ইডি তল্লাশির প্রতিবাদে কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিল, কেন্দ্র ও ইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ

ইডি তল্লাশির প্রতিবাদে কলকাতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মিছিল, কেন্দ্র ও ইডির বিরুদ্ধে অভিযোগ

পশ্চিমবঙ্গে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। প্রবर्तन নির্দেশালয় (ইডি) রাজনৈতিক কৌশলগত সংস্থা ইন্ডিয়ান পলিটিক্যাল অ্যাকশন কমিটি (আই-প্যাক)-এর কলকাতা অফিস এবং সংস্থার সহ-প্রতিষ্ঠাতা প্রতীক জৈনের বাসভবনে তল্লাশি চালানোর পর রাজ্য রাজনীতিতে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে।

এই তল্লাশির পর মুখ্যমন্ত্রী ও তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) প্রধান মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রীয় সরকার এবং ইডির বিরুদ্ধে সরাসরি অভিযোগ তোলেন। তিনি এই অভিযানকে “রাজনৈতিক প্রতিশোধ” বলে অভিহিত করেন এবং বলেন, এ ধরনের পদক্ষেপ তাঁকে আরও শক্তিশালী করে তোলে।

শুক্রবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় কলকাতায় প্রায় ছয় কিলোমিটার দীর্ঘ একটি প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন। জাদবপুর থেকে শুরু হয়ে হাজরা মোড়ে শেষ হওয়া এই মিছিলে হাজার হাজার টিএমসি কর্মী ও সমর্থক অংশ নেন। মিছিলে মুখ্যমন্ত্রী সামনের সারিতে পায়ে হেঁটে অংশ নেন, যাকে দলটি গণতন্ত্র ও ফেডারাল কাঠামো রক্ষার প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করে।

হাজরায় জনসভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, তিনি যা কিছু করেছেন তা টিএমসি-র সভাপতি হিসেবে করেছেন এবং কোনও বেআইনি কাজ করেননি। তিনি প্রশ্ন তোলেন, রাজনৈতিকভাবে তাঁকে শেষ করার চেষ্টা হলে আত্মরক্ষার অধিকার তাঁর নেই কি না। তিনি বলেন, কেউ তাঁর উপর আক্রমণ করলে তিনি নতুন করে জন্ম নেন এবং আগের দিনটি তাঁর কাছে পুনর্জন্মের মতো ছিল।

মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন, ইডি তল্লাশির সময় তাঁর দলের গোপন নির্বাচনী কৌশল, সম্ভাব্য প্রার্থীদের তালিকা এবং ডিজিটাল তথ্যের নাগাল পাওয়ার চেষ্টা করেছে। তাঁর দাবি, এই অভিযান কোনও নিরপেক্ষ তদন্ত নয়, বরং বিরোধীদের দুর্বল করার ষড়যন্ত্র।

কথিত কয়লা কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডির বিরুদ্ধে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-র রাজনৈতিক এজেন্ডা কার্যকর করার অভিযোগ তোলেন। তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট সমস্ত প্রমাণ একটি পেনড্রাইভে তাঁর কাছে সংরক্ষিত রয়েছে এবং সময় হলে তা প্রকাশ করা হবে। তাঁর দাবি, বিজেপির একাধিক শীর্ষ নেতা এই কথিত কেলেঙ্কারির অর্থের সঙ্গে যুক্ত।

মহারাষ্ট্র ও হরিয়ানার নির্বাচন উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, সেখানকার নির্বাচন “চুরি” হয়েছে এবং এখন কেন্দ্রের নজর পশ্চিমবঙ্গের দিকে। তিনি বলেন, বাংলা মাথা নত করবে না।

এই রাজনৈতিক টানাপোড়েনের মধ্যেই দিল্লিতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের দফতরের বাইরে বিক্ষোভ প্রদর্শনের সময় টিএমসি-র আট সাংসদকে দিল্লি পুলিশ হেফাজতে নেয়। আটক সাংসদদের মধ্যে মহুয়া মৈত্র এবং ডেরেক ও’ব্রায়েন ছিলেন। সাংসদদের টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও প্রকাশ্যে আসার পর মুখ্যমন্ত্রী তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের রাস্তায় টেনে নিয়ে যাওয়া আইনশৃঙ্খলা নয়, বরং উর্দিধারী অহংকার। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, বিজেপির কাছে গণতন্ত্রের অর্থ আজ আনুগত্য, ভিন্নমত নয়।

ইডি অভিযোগ করেছে, তল্লাশির সময় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তদন্ত-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ নথি এবং ইলেকট্রনিক যন্ত্র নিজের কাছে রেখে তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেছেন। এই অভিযোগে সংস্থাটি কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়, তবে আদালতে বিশৃঙ্খলার কারণে শুনানি মুলতবি থাকে।

বিজেপির পক্ষ থেকে দলের জ্যেষ্ঠ নেতা ও মুখপাত্র রবিশঙ্কর প্রসাদ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে একটি দুর্নীতিগ্রস্ত সরকার চলছে। তাঁর অভিযোগ, ইডি আধিকারিকদের হুমকি দেওয়া হয়েছে এবং প্রমাণ লুকোনোর চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, এটি এমন সংবেদনশীল নথি রক্ষার প্রচেষ্টা, যা টিএমসি এবং তাদের নেতাদের বিপদে ফেলতে পারে।

 

Leave a comment