দুর্গাপুরে এমবিবিএস পড়ুয়ার গণধর্ষণ: ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুলিশের, ওড়িশা-বাংলা একসঙ্গে ক্ষুব্ধ

দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ছাত্রী গণধর্ষণের ঘটনায় রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে— ‘নির্যাতিতার কষ্ট আমাদেরও’। তিন অভিযুক্ত গ্রেপ্তার, বাকিদের খোঁজে ড্রোন তল্লাশি চলছে। নারী নির্যাতনে জিরো টলারেন্স নীতি বলবৎ।

দুর্গাপুর গণধর্ষণ কাণ্ড: পশ্চিম বর্ধমান জেলার দুর্গাপুরের এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের বাইরে এমবিবিএস দ্বিতীয় বর্ষের এক ছাত্রীকে শুক্রবার রাতে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। নির্যাতিতা ওড়িশার জলেশ্বরের বাসিন্দা এবং কলেজের হস্টেলে থাকতেন। ঘটনায় ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আসানসোল–দুর্গাপুর পুলিশ। বাকিদের খোঁজে ড্রোন উড়িয়ে চলছে তল্লাশি। রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে— নির্যাতিতার কষ্ট যতটা ওড়িশার, ততটাই আমাদের। কোনও দোষী রেহাই পাবে না।

দুর্গাপুরে এমবিবিএস পড়ুয়ার গণধর্ষণ: ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুলিশের, ওড়িশা-বাংলা একসঙ্গে ক্ষুব্ধ

‘জিরো টলারেন্স’ নীতি নিয়ে সরব পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ

শনিবার রাতে এক্স (X) হ্যান্ডলে পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের তরফে লেখা হয়, “দুর্গাপুর মেডিক্যাল কলেজের বাইরে এমবিবিএস পড়ুয়ার উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনায় আমরা ব্যথিত। প্রতিটি দোষী শাস্তি পাবে। গুজবে কান দেবেন না, নির্যাতিতা এখন সুস্থ হওয়ার পথে।” পুলিশ জানায়, রাজ্যে নারী নির্যাতনের ঘটনায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কার্যকর রয়েছে এবং কোনও অপরাধী রেহাই পাবে না।

ড্রোনে চলছে জঙ্গল তল্লাশি, গ্রেপ্তার তিনজন

পুলিশের সূত্রে খবর, ইতিমধ্যে তিনজন অভিযুক্তকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। বাকিদের খোঁজে পরাণগঞ্জ কালীবাড়ি শ্মশান সংলগ্ন জঙ্গলে ড্রোন ব্যবহার করে তল্লাশি চলছে। সন্দেহভাজনদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। পুলিশের দাবি— দ্রুত চার্জশিট পেশ করে দোষীদের সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হবে।

দুর্গাপুরে এমবিবিএস পড়ুয়ার গণধর্ষণ: ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুলিশের, ওড়িশা-বাংলা একসঙ্গে ক্ষুব্ধ

ঘটনার বিবরণ: কীভাবে ঘটল নৃশংসতা

পুলিশি তদন্তে জানা গিয়েছে, শুক্রবার রাতে এক বন্ধুর সঙ্গে কলেজের গেটের বাইরে খাবার খেতে গিয়েছিলেন নির্যাতিতা। অভিযোগ, সেই সময় কিছু যুবক জোর করে তাঁকে কাছের জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধর্ষণ করে। নির্যাতিতার বাবার বক্তব্য, “ওর মোবাইল কেড়ে নেওয়া হয়, ৩ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে না পারায় তাঁকে মারধর করা হয়।”

কলেজ প্রশাসনের নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্নবাণ

যে জায়গায় ঘটনা ঘটেছে, সেটি কলেজ থেকে মাত্র এক কিলোমিটার দূরে। ফলে প্রশ্ন উঠছে— কলেজ ও হস্টেল প্রাঙ্গণের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এত ঢিলেঢালা কেন? স্থানীয়রা কলেজ প্রশাসনের ভূমিকাও নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অনেকেই দাবি করেছেন, ছাত্রীদের নিরাপত্তায় অবিলম্বে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও জনরোষে উত্তপ্ত রাজ্য

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসতেই বিরোধীরা রাজ্য সরকারের নারী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু করেছে। তবে রাজ্য পুলিশ বলছে, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে নারী নির্যাতনের একাধিক ঘটনায় দ্রুত চার্জশিট দিয়ে দোষীদের সাজা নিশ্চিত করা হয়েছে, এই ঘটনাতেও তার ব্যতিক্রম হবে না।

দুর্গাপুরে এমবিবিএস পড়ুয়ার গণধর্ষণ: ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি পুলিশের, ওড়িশা-বাংলা একসঙ্গে ক্ষুব্ধ

দুর্গাপুরের এক বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের এমবিবিএস পড়ুয়াকে গণধর্ষণের ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ ছড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গ পুলিশ জানিয়েছে, কোনও অপরাধী রেহাই পাবে না। নির্যাতিতা তরুণী ওড়িশার বাসিন্দা, তিনি ধীরে ধীরে সুস্থ হচ্ছেন। ইতিমধ্যেই তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, বাকিদের খোঁজে চলছে তল্লাশি অভিযান।

Leave a comment