আর লাইনে দাঁড়ানো নয়, কাগজপত্রের ঝামেলাও নয়! এবার জনগণনার কাজ হবে পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতিতে। ভারত সরকারের নতুন Digital Census উদ্যোগে দেশের নাগরিকরা নিজেরাই অনলাইনে জনগণনার তথ্য জমা দিতে পারবেন। ৭ মে থেকে শুরু হওয়া এই Self Enumeration প্রক্রিয়া চলবে ২১ মে পর্যন্ত। শুধু একটি মোবাইল ফোন থাকলেই কয়েক মিনিটে সম্পূর্ণ করা যাবে রেজিস্ট্রেশন।
ডিজিটাল জনগণনা কী?
ভারতের জনগণনা প্রক্রিয়ায় এবার বড় পরিবর্তন আনল কেন্দ্র সরকার। এতদিন বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাগজে তথ্য সংগ্রহ করতেন জনগণনা কর্মীরা। এবার সেই ব্যবস্থাই হচ্ছে ডিজিটাল ও পেপারলেস।নতুন ব্যবস্থায় নাগরিকরা নিজেরাই সরকারি পোর্টালে লগইন করে পরিবারের সদস্য সংখ্যা, বাড়ির তথ্য এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য জমা দিতে পারবেন। সরকারের দাবি, এতে সময় যেমন বাঁচবে, তেমনই তথ্য সংরক্ষণও হবে আরও নিরাপদ ও নির্ভুল।
প্রথম ধাপেই করতে হবে রেজিস্ট্রেশন
ডিজিটাল জনগণনা করতে প্রথমে সরকারি পোর্টালে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। সেখানে নিজের রাজ্য বা কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল নির্বাচন করতে হবে। এরপর ক্যাপচা পূরণ করে পরিবারের প্রধানের নাম, মোবাইল নম্বর এবং ই-মেল আইডি দিতে হবে।তবে একটি বিষয় বিশেষভাবে মনে রাখতে হবে—একটি মোবাইল নম্বর শুধুমাত্র একটি পরিবারের জন্যই ব্যবহার করা যাবে। পাশাপাশি একবার পরিবারের প্রধানের নাম নির্ধারণ করলে তা পরে আর পরিবর্তন করা যাবে না।
OTP ভেরিফিকেশন ও লোকেশন তথ্য জরুরি
রেজিস্ট্রেশনের পর মোবাইলে আসবে OTP। সেই OTP দিয়ে ভেরিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। এরপর নিজের পছন্দের ভাষা নির্বাচন করতে হবে। তবে ভাষা একবার বেছে নেওয়ার পর সেটিও আর বদলানো যাবে না।এরপর জেলা, পিন কোড, গ্রাম বা শহরের তথ্য দিতে হবে। ডিজিটাল ম্যাপের সাহায্যে বাড়ির সঠিক লোকেশনও মার্ক করতে হবে, যাতে তথ্য যাচাইয়ে কোনও সমস্যা না হয়।
প্রশ্নপত্র পূরণের পর থাকবে Preview অপশন
পরবর্তী ধাপে বাড়ি ও পরিবারের সদস্যদের সংক্রান্ত প্রশ্নপত্র পূরণ করতে হবে। নাগরিকদের সুবিধার জন্য FAQ ও টুল টিপস অপশনও রাখা হয়েছে।
সব তথ্য দেওয়ার পর ‘Preview’ স্ক্রিনে গিয়ে পুরো ফর্ম একবার দেখে নেওয়া যাবে। কোথাও ভুল থাকলে তা সংশোধন করা যাবে অথবা Draft হিসেবে Save করেও রাখা যাবে।
Submit করলেই মিলবে SE-ID
সব তথ্য সঠিক থাকলে ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করতে হবে। একবার তথ্য সাবমিট হয়ে গেলে আর কোনও পরিবর্তন করা যাবে না।সফলভাবে ফর্ম জমা পড়লে সিস্টেম থেকে ১১ সংখ্যার একটি বিশেষ নম্বর তৈরি হবে, যাকে বলা হচ্ছে SE-ID। এই আইডি সাধারণত ‘H’ দিয়ে শুরু হবে এবং SMS ও E-mail-এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হবে।
তারপরও বাড়িতে আসবেন জনগণনা কর্মী
অনলাইন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ হলেও জনগণনা কর্মী বাড়িতে আসবেন। তাঁদের সামনে SE-ID দেখাতে হবে। অনলাইনে দেওয়া তথ্য সঠিক থাকলে সেটাই গ্রহণ করা হবে। তবে কোনও ভুল বা অসম্পূর্ণ তথ্য থাকলে কর্মীরা নতুন করে তথ্য সংগ্রহ করতে পারেন।
নিরাপদ থাকবে নাগরিকদের তথ্য?
সরকারের দাবি, ডিজিটাল জনগণনা পদ্ধতি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও গোপনীয়। নাগরিকদের তথ্য সুরক্ষিত সার্ভারে সংরক্ষণ করা হবে এবং শুধুমাত্র সরকারি জনগণনার কাজেই ব্যবহার করা হবে।বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পদ্ধতিতে তথ্য হারানোর ঝুঁকি কমবে এবং ভবিষ্যতে সরকারি পরিষেবা পরিকল্পনাতেও সুবিধা হবে।
ভারত সরকার শুরু করেছে ডিজিটাল জনগণনা বা Self Enumeration প্রক্রিয়া। ২১ মে পর্যন্ত নাগরিকরা বাড়িতে বসেই মোবাইল বা কম্পিউটারের মাধ্যমে নিজেদের ও পরিবারের তথ্য অনলাইনে জমা দিতে পারবেন। কীভাবে রেজিস্ট্রেশন করবেন, কী কী তথ্য লাগবে এবং SE-ID কীভাবে মিলবে—জানুন ধাপে ধাপে।








