প্রেশার কুকার ব্লাস্টের ঝুঁকি এড়াতে আজই পরীক্ষা করুন এই ৩টি অংশ, জানুন নিরাপদ ব্যবহারের উপায়

প্রেশার কুকার বিস্ফোরণের ঝুঁকি কমাতে হুইসেল, ভেন্ট হোল ও রাবার গ্যাসকেট কীভাবে পরীক্ষা ও পরিষ্কার করবেন? নিরাপদ ব্যবহারের গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম জানুন।

আলু, ডাল, ভাত থেকে শুরু করে নানা ধরনের রান্নায় সময় বাঁচাতে প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই ব্যবহার হয় প্রেশার কুকার। তবে দীর্ঘদিন পরিষ্কার না করা বা ক্ষতিগ্রস্ত যন্ত্রাংশ ব্যবহার করলে কুকারের ভেতরে অতিরিক্ত চাপ তৈরি হতে পারে। ফলে ঘটতে পারে মারাত্মক দুর্ঘটনা। তাই নিয়মিত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ পরীক্ষা ও পরিষ্কার রাখা অত্যন্ত জরুরি।

প্রেশার কুকার ব্লাস্টের ঝুঁকি এড়াতে আজই পরীক্ষা করুন এই ৩টি অংশ, জানুন নিরাপদ ব্যবহারের উপায়
কেন প্রেশার কুকার বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ে?

প্রেশার কুকারের ভেতরে বাষ্প জমে নির্দিষ্ট চাপ তৈরি হয়, যা দ্রুত রান্না করতে সাহায্য করে। কিন্তু হুইসেল বা ভেন্ট হোল খাবারের কণা দিয়ে বন্ধ হয়ে গেলে বাষ্প বের হতে পারে।

হুইসেল বা প্রেসার ভালভ পরিষ্কার রাখুন

হুইসেলের ভেতরে খাবারের কণা জমে থাকলে বাষ্প বের হওয়ার পথ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাই প্রতিবার ব্যবহারের পর হুইসেল খুলে পরীক্ষা করুন। প্রয়োজনে পিন বা টুথপিক দিয়ে ছিদ্র পরিষ্কার করুন। আরও ভালোভাবে পরিষ্কার করতে হালকা গরম জল ও ভিনিগারের মিশ্রণে ১০ থেকে ১৫ মিনিট ভিজিয়ে রেখে পরে নরম ব্রাশ দিয়ে পরিষ্কার করতে পারেন।

প্রেশার কুকার ব্লাস্টের ঝুঁকি এড়াতে আজই পরীক্ষা করুন এই ৩টি অংশ, জানুন নিরাপদ ব্যবহারের উপায়
ভেন্ট হোল পরীক্ষা করুন

ভেন্ট হোল দিয়েই অতিরিক্ত বাষ্প বেরিয়ে যায়। এই অংশ বন্ধ হয়ে গেলে কুকারের ভেতরে চাপ দ্রুত বাড়তে পারে। তাই মাসে অন্তত এক বা দুইবার সরু পিন বা টুথপিক দিয়ে ভেন্ট হোল পরিষ্কার করা উচিত।

রাবার গ্যাসকেটের অবস্থা দেখুন

কুকারের ঢাকনা ঠিকভাবে সিল করার জন্য রাবার গ্যাসকেট অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ঢিলে, শক্ত বা ছিঁড়ে গেলে অবিলম্বে নতুন গ্যাসকেট লাগানো উচিত। ব্যবহারের পর গ্যাসকেট পরিষ্কার করে শুকিয়ে সংরক্ষণ করলে এর কার্যক্ষমতা দীর্ঘদিন বজায় থাকে।

প্রেশার কুকার ব্লাস্টের ঝুঁকি এড়াতে আজই পরীক্ষা করুন এই ৩টি অংশ, জানুন নিরাপদ ব্যবহারের উপায়
কুকার ব্যবহারের সময় আরও যেসব বিষয় মনে রাখবেন

রান্নার সময় পর্যাপ্ত পরিমাণ জল ব্যবহার করুন।

কুকার কখনও সম্পূর্ণ ভর্তি করবেন না।

সাধারণ রান্নায় কুকারের ধারণক্ষমতার দুই-তৃতীয়াংশের বেশি ভরবেন না।

ডাল, চাল, স্যুপ বা ফেনাযুক্ত খাবারের ক্ষেত্রে অর্ধেক বা তারও কম ভর্তি করা নিরাপদ।

প্রস্তুতকারকের নির্দেশিকা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় পর সেফটি ভালভ ও গ্যাসকেট পরিবর্তন করুন।

দুর্ঘটনা এড়াতে নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ জরুরি

প্রতিবার ব্যবহারের পর কুকারের ঢাকনা, হুইসেল, ভেন্ট টিউব ও গ্যাসকেট সাবান জল দিয়ে পরিষ্কার করলে খাবারের কণা জমে থাকার সম্ভাবনা কমে যায়। নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ শুধু দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমায় না, কুকারের কার্যক্ষমতাও দীর্ঘদিন বজায় রাখে।

প্রেশার কুকার ব্লাস্টের ঝুঁকি এড়াতে আজই পরীক্ষা করুন এই ৩টি অংশ, জানুন নিরাপদ ব্যবহারের উপায়
প্রেশার কুকার রান্নাঘরের অন্যতম প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম হলেও সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে তা বড় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কুকারের হুইসেল, ভেন্ট হোল এবং রাবার গ্যাসকেট নিয়মিত পরীক্ষা ও পরিষ্কার রাখলে বিস্ফোরণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

Leave a comment