পুজোর ছুটিতে শহরের কোলাহল থেকে একটু দূরে গিয়ে নিরিবিলি পরিবেশে সময় কাটাতে কার না ভালো লাগে! কিন্তু হাতে সময় কম থাকলে বা বাজেটের কথা ভেবে দূরের পর্যটনকেন্দ্রে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করতে হয় অনেককেই। তাঁদের জন্য কলকাতার কাছাকাছি উত্তর ২৪ পরগনার কচুয়া হতে পারে সুন্দর একটি বিকল্প। বাবা লোকনাথের মন্দির দর্শনের পাশাপাশি এখানকার শান্তিধাম উদ্যানে প্রকৃতির সান্নিধ্যে কাটানো যায় বেশ কিছুটা সময়। ফলে একই সফরে মিলবে আধ্যাত্মিক পরিবেশ এবং ছোট্ট ভ্রমণের আনন্দ।
![]()
পুজোর ছুটিতে একদিনের সফরের ঠিকানা কচুয়া
ব্যস্ত জীবন থেকে সামান্য বিরতি পেতে সবসময় দূরে কোথাও যাওয়ার প্রয়োজন নেই। কলকাতার কাছেই উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার কচুয়ায় রয়েছে শান্তিধাম উদ্যান। পুজোর ছুটিতে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অল্প সময়ের জন্য ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে এই জায়গাটি ভ্রমণতালিকায় রাখতে পারেন।
সবুজে ঘেরা পরিবেশে কিছুটা সময় কাটানোর পাশাপাশি কাছেই রয়েছে বিখ্যাত বাবা লোকনাথ মন্দির। তাই যাঁরা বেড়ানোর সঙ্গে ধর্মীয় স্থান দর্শনও করতে চান, তাঁদের কাছে কচুয়া আকর্ষণীয় গন্তব্য হয়ে উঠতে পারে।
বাবা লোকনাথের মন্দির দর্শনের সঙ্গে ঘোরার সুযোগ
কচুয়ার নাম উঠলেই প্রথমে মনে পড়ে বাবা লোকনাথের মন্দিরের কথা। সারা বছরই বহু ভক্ত এই মন্দিরে পুজো দিতে ও দর্শন করতে আসেন। মন্দিরের কাছেই রয়েছে শান্তিধাম উদ্যান।
ফলে একই দিনে মন্দিরে পুজো দেওয়ার পর উদ্যানেও ঘুরে আসা সম্ভব। যাঁরা পরিবারের বয়স্ক সদস্যদের নিয়ে বেরোবেন, তাঁদের জন্য এই ধরনের পরিকল্পনা সুবিধাজনক হতে পারে। তবে পুজোর সময় ভিড়ের কথা মাথায় রেখে হাতে পর্যাপ্ত সময় নিয়ে বেরোনো ভালো।
জলাশয়, ঝরনা আর সবুজের সমাহার
শান্তিধাম উদ্যানে ঢুকলে চোখে পড়ে নিরিবিলি পরিবেশ এবং চারপাশের সবুজ। উদ্যানের একদিকে রয়েছে বড় জলাশয়, যার মাঝখানে ঝরনার মতো একটি কাঠামো জায়গাটির সৌন্দর্য বাড়িয়েছে। চারদিকে বিভিন্ন ধরনের ফুল ও ফলের গাছও রয়েছে।
শহরের ব্যস্ততা থেকে কিছুক্ষণের জন্য দূরে সরে প্রকৃতির কাছাকাছি সময় কাটাতে চাইলে এই পরিবেশ মন ভালো করার মতো। পরিবারের সঙ্গে বসে গল্প করা কিংবা অবসর সময় উপভোগ করার জন্যও জায়গাটি আকর্ষণীয়।
শিশুদের জন্যও রয়েছে খেলার ব্যবস্থা
শান্তিধাম উদ্যান শুধু বড়দের সময় কাটানোর জায়গা নয়, শিশুদের জন্যও রয়েছে বিভিন্ন ব্যবস্থা। পার্কের মধ্যে দোলনা-সহ খেলাধুলার উপকরণ রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে আসা রোদ, চারপাশের সবুজ এবং পাখির ডাক মিলিয়ে তৈরি হয় মনোরম পরিবেশ। তাই পরিবারের ছোট সদস্যদের নিয়ে কিছুটা সময় কাটানোর পরিকল্পনা থাকলেও এই উদ্যান বিবেচনা করতে পারেন।
কম বাজেটে কীভাবে সাজাবেন একদিনের ভ্রমণ?
কচুয়ায় একদিনের সফর পরিকল্পনা করার সময় প্রথমে বাবা লোকনাথ মন্দির দর্শন করে নেওয়া যেতে পারে। এরপর কয়েক মিনিটের হাঁটা পথের দূরত্বে থাকা শান্তিধাম উদ্যানে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করতে পারেন।
![]()
যাত্রার আগে কয়েকটি বিষয় মাথায় রাখুন:
- যাতায়াত: নিজের সুবিধা ও বাজেট অনুযায়ী বাস, ট্রেন বা অন্য পরিবহণের ব্যবস্থা যাচাই করে নিন।
- সময় নির্বাচন: পুজোর ভিড় এড়াতে সম্ভব হলে দিনের প্রথম ভাগে বেরোনোর পরিকল্পনা করুন।
- শিশু ও বয়স্কদের সুবিধা: সঙ্গে শিশু বা বয়স্ক সদস্য থাকলে বিশ্রাম, জল এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ সঙ্গে রাখুন।
- খরচের হিসাব: যাতায়াত, খাবার এবং উদ্যানের প্রবেশমূল্য থাকলে তা আগে জেনে বাজেট তৈরি করুন।
উদ্যানের বর্তমান প্রবেশমূল্য, খোলার সময় এবং যাতায়াতের নির্দিষ্ট খরচের তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই। তাই রওনা হওয়ার আগে স্থানীয় সূত্র থেকে এগুলি জেনে নেওয়া ভালো।
একই সফরে ভক্তি ও প্রকৃতির আনন্দ
পুজোর ছুটিতে দূরে কোথাও যাওয়ার সুযোগ না থাকলে কচুয়া হতে পারে একদিনের ভ্রমণের ভালো বিকল্প। একদিকে বাবা লোকনাথ মন্দিরের আধ্যাত্মিক পরিবেশ, অন্যদিকে শান্তিধাম উদ্যানের সবুজ ও নিরিবিলি আবহ—দুইয়ের মেলবন্ধনে পরিবারের সঙ্গে কাটানো যেতে পারে সুন্দর কিছু মুহূর্ত।
![]()
দুর্গাপুজোর ছুটিতে দূরে কোথাও যাওয়ার সময় বা বাজেট না থাকলে উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট মহকুমার কচুয়া হতে পারে দারুণ গন্তব্য। এখানে বাবা লোকনাথ মন্দিরে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি ঘুরে দেখা যায় সবুজে ঘেরা শান্তিধাম উদ্যান। বড় জলাশয়, ঝরনার অবয়ব, ফুল-ফলের গাছ এবং শিশুদের খেলার ব্যবস্থায় সাজানো এই উদ্যান পরিবারের সঙ্গে একদিনের ভ্রমণের জন্য আকর্ষণীয় ঠিকানা।








