প্রচণ্ড গরমে শরীর থেকে ঘামের মাধ্যমে প্রচুর পরিমাণে জল ও ইলেক্ট্রোলাইট বেরিয়ে যায়। সেই ঘাটতি পূরণ না হলে দেখা দেয় ডিহাইড্রেশন বা জলশূন্যতা। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. জয়দীপ ঘোষের মতে, এটি সাধারণ সমস্যা মনে হলেও অবহেলা করলে গুরুতর শারীরিক জটিলতা এমনকি মৃত্যুর ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
কীভাবে হয় ডিহাইড্রেশন?
শরীরে যতটা তরল প্রবেশ করে, তার চেয়ে বেশি পরিমাণে তরল বেরিয়ে গেলে ডিহাইড্রেশন দেখা দেয়। অতিরিক্ত গরম, দীর্ঘক্ষণ রোদে থাকা, অতিরিক্ত ঘাম, বমি, ডায়রিয়া বা পর্যাপ্ত জল না খাওয়ার কারণে এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। এর ফলে শরীরের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
ডিহাইড্রেশনের সাধারণ লক্ষণ
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিহাইড্রেশনের প্রাথমিক লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে—
অতিরিক্ত তৃষ্ণা
মুখ ও ঠোঁট শুকিয়ে যাওয়া
গাঢ় হলুদ রঙের প্রস্রাব
প্রস্রাবের পরিমাণ কমে যাওয়া
মাথা ঘোরা
মাথাব্যথা
অতিরিক্ত ক্লান্তি
পেশিতে দুর্বলতা বা টান
এসব লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত শরীরে জলের ঘাটতি পূরণ করা জরুরি।
গুরুতর অবস্থায় যে বিপদ হতে পারে
ডিহাইড্রেশন তীব্র হলে হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়া, রক্তচাপ কমে যাওয়া, মানসিক বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক দুর্বলতা কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। সময়মতো চিকিৎসা না হলে এটি প্রাণঘাতীও হতে পারে।
শিশু ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা
শিশু ও প্রবীণরা ডিহাইড্রেশনের সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন। খিটখিটে মেজাজ, নিস্তেজ ভাব, শুষ্ক ত্বক, অতিরিক্ত ঘুমঘুম ভাব বা বিভ্রান্তির মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডিহাইড্রেশন এড়াতে কী করবেন?
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী—
তৃষ্ণা লাগার অপেক্ষা না করে নিয়মিত জল পান করুন।
প্রচণ্ড গরম বা শারীরিক পরিশ্রমের সময় পর্যাপ্ত তরল গ্রহণ করুন।
দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে প্রয়োজনে ইলেক্ট্রোলাইটসমৃদ্ধ পানীয় পান করতে পারেন।
অতিরিক্ত ক্যাফেইন ও অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন, কারণ এগুলো শরীর থেকে তরল দ্রুত বের করে দিতে পারে।
খাদ্যতালিকায় তরমুজ, শসা, কমলালেবু, ডাবের জল এবং জলসমৃদ্ধ ফল ও শাকসবজি রাখুন।
প্রচণ্ড গরমে শরীরে জলের ঘাটতি বা ডিহাইড্রেশন দ্রুত বিপজ্জনক রূপ নিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, পর্যাপ্ত জল ও তরল না পান করলে মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হয়ে যাওয়া এমনকি প্রাণহানির আশঙ্কাও থাকে। তাই লক্ষণ চিহ্নিত করে সময়মতো ব্যবস্থা নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।













