করোনায় মৃত বেসরকারি চিকিৎসকরাও পাবেন ৫০ লক্ষের বিমা, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

করোনা কালে পরিষেবারত অবস্থায় মৃত বেসরকারি চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের পরিবার প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনায় ৫০ লক্ষ বিমা পাবেন—কেন্দ্রকে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।

করোনা অতিমারীতে প্রাণ হারানো বেসরকারি চিকিৎসকরাও সরকারি চিকিৎসকদের মতোই ‘ফ্রন্টলাইন ওয়ারিয়র’—এই ঐতিহাসিক স্বীকৃতি দিল সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালতের নির্দেশ, কোভিড কালে স্বাস্থ্য পরিষেবায় যুক্ত অবস্থায় কোনও বেসরকারি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হলে, তাঁদের পরিবার কেন্দ্রীয় বিমা প্রকল্পের আওতায় ৫০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ পাবে।

ফ্রন্টলাইন যোদ্ধার সংজ্ঞা শুধু সরকারি কর্মীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়

বিচারপতি পিএস নরসিমহা ও বিচারপতি আর মহাদেবনের বেঞ্চ জানায়, করোনা মোকাবিলায় ঘোষিত বিমা প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল বিপদের সময়ে সামনের সারিতে থাকা মানুষদের পাশে দাঁড়ানো। সেই কারণে ‘ফ্রন্টলাইন ওয়ারিয়র’ শব্দটির ব্যাখ্যা কেবল সরকারি চাকরির গণ্ডিতে আটকে থাকতে পারে না।

করোনায় মৃত বেসরকারি চিকিৎসকরাও পাবেন ৫০ লক্ষের বিমা, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

মহারাষ্ট্রের চিকিৎসকের মৃত্যু থেকেই মামলার সূত্রপাত

এই মামলার সূত্রপাত হয় মহারাষ্ট্রের নবি মুম্বইয়ের চিকিৎসক ভাস্কর সুরগড়ের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে। ২০২০ সালের লকডাউনের সময় স্থানীয় পুরসভা তাঁর বেসরকারি ক্লিনিক খোলা রাখার নির্দেশ দেয়। অভিযোগ, সেই সময় কোভিডে আক্রান্ত হয়ে তাঁর মৃত্যু হলেও, বেসরকারি চিকিৎসক হওয়ায় বিমার দাবি খারিজ করা হয়।

রিকুইজিশনের কাগজ না থাকাই বিমা বাতিলের কারণ হতে পারে না

বিমা সংস্থা ও পুরসভার দাবি ছিল, সুরগড়ের পরিষেবা আনুষ্ঠানিক ভাবে ‘রিকুইজিশন’ করা হয়নি। প্রথমে বম্বে হাইকোর্টও সেই যুক্তি মেনে নেয়। তবে সুপ্রিম কোর্ট জানিয়ে দেয়, অতিমারীর মতো পরিস্থিতিতে প্রত্যেক চিকিৎসকের জন্য আলাদা নিয়োগপত্র বা নির্দেশ জারি করা বাস্তবসম্মত নয়।

করোনায় মৃত বেসরকারি চিকিৎসকরাও পাবেন ৫০ লক্ষের বিমা, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের

আইন অনুযায়ী বেসরকারি চিকিৎসকরাও কার্যত অধিগৃহীত পরিষেবার অংশ

আদালত উল্লেখ করে, ১৮৯৭ সালের এপিডেমিক ডিজিজেস অ্যাক্ট ও ২০২০ সালের কোভিড বিধি অনুযায়ী জেলা প্রশাসন প্রয়োজনে যে কোনও ব্যক্তির পরিষেবা গ্রহণ করতে পারে। সেই আইনি কাঠামোর মধ্যেই বেসরকারি চিকিৎসকরাও বাধ্যতামূলক ভাবে কোভিড পরিষেবায় যুক্ত ছিলেন।

পরিসংখ্যানে ধরা পড়ে চিকিৎসকদের আত্মত্যাগ

ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, করোনার প্রথম ঢেউয়ে ৭৪৮ জন এবং দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রায় ৮০০ জন চিকিৎসক কোভিডে প্রাণ হারান। আদালতের পর্যবেক্ষণ—এই আত্মত্যাগের স্বীকৃতিতেই বিমা প্রকল্প চালু হয়েছিল, যেখানে সরকারি-বেসরকারি বিভাজন কাম্য নয়।

করোনায় মৃত বেসরকারি চিকিৎসকরাও পাবেন ৫০ লক্ষের বিমা, ঐতিহাসিক রায় সুপ্রিম কোর্টের
করোনা কালে রোগী পরিষেবায় যুক্ত অবস্থায় কোনও বেসরকারি চিকিৎসক বা স্বাস্থ্যকর্মীর মৃত্যু হলে, তাঁর পরিবারও প্রধানমন্ত্রী গরিব কল্যাণ যোজনা বিমার ৫০ লক্ষ টাকা পাওয়ার অধিকারী—এমনই গুরুত্বপূর্ণ রায় দিল সুপ্রিম কোর্ট। কেন্দ্রকে দ্রুত পদক্ষেপের নির্দেশ।

Leave a comment