আর মাত্র দেড় মাস পরই শুরু হবে সমুদ্রে মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা। কিন্তু তার আগেই মাছের আকাল স্পষ্ট Digha মোহনায়। ট্রলার মালিক থেকে শ্রমিক—সবাই পড়েছেন আর্থিক চাপে। বাজারে সামুদ্রিক মাছ প্রায় উধাও, ভাগ্য ভাল হলে মাঝে মধ্যে মিলছে ছোট সাইজের ইলিশ।
ব্যান পিরিয়ডের আগেই ভাটা মাছ ধরায়
আগামী ১৫ এপ্রিল থেকে সমুদ্রে মাছ ধরার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি হবে। তার আগে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত অনুমতি থাকলেও ফেব্রুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহ থেকেই পরিস্থিতি খারাপ হতে শুরু করেছে। জেলার নথিভুক্ত প্রায় ৯০ শতাংশ ট্রলার এখন বিভিন্ন মৎস্য বন্দরে দাঁড়িয়ে।মৎস্যজীবীদের দাবি, মাছ না থাকলে সমুদ্রে যাওয়া মানেই লোকসান—তাই ঝুঁকি নিতে চাইছেন না অনেকেই।
ট্রিপে খরচ সাড়ে ৩ লক্ষের বেশি
একবার গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে গেলে ডিজেল, বরফ, খাদ্য ও শ্রমিকদের পারিশ্রমিক মিলিয়ে প্রায় ৩ লক্ষ ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতি বছর সেই খরচ ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা করে বাড়ছে।কিন্তু মাছ না উঠলে সেই টাকা ওঠানো দুষ্কর। ফলে মরশুম শেষ হওয়ার প্রায় দু’মাস আগেই অধিকাংশ ট্রলার সমুদ্রে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে।
বাজারে শুধু ইলিশের ঝলক, তাও অনিয়মিত
বর্তমানে ৪০০ থেকে ৫০০ গ্রাম ওজনের ইলিশ কেজি প্রতি ৫০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে এই ইলিশ স্থানীয় নয়, আসছে Odisha উপকূল থেকে।সরবরাহ সীমিত হওয়ায় চাহিদা মেটানো যাচ্ছে না। সামুদ্রিক অন্যান্য মাছের প্রায় দেখা নেই বললেই চলে। ফলে আড়ত থেকে খুচরো বাজার—সব জায়গাতেই আকাল স্পষ্ট।
উপকূলবর্তী বাজারেও প্রভাব
কাঁথি, রামনগর, এগরা ও পটাশপুরের মতো উপকূলবর্তী বাজারেও সামুদ্রিক মাছের অভাব দেখা দিয়েছে। পূর্ব ভারতের অন্যতম বৃহৎ সামুদ্রিক মাছের আড়ত হিসেবে পরিচিত Digha Mohana-তেও সংকটের প্রভাব স্পষ্ট।বর্তমানে প্রতিদিন প্রায় ১০০ থেকে ১৫০ মেট্রিক টন মাছ বাইরে থেকে আমদানি করতে হচ্ছে। চলতি মাসের তৃতীয় সপ্তাহে মাত্র ১০ শতাংশ ট্রলার মাছ ধরতে গিয়েছে বলে জানা গিয়েছে।
পূর্ব মেদিনীপুরের Digha উপকূলে সামুদ্রিক মাছের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে ব্যান পিরিয়ড শুরুর আগেই। অধিকাংশ ট্রলার সমুদ্রে না যাওয়ায় বাজারে মাছের সরবরাহ কমে গিয়েছে। মাঝে মধ্যে Odisha উপকূল থেকে ইলিশ এলেও তা নিয়মিত নয়। ফলে ক্ষতির মুখে মৎস্যজীবী ও মাছ ব্যবসায়ীরা।











