উচ্চশিক্ষিত হয়েও সন্ত্রাসে ড. উমর: ইয়াকুব মেমন ও ওসামা বিন লাদেনের ছায়া

উচ্চশিক্ষিত হয়েও সন্ত্রাসে ড. উমর: ইয়াকুব মেমন ও ওসামা বিন লাদেনের ছায়া

দিল্লি বিস্ফোরণ মামলায় ধরা পড়া ড. উমর উন নবী তার শিক্ষাগত যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও সন্ত্রাসের সাথে যুক্ত বলে প্রমাণিত হয়েছেন। আল-ফলাহ ইউনিভার্সিটির সহকারী অধ্যাপক উমরের সাথে ইয়াকুব মেমন এবং ওসামা বিন লাদেনের মতো অনেক শিক্ষিত লোকের মৌলবাদী নেটওয়ার্কে যুক্ত হওয়া একটি গুরুতর উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তোলে যে উচ্চশিক্ষা থাকা সত্ত্বেও কিছু লোক কেন ভুল পথে চলে যায়।

শিক্ষিত সন্ত্রাসীদের নেটওয়ার্ক: দিল্লির লাল কেল্লা মেট্রো স্টেশনের কাছে ঘটে যাওয়া বিস্ফোরণের তদন্তে জানা গেছে যে সহকারী অধ্যাপক ড. উমর উন নবী এই হামলার মূল ষড়যন্ত্রকারী ছিলেন। তদন্ত সংস্থাগুলো জানিয়েছে যে তিনি আল-ফলাহ ইউনিভার্সিটিতে পড়াতেন এবং শ্রীনগরের মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছিলেন। বিষয়টি তখন গুরুতর হয়ে ওঠে যখন জানা যায় যে তিনি দীর্ঘকাল ধরে সন্ত্রাসী নেটওয়ার্কের সংস্পর্শে ছিলেন। এই ঘটনা আবারও প্রশ্ন তুলেছে যে শিক্ষিত মানুষ কেন মৌলবাদী সংগঠনের অংশ হয়ে ওঠে এবং প্রতিষ্ঠানগুলির নজরদারি নিয়ে আলোচনা কেন জরুরি হয়ে পড়েছে।

উমর উন নবীর শিক্ষা এবং সন্ত্রাসী সংযোগ

তদন্ত অনুযায়ী, ড. উমর আল-ফলাহ ইউনিভার্সিটির জেনারেল মেডিসিন বিভাগে সহকারী অধ্যাপক ছিলেন। এর আগে তিনি শ্রীনগরের সরকারি মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস সম্পন্ন করেছিলেন। তার শিক্ষাগত রেকর্ড দেখে কেউ ভাবেনি যে তিনি এমন ষড়যন্ত্রের অংশ হতে পারেন। বিস্ফোরণে একটি i20 গাড়ি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা নিরাপত্তা সংস্থাগুলিকে তার নেটওয়ার্কের গভীরে তদন্ত করতে বাধ্য করেছে।

উমরের ঘটনাটি আবারও এই বিতর্ককে উস্কে দিয়েছে যে শিক্ষা লাভের পরেও কিছু লোক কীভাবে মৌলবাদী সংগঠনের প্রভাবে চলে আসে। এজেন্সিগুলি মনে করে যে তিনি দীর্ঘকাল ধরে এই নেটওয়ার্কের সংস্পর্শে ছিলেন এবং এর জন্য তার পেশার সাহায্যও নিচ্ছিলেন।

ইয়াকুব মেমন এবং ওসামা

১৯৯৩ সালের মুম্বাই বিস্ফোরণের দোষী ইয়াকুব মেমনকে তার পরিবারের সবচেয়ে শিক্ষিত সদস্য হিসাবে বিবেচনা করা হত। তিনি একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট ছিলেন এবং পেশাগত জীবনে সফল হতে পারতেন, কিন্তু ভুল সঙ্গ এবং নেটওয়ার্কের কারণে তিনি সন্ত্রাসের পথে চলে যান।

ওসামা বিন লাদেনের ঘটনাটিও একই ধরন দেখায়। রিয়াদে জন্ম নেওয়া লাদেন জেদ্দার কিং আব্দুল আজিজ ইউনিভার্সিটি থেকে পাবলিক অ্যাডমিনিস্ট্রেশনে ডিগ্রি নিয়েছিলেন। প্রাথমিক দিনগুলিতে তিনি আরব সমাজের উন্নয়নের কথা বলতেন, কিন্তু পরে তিনি আল-কায়েদা গঠন করে সারা বিশ্বে সন্ত্রাসের বিস্তার ঘটান। ২০১১ সালে মার্কিন অভিযানে তার মৃত্যু হয়, কিন্তু তার নেটওয়ার্কের প্রভাব আজও অনেক দেশে দেখা যায়।

কেন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির উপর প্রশ্ন ওঠে

উমর উন নবীর ঘটনা বিশ্ববিদ্যালয় এবং পেশাদার প্রতিষ্ঠানগুলির নজরদারি নিয়ে আবারও আলোচনা শুরু করেছে। অনেক সময় শিক্ষিত ব্যক্তিরাও মৌলবাদী সংগঠনের সংস্পর্শে চলে আসে, যার ফলে নিরাপত্তা সংস্থাগুলির আরও সতর্ক থাকার প্রয়োজন হয়। এই ধরনের ক্ষেত্রে এটি দেখা জরুরি হয়ে পড়ে যে কোন পরিস্থিতি ছাত্র বা পেশাদারদের এই পথে ঠেলে দেয়।

নিরাপত্তা সংস্থাগুলি মনে করে যে মৌলবাদীদের উদ্দেশ্য প্রায়শই উচ্চ শিক্ষিত যুবকদের তাদের নেটওয়ার্কে অন্তর্ভুক্ত করা, কারণ তারা প্রযুক্তিগত এবং কৌশলগত দিক থেকে কার্যকর প্রমাণিত হতে পারে। এই কারণেই তদন্ত এখন কেবল ঘটনা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং প্রতিষ্ঠানগুলির পটভূমি, সংযোগ এবং কার্যকলাপ পর্যন্ত বিস্তৃত হয়।

Leave a comment