রঙের উৎসব হোলির আবহে এ বছর এক বিরল জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ঘটনা—৩ মার্চ, হোলিকা দহনের দিনেই চন্দ্রগ্রহণ। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে এই সময়কে অত্যন্ত সংবেদনশীল বলে মনে করা হয়। কীভাবে কাটাবেন গ্রহণের সময়? কী করলে মিলবে আধ্যাত্মিক সুরক্ষা? বিস্তারিত জানালেন বৃন্দাবনের বিশিষ্ট সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজ।
কখন ও কতক্ষণ চলবে চন্দ্রগ্রহণ?
৩ মার্চ ২০২৬, মঙ্গলবার দুপুর ৩টা ২০ মিনিটে গ্রহণ শুরু হয়ে সন্ধ্যা ৬টা ৪৭ মিনিট পর্যন্ত চলবে। মোট সময়কাল প্রায় ৩ ঘণ্টা ২৭ মিনিট। ভারতে এই গ্রহণ সীমিত সময়ের জন্য দৃশ্যমান হবে।
জ্যোতির্বিদদের মতে, এটি একটি পূর্ণ চন্দ্রগ্রহণ, যা ‘ব্লাড মুন’ রূপে দেখা যেতে পারে—অর্থাৎ চাঁদ গাঢ় লাল আভা ধারণ করবে।
গ্রহণের সময় কী করবেন?
নাম জপ ও মন্ত্রপাঠে মনোনিবেশ
প্রেমানন্দ মহারাজের মতে, গ্রহণের সময় নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বৃদ্ধি পায়। তাই এই সময়টিকে আধ্যাত্মিক সাধনার জন্য ব্যবহার করা উচিত।
গুরু মন্ত্র জপ
রাম নাম সংকীর্তন
রামায়ণ পাঠ
শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠ
তিনি বলেন, “নাম জপই হল সর্বশ্রেষ্ঠ রক্ষাকবচ।”
গ্রহণ শুরুর আগে কী প্রস্তুতি নেবেন?
গ্রহণ শুরু হওয়ার অন্তত আধা ঘণ্টা আগে স্নান সেরে নিন
পরিষ্কার পোশাক পরুন
শান্ত ও নিরিবিলি স্থানে আসন গ্রহণ করুন
মনোসংযোগ রেখে জপ শুরু করুন
এইভাবে মানসিক ও শারীরিক প্রস্তুতি নিলে নেতিবাচক প্রভাব এড়ানো সম্ভব বলে মত তাঁর।
গ্রহণ শেষে কী করবেন?
ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, গ্রহণ শেষ হওয়ার পর শরীর ও আত্মার শুদ্ধি প্রয়োজন।
অন্তত ৩০ মিনিট নাম জপ
পুনরায় স্নান
বাড়ি পরিষ্কার রাখা
দান-ধ্যান বা সৎকর্ম
বিশেষ করে যেহেতু এ বছর হোলিকা দহনের দিনেই গ্রহণ পড়েছে, তাই সতর্কতা আরও বেশি জরুরি বলে মত আধ্যাত্মিক মহলের।
কেন এই গ্রহণ বিশেষ?
হোলির প্রাক্কালে চন্দ্রগ্রহণ অত্যন্ত বিরল ঘটনা। সিংহ রাশি ও পূর্বাফাল্গুনী নক্ষত্রে এই গ্রহণ সংঘটিত হওয়ায় জ্যোতিষশাস্ত্র মতে এর আধ্যাত্মিক তাৎপর্যও বিশেষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি আত্মশুদ্ধি ও সাধনার উপযুক্ত সময়।
২০২৬ সালের ৩ মার্চ হোলিকা দহনের দিনেই ঘটছে বছরের প্রথম চন্দ্রগ্রহণ। ধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, এই সময় নেতিবাচক শক্তির প্রভাব বাড়ে। বৃন্দাবনের সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজ গ্রহণকালে নামজপ, স্নান ও আধ্যাত্মিক সাধনার পরামর্শ দিয়েছেন। জেনে নিন গ্রহণের সময়সূচি, করণীয় ও গ্রহণ-পরবর্তী নিয়ম।













