসতর্কতাই যে কতটা ভয়ংকর পরিণতি ডেকে আনতে পারে, নয়ডার এই ঘটনা তারই জ্বলন্ত উদাহরণ। অপারেশনের এক বছরেরও বেশি সময় পরে তীব্র পেটব্যথা ও অস্বাভাবিক ফোলার কারণ খুঁজতে গিয়ে দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারে মহিলার পেট থেকে বেরোল সার্জিক্যাল কাপড়। এই ঘটনায় চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

কোথায় ও কীভাবে ঘটল ঘটনা?
ঘটনাটি উত্তরপ্রদেশের নয়ডার নলেজ পার্ক এলাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালের।
অভিযোগ অনুযায়ী—
১৪ নভেম্বর ২০২৩ সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়
অপারেশনের সময় প্রায় আধ মিটার লম্বা সার্জিক্যাল কাপড় পেটের ভেতরেই রেখে দেওয়া হয়
মাত্র দু’দিন পরই রোগীকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়
এরপর থেকেই শুরু হয় শারীরিক সমস্যা।
১৫ মাস ধরে যন্ত্রণা, ধরা পড়েনি আসল কারণ
ডেলিভারির কিছুদিনের মধ্যেই মহিলার—
তীব্র পেটব্যথা
বারবার অসুস্থতা
অপারেশনের জায়গায় ফোলা ভাব
দেখা দিতে শুরু করে।
মুজফফরনগর ও গ্রেটার নয়ডার একাধিক হাসপাতালে—
আল্ট্রাসাউন্ড
MRI
বিভিন্ন মেডিক্যাল টেস্ট
হলেও প্রকৃত কারণ ধরা পড়েনি।

দ্বিতীয় অপারেশনে প্রকাশ্যে এল ভয়ঙ্কর সত্য
চলতি বছরের মার্চ ও এপ্রিল মাসে সমস্যা আরও বাড়লে একাধিক হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়া হয়।
শেষ পর্যন্ত—
১৪ এপ্রিল কৈলাস হাসপাতালের চিকিৎসকেরা দ্বিতীয় অপারেশনের পরামর্শ দেন
২২ এপ্রিল অস্ত্রোপচারের সময় মহিলার পেট থেকে বের হয় সার্জিক্যাল কাপড়
পরিবার সেই কাপড়ের ছবি ও ভিডিও প্রমাণ হিসেবে জমা দিয়েছে।
কার বিরুদ্ধে মামলা, কী ধারায় FIR?
মহিলার স্বামীর অভিযোগের ভিত্তিতে ২৪ ডিসেম্বর থানায় FIR দায়ের হয়েছে।
অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন—
বেসরকারি হাসপাতালের ৩ জন চিকিৎসক
জেলার চিফ মেডিক্যাল অফিসার
স্বাস্থ্য দপ্তরের ২ জন আধিকারিক
ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অনুযায়ী ধারাগুলি—
১২৫ ও ১২৫(বি): অবহেলার কারণে জীবন বিপন্ন
২৫৫: আইন অমান্য করে অপরাধীকে বাঁচানোর চেষ্টা
৩৫১(২): ফৌজদারি হুমকি

তদন্তে গাফিলতির অভিযোগও উঠেছে
পরিবারের দাবি—
মেডিক্যাল কমিটি গঠন হলেও তদন্ত ইচ্ছাকৃতভাবে দেরি করা হয়েছে
উদ্ধার হওয়া কাপড় ফরেনসিক পরীক্ষায় পাঠানো হয়নি
মামলা না চালানোর জন্য হুমকিও দেওয়া হয়েছে
এই অভিযোগে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

নয়ডার এক বেসরকারি হাসপাতালে সিজারিয়ান ডেলিভারির সময় ভয়াবহ চিকিৎসা গাফিলতির অভিযোগ। অপারেশনের প্রায় ১৫ মাস পরে যুবতীর পেট থেকে উদ্ধার হল আধ মিটার লম্বা সার্জিক্যাল কাপড়। ঘটনায় একাধিক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য আধিকারিকের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা দায়ের করেছে পুলিশ।













