স্বাস্থ্যগুণে ভরপুর খেজুর! ভেজাল থেকে বাঁচতে কীভাবে চিনবেন ভাল খেজুর? জানুন জরুরি টিপস

খেজুর পুষ্টিগুণে ভরপুর সুপারফুড। কিন্তু ভেজাল খেজুরে ঠকতে পারেন। সতেজ ও ভাল খেজুর চিনবেন কীভাবে? রইল সহজ ট্রিকস ও গুরুত্বপূর্ণ টিপস।

খেজুরের স্বাস্থ্যগুণ:

খেজুর শুধু স্বাদে নয়, পুষ্টিগুণেও অনন্য একটি সুপারফুড। প্রক্রিয়াজাত চিনি বা মিষ্টির তুলনায় অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর হওয়ায় দিন দিন এর জনপ্রিয়তা বাড়ছে। তবে বাজারে চাহিদা বাড়লেই ভেজাল মেশানোর প্রবণতাও বৃদ্ধি পায়। কলকাতা ও উপকণ্ঠে ইতিমধ্যেই নানান দোকানে মেয়াদোত্তীর্ণ বা কৃত্রিম চিনি মেশানো খেজুর বিক্রির অভিযোগ উঠছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণ কয়েকটি লক্ষণ দেখেই ভাল ও খারাপ খেজুর আলাদা করা যায়। সতর্ক থাকলে সহজেই বোঝা সম্ভব কোনটি প্রাকৃতিক খেজুর আর কোনটি ভেজাল।

পুষ্টিগুণে মহার্ঘ: কেন খেজুর সুপারফুড

খেজুরে থাকে প্রাকৃতিক চিনি, আয়রন, ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট। ফলে এটি শক্তি বাড়ায়, হজমে সাহায্য করে এবং রক্তশূন্যতা রোধেও কার্যকর। ডাক্তারদের মতে, প্রতিদিন সামান্য পরিমাণ খেজুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে। তাই স্বাস্থ্য সচেতনদের কাছে এটি বিশেষ জনপ্রিয়।বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খেজুরে থাকা ফাইবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। ফলে প্রক্রিয়াজাত চিনির বিকল্প হিসেবে এটি অনেক নিরাপদ।

চাহিদা বাড়লে বাড়ে ভেজালের প্রবণতা

বাজারে খেজুরের চাহিদা বেড়ে যেতেই শুরু হয়েছে ভেজাল ও মেয়াদোত্তীর্ণ খেজুর বিক্রি। অনেক দোকানে কৃত্রিম চিনি মিশিয়ে খেজুরকে অস্বাভাবিকভাবে মিষ্টি করে তোলা হচ্ছে। এতে শুধু স্বাদই নষ্ট হয় না, স্বাস্থ্যেরও বিরূপ প্রভাব পড়ে।বিক্রেতাদের একাংশ অভিযোগ করছেন, কিছু সরবরাহকারী কোম্পানি মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্য নতুন প্যাকেট করে বাজারে ফেরত পাঠাচ্ছে। ফলে সাধারণ ক্রেতারা বেশিরভাগ সময়ই ঠকছেন।

চামড়া দেখে ভাল খেজুর চেনার সহজ উপায়

তাজা খেজুরের চামড়া সাধারণত সামান্য কোঁচকানো হয়, কিন্তু কখনোই শক্ত নয়। আবার খুব নরমও নয়। খেজুরের গায়ে হালকা ময়েশ্চার থাকলেও তা খটখটে বা পুরো শুকনো হবে না।চকচকে ও উজ্জ্বল চামড়া মানে খেজুরটি এখনও সতেজ।খুব বেশি শক্ত হয়ে গেলে বুঝতে হবে খেজুরটি পুরনো বা শুকিয়ে গেছে।এছাড়াও, দলা পাকানো অবস্থায় অনেকগুলো খেজুর একসাথে লেগে থাকলে তা এড়িয়ে যাওয়াই ভালো। এমন অবস্থায় থাকা খেজুর বেশিরভাগ সময়ই পুরনো বা অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত।

প্যাকেটজাত খেজুর কেনা নিরাপদ, বলছেন বিক্রেতারা

বিক্রেতা হান্নান মন্ডলের মতে, খোলা খেজুর কেনা ঝুঁকিপূর্ণ। প্যাকেটজাত পণ্যে মেয়াদ উল্লেখ থাকে, ফলে ক্রেতা সহজেই যাচাই করতে পারেন খেজুরটি কতদিনের।

তিনি আরও জানান, অনেক সময় বাজারে দলাবদ্ধ বা অতিরিক্ত কালচে রঙের খেজুর পাওয়া যায়, যা অধিকাংশ ক্ষেত্রে পুরনো বা বেশি সময় সংরক্ষিত থাকে।

পিঁপড়ে থাকলে বুঝবেন ভেজাল মেশানো

প্রাকৃতিক খেজুরে মিষ্টি থাকে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায়, ফলে তা পিঁপড়েকে তেমন আকর্ষণ করে না।

যদি দেখেন খেজুরে পিঁপড়ের আক্রমণ রয়েছে, তাহলে বুঝতে হবে এতে বাড়তি চিনি মেশানো হয়েছে।

এছাড়া খেজুরের গায়ে দানাদানা চিনি বা সাদা জমাট পদার্থ থাকলে তা কেনা উচিত নয়।

স্বাদেও ধরা পড়ে ভেজাল

বিশেষজ্ঞদের মতে, খাওয়ার সময় যদি খেজুর অতিরিক্ত মিষ্টি লাগে, তবে তা প্রাকৃতিক নয়—

বরং কৃত্রিম চিনি মেশানো হয়েছে।

ভাল মানের খেজুরে মিষ্টির পরিমাণ থাকে সহনীয় ও ভারসাম্যপূর্ণ।

খেজুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ হওয়ায় বাজারে এর চাহিদা দ্রুত বাড়ছে। আর সেই সুযোগেই অনেক অসাধু ব্যবসায়ী মেয়াদোত্তীর্ণ বা ভেজাল খেজুর বিক্রি করছে। তবে কিছু সহজ উপায়ে সতেজ, তাজা ও প্রাকৃতিক খেজুর চেনা যায়। চামড়ার গঠন, রঙ, গন্ধ ও মিষ্টির মাত্রা দেখে আসল খেজুর বাছা সম্ভব।

 

 

Leave a comment