বাঙালির হেঁশেলে ডাল এমন একটি খাবার, যা প্রায় প্রতিদিনের রান্নার তালিকায় থাকে। ভাতের সঙ্গে পাতলা মসুর ডাল হোক কিংবা ছোলার ডালের ঘন তরকারি—ডাল ঠিকমতো সিদ্ধ না হলে স্বাদটাই মাটি। আবার বেশি সিদ্ধ হয়ে গেলে ডালের নিজস্ব গঠন ও স্বাদও নষ্ট হতে পারে। তাই ডালের ধরন অনুযায়ী সঠিক পরিমাণ জল, ভিজিয়ে রাখার সময় এবং প্রেশার কুকারে সিটির হিসাব জানা জরুরি। এক নজরে জেনে নিন কোন ডাল কীভাবে সিদ্ধ করলে মিলবে কাঙ্ক্ষিত ফল।
অড়হর ডাল: ৩-৪ সিটিতেই নরম
অড়হর বা তুর ডাল রান্নার আগে ভালো করে ধুয়ে ১৫-২০ মিনিট ভিজিয়ে রাখলে দ্রুত সিদ্ধ হয়। এক কাপ ডালের জন্য প্রায় ৩ কাপ জল ব্যবহার করতে পারেন। প্রেশার কুকারে সাধারণত ৩-৪টি সিটি দিলেই ডাল নরম হয়ে যায়। রান্নার সময় আনুমানিক ১০-১৫ মিনিট লাগতে পারে।পাতলা ডাল পছন্দ হলে রান্নার সময় জল কিছুটা বাড়িয়ে নিতে পারেন। আবার ঘন ডালের জন্য জলের পরিমাণ সামান্য কম রাখা যায়।
মসুর ডাল: কম সময়েই হয়ে যায় সিদ্ধ
মসুর ডাল তুলনামূলক দ্রুত সিদ্ধ হয়। তাই রান্নার আগে দীর্ঘ সময় ভিজিয়ে রাখার প্রয়োজন সাধারণত হয় না। এক কাপ মসুর ডালের জন্য ২.৫-৩ কাপ জল দিতে পারেন।প্রেশার কুকারে ১-২টি সিটিতেই সাধারণত ডাল নরম হয়ে যায়। রান্নার সময় প্রায় ৮-১০ মিনিটের মধ্যে হতে পারে। বেশি সিটি দিলে ডাল অতিরিক্ত গলে যেতে পারে, তাই রান্নার সময় নজর রাখা ভালো।
মুগ ডাল: হালকা রান্নায় ২ সিটিই যথেষ্ট
হলুদ মুগ ডাল বা ধোয়া মুগ ডাল দ্রুত সিদ্ধ হয় এবং তুলনামূলক হালকা খাবার হিসেবে জনপ্রিয়। এক কাপ ডালের সঙ্গে প্রায় ৩ কাপ জল দিয়ে রান্না করা যেতে পারে।প্রেশার কুকারে ২টি সিটি এবং আনুমানিক ৭-১০ মিনিট রান্নার পর সাধারণত ভালোভাবে সিদ্ধ হয়ে যায়। খিচুড়ি বা শিশুদের জন্য রান্না করলে আরও কিছুটা নরম করে নেওয়া যেতে পারে।
বিউলির ডাল: আগে ভিজিয়ে রাখলে সুবিধা
বিউলির গোটা ডাল তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় রান্নার আগে ৪-৬ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে ভালো ফল পাওয়া যায়। এক কাপ ডালের জন্য প্রায় ৩-৪ কাপ জল প্রয়োজন হতে পারে।প্রেশার কুকারে সাধারণত ৫-৬টি সিটি এবং প্রায় ২০-২৫ মিনিট রান্নার সময় লাগতে পারে। ভালোভাবে সিদ্ধ হলে এই ডাল দিয়ে ঘন ও মসৃণ পদ তৈরি করা সহজ হয়।
ছোলার ডাল: ভিজিয়ে রাখুন, তারপর ৪-৫ সিটি
ছোলার ডাল রান্নার আগে অন্তত ১-২ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখলে সিদ্ধ হতে তুলনামূলক কম সময় লাগে। এক কাপ ডালের জন্য প্রায় ৩ কাপ জল ব্যবহার করা যেতে পারে।প্রেশার কুকারে ৪-৫টি সিটি এবং আনুমানিক ১৫-২০ মিনিট রান্নার পর ডাল নরম হওয়ার কথা। তবে ডালের বয়স ও ভেজানোর সময় অনুযায়ী রান্নার সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
রাজমা: সারারাত ভিজিয়ে রাখাই ভালো
রাজমা ডাল না হলেও ডালের মতোই বিভিন্ন রান্নায় ব্যবহৃত হয় এবং এটি সিদ্ধ হতে তুলনামূলক বেশি সময় নেয়। রান্নার আগে রাজমা সারারাত জলে ভিজিয়ে রাখা ভালো।এক কাপ রাজমার জন্য প্রায় ৪ কাপ জল ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রেশার কুকারে ৭-৮টি সিটি এবং আনুমানিক ২৫-৩০ মিনিট সময় লাগতে পারে। রাজমা রান্নার ক্ষেত্রে ভালোভাবে নরম হয়েছে কি না, তা খাওয়ার আগে অবশ্যই পরীক্ষা করে নিন।
ডাল রান্নার সময় এই টিপসগুলি মাথায় রাখুন
ডাল রান্নার আগে ভালোভাবে ধুয়ে নিলে ধুলো-ময়লা দূর হয় এবং রান্নার ফলও ভালো হয়। পুরনো ডাল হলে নতুন ডালের তুলনায় সিদ্ধ হতে বেশি সময় লাগতে পারে।প্রেশার কুকারে রান্নার পর সম্ভব হলে চাপ স্বাভাবিকভাবে বের হতে দিন। রান্নার শুরুতেই অতিরিক্ত টক উপাদান যেমন তেঁতুল বা টম্যাটো বেশি পরিমাণে দিলে কিছু ডাল নরম হতে বেশি সময় নিতে পারে। তাই টক উপাদান অনেক সময় ডাল নরম হওয়ার পর যোগ করাই সুবিধাজনক।
এক নজরে ডাল সিদ্ধ করার হিসাব
অড়হর ডাল: ১ কাপ ডালে ৩ কাপ জল | ৩-৪ সিটি | ১০-১৫ মিনিট
মসুর ডাল: ১ কাপ ডালে ২.৫-৩ কাপ জল | ১-২ সিটি | ৮-১০ মিনিট
মুগ ডাল: ১ কাপ ডালে ৩ কাপ জল | ২ সিটি | ৭-১০ মিনিট
বিউলির ডাল: ১ কাপ ডালে ৩-৪ কাপ জল | ৫-৬ সিটি | ২০-২৫ মিনিট
ছোলার ডাল: ১ কাপ ডালে ৩ কাপ জল | ৪-৫ সিটি | ১৫-২০ মিনিট
রাজমা: ১ কাপ রাজমায় ৪ কাপ জল | ৭-৮ সিটি | ২৫-৩০ মিনিট
ডাল রান্না করতে গিয়ে কখনও বেশি গলে যায়, আবার কখনও শক্ত থেকে যায়? আসলে প্রতিটি ডালের জন্য রান্নার সময়, জলের পরিমাণ এবং প্রেশার কুকারে সিটির সংখ্যা এক নয়। অড়হর, মসুর, মুগ, বিউলি, ছোলার ডাল থেকে রাজমা—কোনটিতে কতটা জল দেবেন এবং কতক্ষণ রান্না করবেন, জেনে নিন সহজ নিয়ম।













