আগুন লাগার মুহূর্তে কয়েক সেকেন্ডের আতঙ্কও বড় বিপদ ডেকে আনতে পারে। বিশেষ করে হাসপাতালের মতো জায়গায় রোগীদের অনেকেই নিজেরা দ্রুত বেরিয়ে যেতে পারেন না। তাই এমন পরিস্থিতিতে কীভাবে মাথা ঠান্ডা রেখে দ্রুত পদক্ষেপ করতে হবে, তা শেখাতে অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে বিশেষ Fire Safety Training ও Emergency Evacuation Mock Drill আয়োজন করা হল। দমকল আধিকারিকদের উপস্থিতিতে হাসপাতালের কর্মীদের বাস্তব পরিস্থিতির মতো করে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
আগুন লাগলে প্রথম কাজ কী?
মহড়ায় দমকল আধিকারিকরা বোঝান, আগুন লাগার খবর পাওয়ার পর প্রথমেই আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করা উচিত নয়। দ্রুত পরিস্থিতি বুঝে দমকলকে খবর দেওয়া এবং আশপাশের মানুষকে সতর্ক করা জরুরি।আগুন ছোট অবস্থায় থাকলে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তি উপযুক্ত অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করে তা নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করতে পারেন। তবে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে নিজের নিরাপত্তাকে ঝুঁকির মধ্যে না ফেলে নিরাপদ জায়গায় সরে যাওয়াই গুরুত্বপূর্ণ।
হাসপাতালের রোগীদের কীভাবে সরাবেন?
হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হল রোগীদের নিরাপদে বের করে আনা। বিশেষ করে শয্যাশায়ী বা গুরুতর অসুস্থ রোগীদের সরানোর সময় বাড়তি সতর্কতা প্রয়োজন।মক ড্রিলে কর্মীদের শেখানো হয়, নিরাপদ নির্গমনপথ চিহ্নিত করে রোগী ও পরিজনদের সেই পথেই সরিয়ে নিতে হবে। জরুরি পরিস্থিতিতে কে কোন দায়িত্ব পালন করবেন, তা আগে থেকে নির্দিষ্ট থাকলে উদ্ধারকাজ অনেক দ্রুত করা সম্ভব।
অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহারের প্রশিক্ষণ
শুধু আগুন লাগার খবর দেওয়াই নয়, প্রাথমিক পর্যায়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কীভাবে অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র ব্যবহার করতে হয়, সেটিও হাতে-কলমে দেখান দমকল আধিকারিকরা।কোন পরিস্থিতিতে আগুন নেভানোর যন্ত্র ব্যবহার করা নিরাপদ এবং কখন আগুনের জায়গা থেকে দ্রুত সরে যাওয়া উচিত—সেই বিষয়েও কর্মীদের সতর্ক করা হয়।
আতঙ্কই সবচেয়ে বড় বিপদ
দমকল আধিকারিকদের মতে, আগুনের সময় মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে উদ্ধারকাজ আরও কঠিন হয়ে যায়। হুড়োহুড়ি করতে গিয়ে পড়ে যাওয়া, নির্গমনপথ আটকে দেওয়া বা ভুল দিকে চলে যাওয়ার মতো ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও ভয়াবহ করে তুলতে পারে।তাই আগুন লাগার মুহূর্তে মাথা ঠান্ডা রেখে দ্রুত এবং পরিকল্পিতভাবে পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি।
নিয়মিত মক ড্রিলেই তৈরি হবে প্রস্তুতি
একবার প্রশিক্ষণ নিলেই দায়িত্ব শেষ নয়। জরুরি পরিস্থিতিতে কর্মীরা যাতে নিজেদের দায়িত্ব দ্রুত বুঝে কাজ করতে পারেন, সেজন্য নিয়মিত মক ড্রিলের প্রয়োজন রয়েছে।অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালের এই মহড়ার মাধ্যমে সেই প্রস্তুতিই আরও জোরদার করার চেষ্টা করা হয়েছে। হাসপাতালের পাশাপাশি ভবিষ্যতে জনসমাগম হয় এমন অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গাতেও এই ধরনের সচেতনতামূলক মহড়া করার উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে।
আগুনের সময় কয়েকটি বিষয় মনে রাখুন
আতঙ্কিত হয়ে হুড়োহুড়ি করবেন না।
দ্রুত আগুনের খবর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও দমকলকে জানান।
নিরাপদ ও নির্ধারিত নির্গমনপথ ব্যবহার করুন।
লিফটের বদলে নিরাপদ হলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন।
প্রশিক্ষণ না থাকলে বড় আগুন নেভানোর ঝুঁকি নেবেন না।
শয্যাশায়ী বা অসুস্থ ব্যক্তিকে সরানোর সময় তাঁদের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিন।
ধোঁয়া বেশি হলে নিচু হয়ে নিরাপদ পথে বেরিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করুন।
নিজের জীবন বিপন্ন করে কাউকে উদ্ধার করতে যাবেন না; প্রশিক্ষিত উদ্ধারকারী দলের সাহায্য নিন।
হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় হঠাৎ আগুন লাগলে কীভাবে আতঙ্কিত না হয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে হবে, রোগী ও পরিজনদের কীভাবে নিরাপদে সরিয়ে নিতে হবে এবং অগ্নিনির্বাপক যন্ত্র কীভাবে ব্যবহার করতে হবে—এসব নিয়েই অশোকনগর স্টেট জেনারেল হাসপাতালে বিশেষ মক ড্রিল করল দমকল বিভাগ। স্বাস্থ্যকর্মীদের হাতে-কলমে দেওয়া হল জরুরি পরিস্থিতির প্রশিক্ষণ।










