একসময় ছিল বিস্তীর্ণ ফাঁকা জমি। সময়ের সঙ্গে সেখানে গড়ে উঠেছে আধুনিক টাউনশিপ, তৈরি হয়েছে বাড়িঘর ও রাস্তাঘাট। কিন্তু শহর বদলালেও পুরনো বাসিন্দাদের ঠিকানা যেন বদলায়নি। পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ টাউনশিপে রাতের অন্ধকারে সজারুর ঘোরাফেরার একটি ভিডিও ভাইরাল হতেই নতুন করে চর্চা শুরু হয়েছে। স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীদের দাবি, বহুদিন ধরেই ওই এলাকায় সজারুর আনাগোনা রয়েছে।
রেনেসাঁ টাউনশিপে সজারুর ভিডিও ভাইরাল
রাতের অন্ধকারে একটি সজারুকে টাউনশিপের এলাকায় ঘুরে বেড়াতে দেখা যায় ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে। কে ভিডিওটি করেছেন, তা প্রকাশ্যে আসেনি। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়েছে।শহরের ব্যস্ত এলাকার মধ্যে এমন বন্যপ্রাণীর উপস্থিতি অনেকের কাছেই চমকপ্রদ। তবে পরিবেশপ্রেমীদের মতে, ঘটনাটি একেবারেই অস্বাভাবিক নয়।
আগে ছিল ফাঁকা জমি, সেখানেই ছিল সজারুর বাস
পরিবেশপ্রেমী অর্ণব দাসের দাবি, রেনেসাঁ টাউনশিপ এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই সজারুর দল বসবাস করে। একসময় বর্তমান টাউনশিপের জায়গাটি ছিল বিস্তীর্ণ ফাঁকা জমি। সেখানে মাটির নিচে গর্ত তৈরি করে সজারুরা থাকত।পরবর্তীতে সেই এলাকায় একের পর এক নির্মাণকাজ শুরু হয় এবং গড়ে ওঠে আধুনিক উপনগরী। কিন্তু মানুষের বসতি তৈরি হলেও সজারুর আনাগোনা পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
রাতেই বেশি দেখা মেলে কেন?
পরিবেশপ্রেমীদের মতে, সজারু সাধারণত রাতের দিকে বেশি সক্রিয় হয়। খাবারের সন্ধানে তারা নিজেদের আশ্রয়স্থল থেকে বেরিয়ে আসে। তাই দিনের ব্যস্ত সময়ে দেখা না গেলেও রাতের দিকে টাউনশিপের বিভিন্ন জায়গায় তাদের নজরে পড়ার সম্ভাবনা থাকে।ফলে ভাইরাল ভিডিওতে দেখা সজারুটিও ওই এলাকার দীর্ঘদিনের বাসিন্দা হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীরা।
সজারু দেখলে কী করবেন?
সজারুকে দেখে আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই। সাধারণত তারা মানুষের থেকে দূরত্ব বজায় রাখে। তবে বন্যপ্রাণীটিকে কাছে গিয়ে বিরক্ত করা, ধরার চেষ্টা করা বা তাড়া করা বিপজ্জনক হতে পারে।বিশেষ করে সজারুর শরীরে থাকা ধারালো কাঁটা থেকে দূরে থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এলাকায় এমন কোনও বন্যপ্রাণী দেখা গেলে তাকে ঘিরে না ধরে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখাই ভালো।
এখনও বনদফতরের কাছে পৌঁছয়নি নির্দিষ্ট খবর
ভাইরাল ভিডিও ঘিরে আলোচনা হলেও রেনেসাঁ টাউনশিপে সজারুর উপস্থিতি নিয়ে এখনও বনদফতরের কাছে নির্দিষ্ট কোনও তথ্য পৌঁছয়নি। পূর্ব বর্ধমানের জেলা বনাধিকারিক সঞ্চিতা শর্মার বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁর কাছে এখনও এই ধরনের কোনও ভিডিও পৌঁছয়নি।তবে এলাকায় সত্যিই সজারুর উপস্থিতির বিষয়ে তথ্য পাওয়া গেলে নিয়ম মেনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানা গিয়েছে।
পূর্ব বর্ধমানের বর্ধমান শহরের রেনেসাঁ টাউনশিপে রাতের অন্ধকারে সজারুর ঘোরাফেরার একটি ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয় পরিবেশপ্রেমীদের দাবি, এলাকায় সজারুর উপস্থিতি নতুন নয়। তবে ভিডিওটি নিয়ে এখনও বনদফতরের কাছে নির্দিষ্ট কোনও অভিযোগ বা তথ্য পৌঁছয়নি।











