গরমের ছুটিতে মেঘে মোড়া দার্জিলিং এখন পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের গন্তব্য। কিন্তু সেই ভিড়ই এবার সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে পাহাড়বাসীদের কাছে। ঘুম থেকে দার্জিলিংয়ের অল্প দূরত্ব পেরোতেই লেগে যাচ্ছে দীর্ঘ সময়। সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন স্কুল ও কলেজগামী ছাত্রছাত্রীরা। এই পরিস্থিতিতে পড়ুয়াদের সুবিধার জন্য নতুন উদ্যোগ নিল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে।
![]()
পর্যটকের ভিড়ে কার্যত থমকে পাহাড়ের রাস্তা
গরমের মরশুমে দার্জিলিং পাহাড়ে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। পাহাড়ি আবহাওয়া, টয়ট্রেনের নস্টালজিয়া ও মেঘে ঢাকা রাস্তার টানে প্রতিদিনই বাড়ছে পর্যটকের সংখ্যা। কিন্তু সেই অতিরিক্ত চাপেই ভয়াবহ যানজট তৈরি হচ্ছে ঘুম-দার্জিলিং রুটে। স্থানীয়দের অভিযোগ, মাত্র কয়েক কিলোমিটার পথ অতিক্রম করতেই কখনও কখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যাচ্ছে।
পড়ুয়াদের যাতায়াতে বড় সমস্যা
সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়ছেন স্কুল ও কলেজের ছাত্রছাত্রীরা। সকালবেলার যানজটের কারণে বহু পড়ুয়া সময়মতো স্কুলে পৌঁছতে পারছেন না। বিকেলের দিকেও একই অবস্থা। ট্যাক্সির জন্য দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা এবং পর্যটকদের ভিড়ে চরম দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে স্থানীয় পরিবারগুলিকে।
![]()
স্বস্তি দিতে বিশেষ টয়ট্রেন পরিষেবা
এই পরিস্থিতিতেই বড় সিদ্ধান্ত নিল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে। আগামী সপ্তাহ থেকেই পরীক্ষামূলকভাবে ঘুম থেকে দার্জিলিং রুটে চালু হচ্ছে বিশেষ টয়ট্রেন পরিষেবা। এই ট্রেন মূলত স্কুল ও কলেজ পড়ুয়াদের নিয়মিত যাতায়াতের কথা মাথায় রেখেই চালু করা হচ্ছে।
কখন চলবে ট্রেন?
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, প্রতিদিন সকাল ৬টা ১৫ মিনিটে ঘুম স্টেশন থেকে দার্জিলিংয়ের উদ্দেশে ট্রেন ছাড়বে। আবার বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে দার্জিলিং থেকে ঘুমের উদ্দেশে ফিরতি পরিষেবা চালানো হবে। ফলে স্কুল ছুটির পর বাড়ি ফেরার ক্ষেত্রেও অনেকটা সুবিধা হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সুলভ ভাড়ায় নিরাপদ যাতায়াত
ডিএইচআর সূত্রে খবর, পরিষেবার ভাড়া সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যেই রাখা হবে। পাহাড়ের আঁকাবাঁকা রাস্তা ও যানজটের মধ্যে নিরাপদ এবং সময়নিষ্ঠ পরিবহণ গড়ে তুলতেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে পর্যটনের মরশুমে অধিকাংশ গাড়ি পর্যটকদের জন্য ব্যস্ত থাকায় স্থানীয় পড়ুয়াদের যাতায়াতে যে সমস্যা তৈরি হয়, তা অনেকটাই কমতে পারে এই পরিষেবার মাধ্যমে।
![]()
প্রশাসনের অনুরোধেই এই উদ্যোগ
ডিএইচআর ডিরেক্টর ঋষভ চৌধুরী জানিয়েছেন, জেলা প্রশাসন ও জিটিএ-র অনুরোধেই এই বিশেষ পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘ যানজটের কারণে পড়ুয়াদের সমস্যা বাড়ছিল। তাই সকাল ও বিকেলের নির্দিষ্ট সময়ে ট্রেন চালিয়ে সেই সমস্যার সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের স্বাগত নতুন উদ্যোগকে
পাহাড়বাসীদের একাংশের মতে, দার্জিলিংয়ে বিকল্প পরিবহণ ব্যবস্থার অভাব দীর্ঘদিনের সমস্যা। সেই জায়গা থেকে এই বিশেষ টয়ট্রেন পরিষেবা শুধুমাত্র একটি পরিবহণ ব্যবস্থা নয়, বরং পড়ুয়াদের জন্য মানবিক উদ্যোগ হিসেবেও গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয়দের আশা, এর ফলে ছাত্রছাত্রীদের পড়াশোনার উপর যানজটের প্রভাব অনেকটাই কমবে।
![]()
পর্যটকদের ভিড়ে কার্যত স্তব্ধ দার্জিলিং পাহাড়ের যান চলাচল। ঘুম থেকে দার্জিলিং পৌঁছতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যাওয়ায় সমস্যায় পড়ছেন স্কুল-কলেজের পড়ুয়ারা। সেই পরিস্থিতিতে স্বস্তি দিতে বিশেষ টয়ট্রেন পরিষেবা চালুর সিদ্ধান্ত নিল দার্জিলিং হিমালয়ান রেলওয়ে।











