উত্তরবঙ্গের ডুয়ার্স মানেই সবুজ বনভূমি, বন্যপ্রাণের অবাধ বিচরণ আর পাখির কলকাকলি। প্রতিবছর অসংখ্য পর্যটক জঙ্গল সাফারির টানে ভিড় জমান এই অঞ্চলে। কিন্তু প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্যের আড়ালে লুকিয়ে থাকে অদৃশ্য ঝুঁকি। তাই রোমাঞ্চ উপভোগের পাশাপাশি সচেতন থাকাও অত্যন্ত জরুরি।
পোশাকের রঙেই লুকিয়ে বিপদ!
পরিবেশপ্রেমী অনির্বাণ মজুমদার ও দীর্ঘদিন ডুয়ার্সের জঙ্গলের সঙ্গে যুক্ত ভূপেন রায়ের মতে, জঙ্গল ভ্রমণে পোশাক নির্বাচন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। উজ্জ্বল রঙের পোশাক—বিশেষ করে লাল, কমলা বা হলুদ—বন্যপ্রাণীর দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে।তার বদলে খাকি, জলপাই বা সবুজ রঙের পোশাক পরা উচিত। এতে পরিবেশের সঙ্গে মিশে থাকা যায় এবং অপ্রয়োজনীয় ঝুঁকিও কমে।
শব্দ ও ফ্ল্যাশ—বিপদের বড় কারণ
জঙ্গলের ভিতরে উচ্চস্বরে কথা বলা, গান বাজানো বা হইচই করা সম্পূর্ণভাবে এড়িয়ে চলা উচিত। হঠাৎ শব্দে বন্যপ্রাণীরা আতঙ্কিত হয়ে পড়তে পারে।মোবাইল ফোন বা ক্যামেরার ফ্ল্যাশ ব্যবহার করেও ছবি তোলা উচিত নয়। হঠাৎ আলোর ঝলক প্রাণীদের আক্রমণাত্মক করে তুলতে পারে, যা মারাত্মক পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে।
ভ্রমণের সেরা সময় কখন?
ডুয়ার্স ভ্রমণের উপযুক্ত সময় অক্টোবর থেকে এপ্রিল। শীত ও বসন্তকালে আবহাওয়া মনোরম থাকে এবং বন্যপ্রাণ দেখার সম্ভাবনাও বেশি। বিশেষ করে মার্চ মাসে পলাশ ও শিমুলের লাল আভায় রঙিন হয়ে ওঠে গোটা অঞ্চল, যা প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য বাড়তি আকর্ষণ।
জনপ্রিয় গন্তব্য: গরুমারা জাতীয় উদ্যান
ডুয়ার্সে এলে পর্যটকদের অন্যতম পছন্দের জায়গা হল গরুমারা জাতীয় উদ্যান। একশৃঙ্গ গণ্ডারসহ নানা বন্যপ্রাণের আবাসস্থল এই বনাঞ্চল।
কলকাতা থেকে রেলপথে মাল জংশন বা নিউ ময়নাগুড়ি স্টেশন হয়ে সহজেই পৌঁছনো যায় এখানে। সেখান থেকে স্থানীয় পরিবহণে জঙ্গল সাফারির বুকিং করা যায়।
ডুয়ার্সের জঙ্গল সাফারি মানেই প্রকৃতির কোলে রোমাঞ্চকর অভিজ্ঞতা। তবে অসচেতনতা ডেকে আনতে পারে বড় বিপদ। পোশাক নির্বাচন থেকে আচরণবিধি—সব ক্ষেত্রেই মানতে হবে নির্দিষ্ট কিছু নিয়ম। ভ্রমণের আগে জেনে নিন কী করবেন আর কী করবেন না।













