বড়দিন মানেই উৎসবের রোশনাই, আর এবছর তার সঙ্গে যোগ হল কনকনে শীতের বাড়তি আমেজ। ২০২৫ সালের বড়দিনে কার্যত শিরশিরে ঠান্ডায় কাঁপছে গোটা বাংলা। দক্ষিণবঙ্গ থেকে উত্তরবঙ্গ—সব জায়গাতেই শীতের দাপট। ৯ বছর পর শহর কলকাতায় রেকর্ড ঠান্ডা বড়দিন উপহার দিল আবহাওয়া।
৯ বছর পর শীতল বড়দিন কলকাতায়
আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ৯ বছরে দ্বিতীয়বার বড়দিনে কলকাতার তাপমাত্রা নেমে এল ১৩ ডিগ্রির ঘরে। বৃহস্পতিবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল ১৩.৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর আগে ২০১৬ সালে বড়দিনে কলকাতার তাপমাত্রা ছিল ১৩.৪ ডিগ্রি। সঙ্গে সকালের দিকে কুয়াশার চাদর শহরের ঠান্ডাকে আরও বাড়িয়ে দেয়।
পশ্চিমের জেলায় এক অঙ্কে পারদ
শুধু কলকাতা নয়, দক্ষিণবঙ্গের পশ্চিমের জেলাগুলিতেও শীতের দাপট নজরকাড়া। পুরুলিয়ায় তাপমাত্রা নেমে এসেছে ৯.৮ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। বাঁকুড়া, ঝাড়গ্রাম-সহ একাধিক জেলাতেও রাতের তাপমাত্রা দ্রুত কমছে, ফলে জাঁকিয়ে শীতের আমেজ স্পষ্ট।
উত্তরবঙ্গে তীব্র শীত, দার্জিলিঙে ৩ ডিগ্রি
উত্তরবঙ্গে শীতের প্রকোপ আরও তীব্র। পাহাড়ি শহর দার্জিলিঙে পারদ নেমেছে ৩.২ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। পার্বত্য অঞ্চল ও ডুয়ার্সের বিভিন্ন জায়গায় হাড়কাঁপানো ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। বড়দিনে পর্যটকদের কাছে এই ঠান্ডা একদিকে আনন্দের হলেও, স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য তা বেশ কষ্টকর।
কুয়াশার দাপট বাড়বে, দৃশ্যমানতা কমার আশঙ্কা
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে কুয়াশার প্রভাব বাড়তে পারে। উত্তরবঙ্গের পার্বত্য এলাকা, ডুয়ার্স অঞ্চল, পশ্চিমের জেলা ও উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে সকালের দিকে দৃশ্যমানতা কমতে পারে। যান চলাচলেও সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কবে স্বস্তি? তাপমাত্রা বাড়ার ইঙ্গিত
তবে এই ঠান্ডা বেশিদিন স্থায়ী হবে না বলেই পূর্বাভাস আলিপুর আবহাওয়া দপ্তরের। শনিবার থেকেই ধীরে ধীরে তাপমাত্রা বাড়তে শুরু করবে। যদিও রাত ও ভোরের দিকে শীতের আমেজ আরও কয়েকদিন বজায় থাকবে।
দীর্ঘ ৯ বছর পর কলকাতা পেল শীতলতম বড়দিনের স্বাদ। এই মরশুমে প্রথমবার শহরের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা নামল ১৩ ডিগ্রিতে। পশ্চিমের জেলাগুলিতে এক অঙ্কের ঘরে পারদ, আর দার্জিলিঙে তাপমাত্রা নেমে গেল ৩ ডিগ্রির কাছাকাছি।











