ঋতু বদলের ধাক্কায় নাজেহাল শিশুরা! সন্তানকে সুরক্ষিত রাখতে কী করবেন? জানালেন বিশেষজ্ঞ

ঋতু পরিবর্তনের সময় শিশুদের অসুস্থতার ঝুঁকি বাড়ে। বিশেষজ্ঞদের মতে কীভাবে খাবার, পোশাক ও পরিচ্ছন্নতার মাধ্যমে সন্তানকে সুস্থ রাখবেন—জানুন সহজ কিছু কার্যকর টিপস।

ভোরে হালকা ঠান্ডা, দুপুরে তীব্র গরম, আবার সন্ধ্যার দিকে ঠান্ডা হাওয়া—এই অনিশ্চিত আবহাওয়াই শিশুদের শরীরকে ফেলছে বিপাকে। বড়রা অনেক সময় তাপমাত্রার এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারলেও ছোটদের ক্ষেত্রে বিষয়টি সহজ নয়। কারণ তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এখনও পুরোপুরি গড়ে ওঠেনি। ফলে ঋতু বদলের সময় সর্দি-কাশি, ভাইরাল জ্বর কিংবা পেটের সমস্যা দ্রুত দেখা দেয়। চিকিৎসকদের মতে, এই সময় একটু বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করলেই শিশুদের অনেক রোগ থেকে দূরে রাখা সম্ভব।

কেন ঋতু পরিবর্তনের সময় বেশি অসুস্থ হয় শিশুরা?

ঋতু বদলের সময় পরিবেশের তাপমাত্রা দ্রুত পরিবর্তিত হয়, যা ছোটদের শরীরের পক্ষে মানিয়ে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। এই সময় বাতাসে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়ার সক্রিয়তাও বাড়ে। স্কুলে একসঙ্গে খেলা, টিফিন ভাগ করে খাওয়া বা কাছাকাছি বসে পড়াশোনার কারণে সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। অনেক ক্ষেত্রে শিশুদের মধ্যে পেটের সংক্রমণ বা স্টম্যাক ফ্লু-ও দেখা দেয়, যা কয়েকদিনের মধ্যেই দুর্বলতা তৈরি করতে পারে।

পোশাক ও ঘুমের ক্ষেত্রে সতর্কতা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময় শিশুদের খুব মোটা জামা পরানোর প্রয়োজন নেই। বরং লেয়ারিং পদ্ধতিতে ২–৩টি পাতলা জামা পরানো ভালো। এতে গরম লাগলে একটি খুলে দেওয়া যায় এবং ঠান্ডা লাগলে আবার পরানো যায়। ঘুমের সময় শিশুর গায়ে হালকা চাদর ব্যবহার করা উচিত, যাতে শরীরে ঘাম জমে ঠান্ডা না লাগে। তাপমাত্রার ওঠানামা মাথায় রেখে পাখা বা এসি ব্যবহার করাও জরুরি।

পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস গড়ে তোলা দরকার

ঋতু পরিবর্তনের সময় সংক্রমণ এড়াতে পরিচ্ছন্নতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের নিয়মিত সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাস শেখাতে হবে। হাঁচি বা কাশির সময় মুখ ঢাকার অভ্যাসও গড়ে তুলতে হবে। যদি কোনও শিশু অসুস্থ থাকে, তাহলে তাকে কিছুদিনের জন্য স্কুলে না পাঠানোই ভালো, যাতে অন্যদের মধ্যে সংক্রমণ না ছড়ায়।

খাবার ও পানীয়তে বাড়তি নজর

এই সময় শিশুদের বাসি খাবার না দিয়ে টাটকা ও ঘরে তৈরি খাবার দেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা। পুষ্টিকর খাবার শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। পাশাপাশি বিশুদ্ধ জল পান করানো এবং পর্যাপ্ত তরল দেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বাইরে থেকে এসে সঙ্গে সঙ্গে ঠান্ডা পানীয় বা আইসক্রিম খাওয়ানো এ সময় ঠিক নয়, কারণ এতে গলা ব্যথা বা ঠান্ডা লাগার ঝুঁকি বাড়তে পারে।

টিকাকরণে অবহেলা নয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঋতু পরিবর্তনের সময় ভাইরাল ও ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই নির্ধারিত সময় অনুযায়ী শিশুদের টিকাকরণ করানো অত্যন্ত জরুরি। ইনফ্লুয়েঞ্জা টিকা সর্দি-কাশি ও ফ্লু প্রতিরোধে কার্যকর। এছাড়া হিমোফিলাস ইনফ্লুয়েঞ্জা টাইপ বি এবং নিউমোকক্কাল ভ্যাকসিনও শিশুদের বিভিন্ন সংক্রমণ থেকে সুরক্ষিত রাখতে সাহায্য করে।

ঋতু পরিবর্তনের সময় আবহাওয়ার খামখেয়ালিপনায় সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ে শিশুরা। তাপমাত্রার দ্রুত ওঠানামা, ভাইরাস-ব্যাকটেরিয়ার সক্রিয়তা এবং স্কুলে সংস্পর্শের কারণে সর্দি-কাশি, জ্বর বা পেটের সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক পোশাক, স্বাস্থ্যকর খাবার, পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত টিকাকরণই শিশুদের সুস্থ রাখার প্রধান উপায়।

Leave a comment