ক্যানসার মানেই যে শুধুই বংশগত কারণ, তা নয়। সাম্প্রতিক গবেষণাগুলি বলছে, আমাদের প্রতিদিনের কিছু ছোট ছোট অভ্যাসই ভবিষ্যতে বড় রোগের কারণ হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে অল্প বয়সে ক্যানসারের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার পেছনে জীবনযাপনের ধরন বড় ভূমিকা নিচ্ছে। কোন কোন অভ্যাস সবচেয়ে বেশি বিপজ্জনক, জানলে এখনই সতর্ক হওয়া সম্ভব।
নিঃশ্বাসের সঙ্গে ঢুকছে বিপদ
মেট্রো শহর ও শিল্পাঞ্চলে বসবাসকারীরা প্রতিদিনই দূষিত বাতাসের সংস্পর্শে আসছেন। বাতাসে থাকা PM 2.5 কণা, যানবাহনের ধোঁয়া, রেডন গ্যাস এবং বিভিন্ন রাসায়নিক থেকে নির্গত VOC শরীরে প্রবেশ করে ফুসফুস ও শ্বাসযন্ত্রের ক্ষতি করে। দীর্ঘদিন এই দূষণের প্রভাবে ফুসফুসের ক্যানসারের ঝুঁকি অনেকটাই বেড়ে যায়। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, দূষণ বেশি থাকলে বাইরে বেরোনোর সময় সুরক্ষামূলক মাস্ক ব্যবহার করা জরুরি।
প্লাস্টিকের অতিরিক্ত ব্যবহার: হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট
একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিকের বোতল, খাবারের বাক্স কিংবা গরম খাবার রাখার পাত্রে থাকা বিসফেনল এ (BPA) ও থ্যালেটের মতো রাসায়নিক শরীরের হরমোন ব্যবস্থাকে বিঘ্নিত করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই এন্ডোক্রাইন ডিসরাপ্টারগুলি স্তন ও প্রোস্টেট ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্লাস্টিকের বদলে স্টিল বা কাচের পাত্র ব্যবহার করাই নিরাপদ।
প্রক্রিয়াজাত খাবার: স্বাদের আড়ালে লুকিয়ে থাকা ক্ষতি
ইনস্ট্যান্ট নুডলস, প্যাকেটজাত খাবার, প্রসেসড মাংস ও কৃত্রিম মিষ্টি নিয়মিত খেলে শরীরে ক্ষতিকর নাইট্রেট ও সংরক্ষণকারী রাসায়নিক জমা হয়। এগুলি শরীরে গিয়ে কার্সিনোজেনিক যৌগে রূপান্তরিত হতে পারে, যা বিশেষ করে কোলোরেক্টাল ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়। পুষ্টিবিদদের মতে, যতটা সম্ভব ঘরে তৈরি ও কম প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়াই সবচেয়ে ভালো।
ধূমপান, মদ্যপান ও প্রসাধনী ব্যবহারে অসচেতনতা
ধূমপান, তামাক, গুঠখা বা অতিরিক্ত মদ্যপান বহু ধরনের ক্যানসারের প্রধান কারণ হিসেবে পরিচিত। পাশাপাশি চুলের রং, লিপস্টিক, ডিওডোরেন্ট বা স্কিন কেয়ার পণ্যে থাকা প্যারাবেন, ফর্মালডিহাইড ও থ্যালেট ত্বকের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে হরমোন-সম্পর্কিত ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তাই প্রসাধনী কেনার সময় উপাদান যাচাই করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশ্বজুড়ে কম বয়সে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা বাড়ছে উদ্বেগজনক হারে। চিকিৎসক ও গবেষকদের মতে, এর নেপথ্যে রয়েছে কিছু দৈনন্দিন অভ্যাস, যা আমরা না জেনেই দীর্ঘদিন ধরে করে চলেছি। বায়ু দূষণ থেকে শুরু করে প্লাস্টিক ব্যবহার, প্রসাধনী ও অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস—এই সবকিছুই ধীরে ধীরে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।













