দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের নর্থ ক্যাম্পাসে UGC Equity Regulations 2026 কার্যকর করার দাবিতে মঙ্গলবার বড় আকারের ছাত্র আন্দোলন হয়। শতাধিক ছাত্র রাস্তায় নেমে ‘ইকুইটি মার্চ’ বের করে এবং নিয়মগুলির ওপর জারি থাকা আদালতের স্থগিতাদেশের বিরোধিতা জানায়। আন্দোলনে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সমতা ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া শ্রেণির শিক্ষার্থীদের সুরক্ষার প্রশ্ন তুলে ধরা হয়।
ছাত্রদের দাবি, UGC Equity Regulations 2026 কেবল একটি নীতিমালা নয়, বরং উচ্চশিক্ষায় সমতা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ভিত্তি। নর্থ ক্যাম্পাসজুড়ে স্লোগান, মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচি চলতে দেখা যায়।
এই প্রতিবাদ কর্মসূচিকে ‘ইকুইটি মার্চ’ নাম দেওয়া হয়। অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন (AISA) সহ একাধিক ছাত্র সংগঠনের নেতৃত্বে এই মার্চ অনুষ্ঠিত হয়। অংশগ্রহণকারী ছাত্রছাত্রীরা সমতা, ন্যায় এবং বৈষম্যের বিরুদ্ধে বার্তাবাহী প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিল করেন। ছাত্র সংগঠনগুলির পক্ষ থেকে জানানো হয়, UGC Equity Regulations 2026 কার্যকর না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।
প্রতিবাদকারী ছাত্রদের মতে, UGC Equity Regulations 2026-এর ওপর সাম্প্রতিক আদালতের স্থগিতাদেশ তাদের আন্দোলনে বড় ধাক্কা দিয়েছে। তাদের দাবি, এই নিয়মগুলি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিভিত্তিক বৈষম্য রোধের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ ছিল। স্থগিতাদেশের পর ছাত্রদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ প্রকাশ পায়।
আন্দোলনে অংশ নেওয়া ছাত্ররা জানান, নিয়মগুলি কার্যকর না হলে তফসিলি জাতি (SC), তফসিলি উপজাতি (ST) এবং অন্যান্য পিছিয়ে পড়া শ্রেণি (OBC)-র শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নিজেদের অনিরাপদ বলে মনে করবেন। তাদের অভিযোগ, বহু উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এখনও বৈষম্য বিদ্যমান এবং কঠোর নিয়ম ছাড়া তা প্রতিরোধ করা কঠিন।

ছাত্র সংগঠনগুলির বক্তব্য, UGC Equity Regulations 2026 কেবলমাত্র প্রক্রিয়াগত নির্দেশিকা নয়। এই নিয়মগুলির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনে জবাবদিহির একটি নির্দিষ্ট কাঠামো নির্ধারণ করা হয়েছে। অভিযোগ নিষ্পত্তি, নজরদারি এবং ব্যবস্থা গ্রহণের স্পষ্ট বিধান রাখার কথাও এতে উল্লেখ রয়েছে, যাতে বৈষম্যের ঘটনায় দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায়।
প্রতিবাদকারীরা UGC Equity Regulations 2026 কার্যকর করার দাবি ‘রোহিত অ্যাক্ট’-এর চেতনার সঙ্গে যুক্ত করে তুলে ধরেন। ‘রোহিত অ্যাক্ট’ বলতে প্রস্তাবিত রোহিত ভেমুলা আইনকে বোঝানো হয়, যার লক্ষ্য উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে জাতিগত ও পরিচয়ভিত্তিক বৈষম্য রোধে একটি কেন্দ্রীয় আইন প্রণয়ন। ছাত্রদের মতে, UGC Equity Regulations 2026 সেই দিকেই একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
রোহিত ভেমুলা হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন, যিনি ২০১৬ সালে কথিত জাতিগত বৈষম্যের কারণে আত্মহত্যা করেন। তার ঘটনাটি দেশজুড়ে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বৈষম্য নিয়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। আন্দোলনরত ছাত্রদের দাবি, রোহিত ভেমুলার মৃত্যুর পর বিভিন্ন ক্যাম্পাসে যে আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তার ফল হিসেবেই UGC Equity Regulations 2026 প্রণীত হয়েছে।
দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদের বক্তব্য, এই নিয়মগুলি হঠাৎ তৈরি হয়নি। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে বছরের পর বছর ধরে চলা আন্দোলন, ধরনা ও আলোচনার পর UGC-কে এমন নিয়ম আনতে বাধ্য হতে হয়েছে। ছাত্রদের অভিযোগ, নিয়মগুলির ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে আবারও পুরনো অসম ব্যবস্থাকে বজায় রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে।
প্রতিবাদকারীরা জানান, স্থগিতাদেশের পর দুর্বল শ্রেণির শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনিরাপত্তার অনুভূতি বেড়েছে। তাদের অভিযোগ, বহু ক্ষেত্রে বৈষম্যের অভিযোগ উপেক্ষা করা হয় বা গুরুত্ব দেওয়া হয় না। UGC Equity Regulations 2026 কার্যকর হলে এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষার্থীরা সুরক্ষা পেতে পারেন।
ইকুইটি মার্চের পর অনুষ্ঠিত সমাবেশে একাধিক ছাত্রনেতা বক্তব্য রাখেন। জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদের (JNUSU) প্রাক্তন সভাপতি নিতীশ বলেন, বছরের পর বছর লড়াই ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে ছাত্ররা UGC-কে জবাবদিহিমূলক নিয়ম প্রণয়নে বাধ্য করেছিল। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এই নিয়মগুলির ওপর স্থগিতাদেশ থেকে বোঝা যায় যে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের উচ্চস্তরেও আজও জাতিবাদ গভীরভাবে বিদ্যমান।









