বেআইনি নির্মাণের মাশুল এবার গুনতে হল নির্মাণকারী সংস্থাকে। হুগলির শ্রীরামপুরে একটি অবৈধ আবাসন প্রকল্পের কারণে পাশের বাড়িতে গুরুতর ফাটল ধরায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের এই রায়ে অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে কড়া বার্তা দিল আদালত।
তিন বছরের পুরনো নির্মাণ ঘিরে বিপত্তি
ঘটনার সূত্রপাত প্রায় তিন বছর আগে। হুগলির শ্রীরামপুর পুরসভার ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের এসসি ঘোষ লেনে একটি বেসরকারি আবাসন নির্মাণ শুরু হয়। কাজ শুরু হতেই আশপাশের একাধিক বাড়ির দেওয়ালে ফাটল দেখা দেয়। এলাকাবাসীর অভিযোগ, নির্মাণকারী সংস্থা নিয়ম না মেনেই কাজ চালাচ্ছিল।
ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ির মালিকের আদালতের দ্বারস্থ হওয়া
নির্মাণস্থলের একেবারে পাশেই দেবপ্রসাদ বসাকের বাড়ি। তাঁর বাড়িতে মারাত্মক ক্ষতি হওয়ায় তিনি প্রথমে শ্রীরামপুর পুরসভায় অভিযোগ জানান। কিন্তু কোনও ব্যবস্থা না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত কলকাতা হাই কোর্টের দ্বারস্থ হন তিনি।
প্রথমে ভাঙার নির্দেশ, পরে বহাল রায়
মামলাটি প্রথম ওঠে বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে। তিনি বেআইনি নির্মাণ ভেঙে ফেলার নির্দেশ দেন। পরবর্তীতে সেই নির্দেশ বহাল রাখেন বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র। তবুও পুরসভার বিরুদ্ধে আদালতের নির্দেশ কার্যকর না করার অভিযোগ ওঠে।
নির্মাণকারী সংস্থার একের পর এক আবেদন খারিজ
রায়কে চ্যালেঞ্জ করে নির্মাণকারী সংস্থার কর্ণধার সন্তোষ চৌধুরী একাধিকবার আদালতের দ্বারস্থ হন। সিঙ্গল বেঞ্চ ও ডিভিশন বেঞ্চ—দু’জায়গাতেই তাঁর আবেদন খারিজ হয়। ডিভিশন বেঞ্চ তথ্য গোপনের অভিযোগে সংস্থাকে এক লক্ষ টাকা জরিমানাও করে।
ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে নিরপেক্ষ সমীক্ষা
ক্ষতিগ্রস্ত পক্ষের আইনজীবী আশিস কুমার চৌধুরী আদালতে উপযুক্ত ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। তার পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র শ্রীরামপুর পুরসভাকে নির্দেশ দেন, একটি নিরপেক্ষ সংস্থার মাধ্যমে ক্ষয়ক্ষতির সমীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে হবে।
১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ
সমীক্ষা রিপোর্ট আদালতে জমা পড়ার পর বিচারপতি কৌশিক চন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেন। আদালতের মতে, বেআইনি নির্মাণের সরাসরি প্রভাব পড়েছে আবেদনকারীর বসতবাড়ির উপর।
হুগলির শ্রীরামপুরে বেআইনি নির্মাণের জেরে পার্শ্ববর্তী বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পরিবারকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি কৌশিক চন্দ্রের নির্দেশে বড়সড় স্বস্তি পেল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার।










