শীত পড়তেই ত্বকে টান, ফাটা ভাব আর শুষ্কতার সমস্যা শুরু হয়। এই সময় বাজার ভরে যায় নানা দামি ক্রিম, ময়শ্চারাইজার আর লোশনে। কিন্তু আয়ুর্বেদ বলছে, এই সব রাসায়নিক পণ্যের বদলে ভরসা রাখা যায় ঘরের চেনা উপাদান—নারকেল তেলের উপরেই।
আয়ুর্বেদ কী বলছে নারকেল তেল নিয়ে?
আয়ুর্বেদিক চিকিৎসক ডা. কুসুম পান্ডের মতে, নারকেল তেল প্রকৃতিগতভাবেই শীতল ও পুষ্টিকর। এতে থাকা প্রাকৃতিক ফ্যাটি অ্যাসিড ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ত্বকের ভেতরের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং শীতের রুক্ষতা থেকে ত্বককে রক্ষা করে।
শীতে ত্বক কেন বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়?
ঠান্ডা বাতাস, কম আর্দ্রতা ও গরম জল ব্যবহারের ফলে ত্বকের প্রাকৃতিক তেল নষ্ট হয়ে যায়। ফলে ত্বক হয়ে পড়ে শুষ্ক, ফাটা ও নিষ্প্রাণ। এই অবস্থায় নারকেল তেল ত্বকের উপর একটি প্রাকৃতিক প্রোটেক্টিভ লেয়ার তৈরি করে।
কীভাবে ব্যবহার করবেন নারকেল তেল?
স্নানের পর হালকা গরম নারকেল তেল শরীরে মাখলে ত্বক দীর্ঘক্ষণ নরম থাকে
রাতে ঘুমানোর আগে মুখে হালকা ম্যাসাজ করলে সকালে ত্বক দেখাবে সতেজ ও উজ্জ্বল
খুব বেশি শুষ্ক ত্বকের ক্ষেত্রে নারকেল তেলের সঙ্গে সামান্য মধু মিশিয়ে ব্যবহার করলে মিলবে বাড়তি পুষ্টি
দাগছোপ কমাতে নারকেল তেলের ভূমিকা
নারকেল তেল ত্বকের কোষগুলিকে সক্রিয় করে এবং ধীরে ধীরে ত্বকের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামত করতে সাহায্য করে। নিয়মিত ব্যবহারে হালকা দাগছোপ কমে এবং ত্বক হয় মসৃণ ও সমান টোনের।
ঠোঁট, হাত-পায়ের যত্নেও কার্যকর
নারকেল তেল শুধু মুখের জন্য নয়—
ফাটা ঠোঁটে দিনে দু’বার লাগালে দ্রুত আরাম
রাতে হাত ও পায়ের গোড়ালিতে তেল মেখে মোজা পরলে ফাটা গোড়ালি সেরে যায়
কনুই ও হাঁটুর কালচে ভাবেও উপকারী
কারা সাবধান থাকবেন?
যাদের ত্বক খুব বেশি তেলতেলে বা ব্রণ-প্রবণ, তারা মুখে লাগানোর আগে অবশ্যই প্যাচ টেস্ট করুন। অতিরিক্ত তেল ব্যবহার এড়িয়ে চলাই ভাল।
শীত এলেই ত্বক শুষ্ক, রুক্ষ আর প্রাণহীন হয়ে পড়ে। কিন্তু ত্বকের যত্নে হাজার হাজার টাকা খরচ করার দরকার নেই। নিয়ম মেনে ব্যবহার করলে সাধারণ নারকেল তেলেই ফিরতে পারে ত্বকের স্বাভাবিক জেল্লা ও আর্দ্রতা।













