বঙ্গোপসাগরে তৈরি ঘূর্ণিঝড় অর্ণবকে ঘিরে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়া নিয়ে তৈরি হয়েছিল কৌতূহল। কিন্তু ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব প্রত্যাশার তুলনায় কম থাকায় স্বস্তি মিলেছে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় শীতের আগমনের অপেক্ষা আরও দীর্ঘ হচ্ছে। আগামীকাল, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর কোন কোন জেলায় বৃষ্টি হতে পারে? ঘূর্ণিঝড়টি কোন দিকে এগোবে? আর কবে থেকে বাংলায় জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা? আবহাওয়া দফতরের উদ্ধৃত পূর্বাভাসে মিলেছে সেই সংক্রান্ত তথ্য।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের পরবর্তী গতিপথ কী?
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের আঞ্চলিক অধিকর্তা হাবিবুর রহমান বিশ্বাসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড় অর্ণব অন্ধ্রপ্রদেশ উপকূল অতিক্রম করার পর উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে। পরবর্তী কয়েক ঘণ্টায় শক্তি হারিয়ে ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হতে পারে। আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও শক্তিক্ষয় করে ছত্তিশগড়ের দিকে এগিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব পশ্চিমবঙ্গে কতটা থাকবে, তা নিয়ে নজর রাখছে আবহাওয়া দফতর। আপাতত রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনাই পূর্বাভাসে গুরুত্ব পাচ্ছে।
দক্ষিণবঙ্গের কোন কোন জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা?
আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি হতে পারে। দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব মেদিনীপুর এবং ঝাড়গ্রামে ভারী বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা জানানো হয়েছে।এ ছাড়াও বাঁকুড়া, পুরুলিয়া এবং পূর্ব বর্ধমান জেলায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। ফলে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাব কমতে শুরু করলেও দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া এখনই সম্পূর্ণ শুষ্ক হয়ে যাবে, এমনটা বলা যাচ্ছে না।
উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস
দক্ষিণবঙ্গের পাশাপাশি উত্তরবঙ্গের আবহাওয়াতেও পরিবর্তন হতে পারে। মালদা ও দিনাজপুরে হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।অন্যদিকে, দার্জিলিং, কালিম্পং, জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার এবং কোচবিহারেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। কয়েকটি এলাকায় মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি হতে পারে। অন্যান্য জেলায় আকাশ মেঘলা থাকার পাশাপাশি বিক্ষিপ্ত বৃষ্টির সম্ভাবনাও রয়েছে।
লক্ষ্মীপুজোর পর কেন বাড়ল তাপমাত্রা?
লক্ষ্মীপুজোর সময় পশ্চিমবঙ্গের বেশ কয়েকটি জেলায় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে গিয়েছিল। সেই পরিস্থিতিতে অনেকেই ভেবেছিলেন, এবার হয়তো দ্রুত শীতের আমেজ অনুভূত হবে। কিন্তু পরবর্তী সময়ে তাপমাত্রা বেড়ে যাওয়ায় সেই সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে।আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে বাতাসের গতিপ্রকৃতি ও আর্দ্রতার সম্পর্ক রয়েছে। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে এই পরিস্থিতিতে বদল আসতে পারে। তবে আগামী দিনে তাপমাত্রা কতটা কমবে বা বাড়বে, তা নির্ভর করবে পরবর্তী আবহাওয়াগত পরিস্থিতির উপর।
কবে থেকে বাংলায় জাঁকিয়ে শীত পড়বে?
এখনই পশ্চিমবঙ্গে জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা নেই বলেই আবহাওয়া দফতরের উদ্ধৃত পূর্বাভাসে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে। আপাতত চলছে হেমন্তের মরশুম। ঋতুর স্বাভাবিক গতিপ্রকৃতি অনুযায়ী, ডিসেম্বরের দিকে শীতের প্রকোপ বাড়তে পারে।তার আগে রাতের তাপমাত্রায় ওঠানামা এবং ভোরের দিকে হালকা ঠান্ডা অনুভূত হতে পারে। তবে ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাব শেষ হলেই দ্রুত শীত পড়বে, এমন কোনও নিশ্চয়তা নেই।
ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের প্রভাবে পশ্চিমবঙ্গের আবহাওয়ায় পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। লক্ষ্মীপুজোর সময় তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নামলেও পরবর্তী সময়ে পারদ বেড়েছে। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ ঘণ্টায় দক্ষিণবঙ্গের একাধিক জেলায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। উত্তরবঙ্গেও বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। তবে এখনই জাঁকিয়ে শীত পড়ার সম্ভাবনা নেই। কবে থেকে শীতের আমেজ বাড়বে, জেনে নিন বিস্তারিত।











