Egg Price: এখনই ৬ টাকায় ডিম! শীত পড়তেই কি ১০ টাকা হবে? দাম বাড়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা

পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে ডিমের পাইকারি ও খুচরো দাম কত? শীতের মরসুমে চাহিদা বাড়লে ডিমের দাম কেন বাড়তে পারে, জানুন ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা।

ডিম—সস্তায় প্রোটিন পাওয়ার অন্যতম সহজ উৎস। তাই রান্নাঘরের বাজারে ডিমের দামের সামান্য ওঠানামাও সরাসরি প্রভাব ফেলে সাধারণ মানুষের সংসার খরচে। এবার শীত আসার আগেই সেই দাম নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। ব্যবসায়ীদের একাংশের আশঙ্কা, চাহিদা এবং সরবরাহের সমীকরণ বদলালে শীতের মরসুমে একটি ডিমের খুচরো দাম ১০ টাকা পর্যন্ত পৌঁছতে পারে।

Egg Price: এখনই ৬ টাকায় ডিম! শীত পড়তেই কি ১০ টাকা হবে? দাম বাড়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
বর্তমানে কত দামে বিক্রি হচ্ছে ডিম?

দি কলকাতা এগ মার্চেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সম্পাদক কাজল দত্তের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বুধবার পাইকারি বাজারে ১০০টি ডিমের দাম ছিল ৬০৫ টাকা। অন্যদিকে, NECC-এর নির্ধারিত রেট ছিল ৬৩০ টাকা।খুচরো বাজারে জায়গাভেদে ২টি ডিম ১৪ থেকে ১৫ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। অর্থাৎ বর্তমানে খুচরো হিসাবে একটি ডিমের দাম আনুমানিক ৭-৭.৫০ টাকা।এক সপ্তাহ আগেও প্রতি ১০০টি ডিমের দাম ছিল ৬৩৫ টাকা। ফলে সাম্প্রতিক সময়ে পাইকারি দরে ওঠানামা স্পষ্ট।

কয়েক মাসে কীভাবে বদলেছে ডিমের দর?

ব্যবসায়ীদের দেওয়া হিসাব অনুযায়ী, গত কয়েক মাসে ডিমের দামে বেশ কিছুটা ওঠানামা হয়েছে।

১৫ জুন: প্রতি ১০০টি ডিম প্রায় ৬১০ টাকা

১৫ জুলাই: প্রায় ৭১০ টাকা

১৫ অগস্ট: প্রায় ৫৬০ টাকা

১৬ সেপ্টেম্বরের আশপাশে: পাইকারি বাজারে প্রায় ৬০৫ টাকা

এই পরিসংখ্যান থেকেই বোঝা যায়, ডিমের বাজারে দাম স্থির থাকছে না। সরবরাহ, চাহিদা এবং উৎপাদন পরিস্থিতির উপর ভিত্তি করে দর দ্রুত বদলাতে পারে।

শীত এলেই কেন বাড়তে পারে দাম?

ব্যবসায়ীদের মতে, গণেশ চতুর্থীর পর থেকে ধীরে ধীরে ডিমের চাহিদা বাড়তে শুরু করে। বিশ্বকর্মা পুজো থেকে দুর্গাপুজো, কালীপুজো পেরিয়ে শীতের মরসুমে চাহিদা আরও বাড়ার প্রবণতা দেখা যায়।তাঁদের বক্তব্য, শীতের সময়ে সাধারণত জানুয়ারি পর্যন্ত ডিমের বাজারে দামের উপর চাপ থাকে। ফলে এ বছরও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হলে দাম বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

Egg Price: এখনই ৬ টাকায় ডিম! শীত পড়তেই কি ১০ টাকা হবে? দাম বাড়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
অন্ধ্রপ্রদেশে মুরগির মৃত্যুর প্রভাব পড়েছিল বাংলায়

ব্যবসায়ীদের দাবি, চলতি বছরের গরমের সময়ে অন্ধ্রপ্রদেশে বিপুল সংখ্যক মুরগির মৃত্যুর প্রভাব ডিমের সরবরাহেও পড়েছিল। চাহিদার তুলনায় জোগান কমে যাওয়ায় একসময় বাংলায় ডিমের দাম প্রতি পিস ৯ টাকা পর্যন্ত উঠেছিল বলে তাঁরা জানান।এখন শীতের আগে ফের চাহিদা বাড়লে সরবরাহের পরিস্থিতি কতটা সামাল দেওয়া যায়, তার উপর বাজারদর অনেকটাই নির্ভর করবে।

পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন কত ডিমের প্রয়োজন?

ব্যবসায়ী মহলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গে প্রতিদিন প্রায় ৪ কোটি ডিমের চাহিদা রয়েছে। এর মধ্যে রাজ্যে নিজস্ব উৎপাদন আনুমানিক ১ কোটি ৩০ লক্ষ থেকে দেড় কোটি ডিমের মতো।ফলে চাহিদার বড় একটি অংশ মেটাতে অন্য রাজ্যের উপর নির্ভর করতে হয়। অন্ধ্রপ্রদেশ ও তেলেঙ্গার পাশাপাশি কিছু ডিম পঞ্জাব এবং হায়দরাবাদ থেকেও আসে বলে জানানো হয়েছে।

Egg Price: এখনই ৬ টাকায় ডিম! শীত পড়তেই কি ১০ টাকা হবে? দাম বাড়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
প্রতিদিন কত ডিম ঢোকে রাজ্যে?

রাজ্যে প্রতিদিন প্রায় ৬০-৬৫টি গাড়িতে ডিম আসে বলে ব্যবসায়ী মহলের দাবি। প্রতিটি গাড়িতে আনুমানিক ২ লক্ষ ডিম থাকে।কলকাতার জন্য প্রতিদিন প্রায় ১০-১২টি গাড়ি আসে বলেও জানানো হয়েছে। ফলে বাইরের রাজ্য থেকে সরবরাহে কোনও সমস্যা তৈরি হলে তার প্রভাব বাংলার বাজারদরেও পড়তে পারে।

তাহলে কি সত্যিই ১০ টাকা হবে একটি ডিম?

এই মুহূর্তে একটি ডিমের দাম ১০ টাকা হবে—এমন কোনও নিশ্চিত ঘোষণা নেই। তবে শীতকালে চাহিদা বৃদ্ধি এবং সরবরাহের ঘাটতি তৈরি হলে দাম বাড়তে পারে বলে ব্যবসায়ীরা আশঙ্কা করছেন। বাজারে বাস্তবে দাম কতটা বাড়বে, তা নির্ভর করবে উৎপাদন, আমদানি, পরিবহণ এবং স্থানীয় চাহিদার উপর।

Egg Price: এখনই ৬ টাকায় ডিম! শীত পড়তেই কি ১০ টাকা হবে? দাম বাড়ার আশঙ্কায় ব্যবসায়ীরা
পশ্চিমবঙ্গে ডিমের বাজারদর নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বর্তমানে পাইকারি বাজারে ১০০টি ডিমের দাম ৬০৫ টাকা, আর খুচরো বাজারে ২টি ডিম প্রায় ১৪-১৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বলে ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে জানানো হয়েছে। শীতের মরসুমে চাহিদা বাড়লে ডিমের দাম আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের।

Leave a comment