হঠাৎ পায়ের বুড়ো আঙুলে অসহ্য ব্যথা, সঙ্গে ফোলা ও লালচে হয়ে যাওয়া—গাউটের আক্রমণ হলে এমন অভিজ্ঞতা হতে পারে। অনেক সময় রাতের দিকে আচমকাই শুরু হয় তীব্র যন্ত্রণা। শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা তাই অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষজ্ঞদের মতে, খাদ্যাভ্যাসেও কিছু পরিবর্তন করা দরকার। বিশেষ করে কয়েক ধরনের পিউরিন-সমৃদ্ধ খাবার এবং নির্দিষ্ট পানীয় নিয়মিত বা বেশি পরিমাণে খেলে ইউরিক অ্যাসিডের সমস্যা বাড়তে পারে।
গাউট কেন হয়?
গাউট এক ধরনের প্রদাহজনিত আর্থ্রাইটিস। রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি হলে অস্থিসন্ধির ভিতরে বা আশপাশে ইউরেটের সূক্ষ্ম স্ফটিক জমতে পারে। সেই স্ফটিক থেকেই তীব্র প্রদাহ ও ব্যথা তৈরি হয়।সাধারণত পায়ের বুড়ো আঙুলের গোড়ার জয়েন্টে গাউট বেশি দেখা গেলেও গোড়ালি, হাঁটু, কবজি, হাতের আঙুল কিংবা কনুইতেও সমস্যা হতে পারে।
লাল মাংস ও অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাংস
লাল মাংস এবং বিশেষ করে লিভারের মতো অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের মাংসে পিউরিনের পরিমাণ বেশি। শরীরে পিউরিন ভাঙার সময় ইউরিক অ্যাসিড তৈরি হয়। তাই গাউটের সমস্যা থাকলে এই ধরনের খাবার বেশি খাওয়ার বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, খাদ্যতালিকায় মাংসের পরিমাণ ও ধরন নিয়ন্ত্রণ করা ইউরিক অ্যাসিড ব্যবস্থাপনার একটি অংশ হতে পারে।
কিছু সামুদ্রিক খাবার
সব ধরনের মাছ বা সামুদ্রিক খাবার এক রকম নয়। তবে অ্যাঙ্কোভি, সার্ডিন, মাসল এবং কিছু অন্যান্য সামুদ্রিক খাবারে পিউরিনের পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।গাউটের সমস্যা থাকলে এ ধরনের খাবার ঘন ঘন বা বেশি পরিমাণে খাওয়ার আগে চিকিৎসক বা ডায়েটিশিয়ানের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
অ্যালকোহল ও মিষ্টি পানীয়
গাউটের ক্ষেত্রে অ্যালকোহল, বিশেষ করে বিয়ার, এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়। অ্যালকোহল ইউরিক অ্যাসিডের বিপাক ও শরীর থেকে তা বেরিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়ায় প্রভাব ফেলতে পারে।এছাড়া অতিরিক্ত ফ্রুক্টোজযুক্ত বা চিনি-মেশানো সফট ড্রিঙ্ক ও মিষ্টি পানীয়ও ইউরিক অ্যাসিড বাড়ার সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তাই নিয়মিত এই ধরনের পানীয় খাওয়ার অভ্যাস থাকলে তা কমানো গুরুত্বপূর্ণ।
শুধু খাবারের কারণেই কি গাউট হয়?
না। গাউটের পেছনে শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাস দায়ী নয়। শরীর অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করলে অথবা কিডনি পর্যাপ্ত ইউরিক অ্যাসিড শরীর থেকে বের করতে না পারলেও রক্তে এর মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।কিছু মানুষের ক্ষেত্রে পারিবারিক প্রবণতাও থাকতে পারে। এছাড়া অন্যান্য শারীরিক পরিস্থিতি ও কিছু ওষুধও ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রাকে প্রভাবিত করতে পারে।
গাউটের সাধারণ লক্ষণগুলি কী?
গাউটের আক্রমণ সাধারণত হঠাৎ শুরু হতে পারে। লক্ষণগুলির মধ্যে রয়েছে—
জয়েন্টে তীব্র ব্যথা
আক্রান্ত স্থানে ফোলাভাব
ত্বক লাল বা বিবর্ণ হয়ে যাওয়া
জয়েন্ট গরম অনুভূত হওয়া
সামান্য স্পর্শ বা নড়াচড়াতেও তীব্র ব্যথা
ব্যথার কারণে জয়েন্ট নাড়াতে অসুবিধা
অনেকের ক্ষেত্রে রাতের দিকে আচমকা ব্যথা শুরু হয়ে ঘুম ভেঙে যেতে পারে।
ইউরিক অ্যাসিড নিয়ন্ত্রণে কী করবেন?
গাউট থাকলে শুধু কয়েকটি খাবার বাদ দিলেই সবসময় সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আসবে এমন নয়। পর্যাপ্ত জল পান, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং চিকিৎসকের দেওয়া ওষুধ নিয়ম মেনে খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ।রক্তে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেশি থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী পরীক্ষা ও চিকিৎসা চালিয়ে যেতে হবে। নিজে থেকে ওষুধ বন্ধ করা বা শুরু করা উচিত নয়।
গাউটের অন্যতম কারণ রক্তে অতিরিক্ত ইউরিক অ্যাসিড জমা হওয়া। শরীরে ইউরিক অ্যাসিডের মাত্রা বেড়ে গেলে অস্থিসন্ধিতে ইউরেট ক্রিস্টাল জমে তীব্র ব্যথা, ফোলাভাব ও প্রদাহ হতে পারে। কিছু খাবার ও পানীয় এই সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেন।













