প্রাকৃতিক উপাদান মানেই যে সব ত্বকের জন্য নিরাপদ, এই ধারণাই বিপদের মূল কারণ। ব্রণ নিরাময়ের আশায় দারচিনির প্যাক মুখে মাখছেন বহু মানুষ। কিন্তু ত্বক বিশেষজ্ঞদের মতে, সামান্য অসতর্কতায় এই ‘ঘরোয়া টোটকা’ ত্বকের জন্য ভয়ানক ক্ষতির কারণ হয়ে উঠতে পারে।
কেন দারচিনি ব্রণের জন্য জনপ্রিয়?
দারচিনিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি ও অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল উপাদান। এই গুণগুলিই ব্রণ সৃষ্টিকারী ব্যাক্টেরিয়া ধ্বংস করতে সাহায্য করে। পাশাপাশি দারচিনি ত্বকের কোলাজেন উৎপাদনেও সহায়ক, যার ফলে বলিরেখা পড়তে দেরি হয়।
সমস্যার মূল কোথায়?
ত্বক বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, দারচিনিতে থাকা সিনাম্যালডিহাইড নামক উপাদান স্পর্শকাতর ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। সরাসরি মুখে দারচিনি ব্যবহার করলে ত্বকে জ্বালাপোড়া, লালচে ভাব এমনকি পোড়া দাগও পড়তে পারে।
দারচিনির পিএইচ ত্বকের শত্রু
দারচিনির পিএইচ মাত্রা খুব বেশি। ফলে এটি ত্বকের স্বাভাবিক অ্যাসিডিক ব্যারিয়ার নষ্ট করে দেয়। এর ফলে ত্বকের আর্দ্রতা কমে যায়, শুষ্কতা বাড়ে এবং সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যায়।
এক্সফোলিয়েন্ট হিসেবে দারচিনি? সাবধান!
অনেকে দারচিনিকে প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েন্ট হিসেবে ব্যবহার করেন। কিন্তু যাঁদের ত্বক শুষ্ক, তাঁদের ক্ষেত্রে এই মশলা ত্বক আরও খসখসে ও সংবেদনশীল করে তোলে। সঠিক মাত্রায় ক্যারিয়ার অয়েলের সঙ্গে না মেশালে উপকারের বদলে ক্ষতিই বেশি হয়।
লেবু বা অ্যাপল সাইডার ভিনিগারের সঙ্গে মিশ্রণ মারাত্মক
তেলতেলে ত্বকের ক্ষেত্রে দারচিনির সঙ্গে লেবুর রস বা অ্যাপল সাইডার ভিনিগার মিশিয়ে ব্যবহার করেন অনেকেই। চিকিৎসকদের মতে, এই মিশ্রণ ত্বকের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। এর ফলে ত্বকে তীব্র জ্বালা, ফটোসেন্সিটিভিটি বেড়ে যাওয়া এবং স্থায়ী দাগ পড়ার আশঙ্কা থাকে।
ব্রণ কমাতে দারচিনির ফেসপ্যাক ব্যবহার করছেন অনেকেই। অ্যান্টি-ব্যাক্টেরিয়াল গুণ থাকলেও ভুলভাবে ব্যবহার করলে দারচিনি ত্বকের মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। বিশেষ করে স্পর্শকাতর ত্বকে জ্বালা, পোড়া দাগ ও রঙ বদলের ঝুঁকি রয়েছে।













