রাত বাড়ছে, ঘড়ির কাঁটা এগিয়ে চলেছে, অথচ চোখে ঘুম নেই! বারবার এপাশ-ওপাশ করেও ঘুমের দেখা মিলছে না। দীর্ঘদিন এমন চললে দৈনন্দিন জীবনযাপন ও স্বাস্থ্যে প্রভাব পড়তে পারে। অনিদ্রার পেছনে মানসিক চাপ, জীবনযাত্রা, কিছু শারীরিক সমস্যা-সহ একাধিক কারণ থাকতে পারে। এর পাশাপাশি কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানের ঘাটতিও বিবেচনায় রাখা হয়। বিশেষ করে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি ও ম্যাগনেশিয়াম নিয়ে নজর দেওয়া যেতে পারে।
কোন পুষ্টি উপাদানের ঘাটতির সঙ্গে ঘুমের সমস্যা জড়িত?
পুষ্টিবিদ অনুশ্রী মিশ্রের বক্তব্য অনুযায়ী, ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং ম্যাগনেশিয়াম শরীরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজের সঙ্গে যুক্ত। এগুলির ঘাটতি থাকলে ঘুমের সমস্যাও দেখা দিতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।
ভিটামিন বি১২
স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যকারিতা এবং রক্তে লোহিত রক্তকণিকা তৈরির জন্য ভিটামিন বি১২ গুরুত্বপূর্ণ। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য এর দৈনিক প্রয়োজন সাধারণত ২.৪ মাইক্রোগ্রাম।
বি১২-এর ঘাটতি হলে ক্লান্তি, দুর্বলতা ও স্নায়ু সংক্রান্ত নানা উপসর্গ দেখা দিতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে ঘুমের সমস্যার সঙ্গেও এর সম্পর্ক পাওয়া যায়।
বি১২ পেতে কী খাবেন?
খাদ্যতালিকায় দুধ, দই, পনিরের মতো দুগ্ধজাত খাবার রাখা যেতে পারে। তবে কোন খাবার থেকে কতটা বি১২ পাওয়া যাবে, তা খাবারের ধরন ও পরিমাণের উপর নির্ভর করে।
ম্যাগনেশিয়ামও গুরুত্বপূর্ণ
ম্যাগনেশিয়াম শরীরের একাধিক রাসায়নিক প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। স্নায়ু ও পেশির স্বাভাবিক কাজের সঙ্গেও এই খনিজটি জড়িত।শরীরে ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতি থাকলে বিভিন্ন শারীরিক সমস্যা দেখা দিতে পারে এবং ঘুমের মানের উপরও প্রভাব পড়তে পারে। তাই নিয়মিত সুষম খাবারের মাধ্যমে পর্যাপ্ত ম্যাগনেশিয়াম পাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।
ভিটামিন ডি-এর ঘাটতিতেও নজর দিন
ভিটামিন ডি-কে অনেক সময় ‘সানশাইন ভিটামিন’ বলা হয়। হাড়ের স্বাস্থ্য ও শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজে এর ভূমিকা রয়েছে। ভিটামিন ডি-এর মাত্রা কম থাকা এবং ঘুমের সমস্যার মধ্যে সম্পর্ক নিয়ে গবেষণাও হয়েছে।শুধু রোদে দাঁড়ানোই নয়, প্রয়োজন অনুযায়ী খাবার থেকেও ভিটামিন ডি পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘাটতি রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করার জন্য চিকিৎসকের পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ।
কোন খাবারে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়?
তৈলাক্ত মাছ ভিটামিন ডি-এর একটি ভালো খাদ্য উৎস। এছাড়া ডিম, কিছু দুগ্ধজাত খাবার এবং ভিটামিন ডি-সমৃদ্ধ ফর্টিফায়েড দুধ বা দই থেকেও এই ভিটামিন পাওয়া যেতে পারে।ইলিশ, রুই-কাতলার মতো মাছও খাদ্যতালিকায় রাখা যায়। তবে প্রতিটি খাবারে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ এক নয়।
মাশরুমও হতে পারে বিকল্প
মাশরুমের কিছু প্রজাতিতে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। বিশেষ করে UV-আলোতে রাখা মাশরুমে ভিটামিন ডি-এর পরিমাণ তুলনামূলক বেশি হতে পারে।এছাড়া বাদাম ও বিভিন্ন বীজ পুষ্টিকর খাবার হলেও এগুলিকে ভিটামিন ডি-এর প্রধান উৎস হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক নয়। বরং এগুলি অন্যান্য ভিটামিন, খনিজ ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাটের উৎস হিসেবে খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
শুধু খাবার খেলেই কি ইনসোমনিয়া দূর হবে?
এখানে একটি বিষয় মনে রাখা জরুরি—শুধু কোনও একটি ভিটামিন বা খাবার খেলেই ইনসোমনিয়া সেরে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। দীর্ঘদিন ঘুমের সমস্যা হলে তার কারণ খুঁজে দেখা প্রয়োজন।নিয়মিত ঘুমের সময় মেনে চলা, রাতে অতিরিক্ত ক্যাফেইন এড়ানো, শোওয়ার আগে অতিরিক্ত মোবাইল বা স্ক্রিন ব্যবহার কমানো এবং নিয়মিত শরীরচর্চাও ঘুমের স্বাস্থ্য ভালো রাখতে সহায়ক হতে পারে।
সারাদিনের ক্লান্তির পরও রাতে বিছানায় শুয়ে ঘুম না আসা বেশ অস্বস্তিকর। ঘুমের সমস্যার নানা কারণ থাকতে পারে। তবে শরীরে ভিটামিন বি১২, ভিটামিন ডি এবং ম্যাগনেশিয়ামের ঘাটতির সঙ্গেও ঘুমের সমস্যার সম্পর্ক থাকতে পারে। পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, খাবারের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পুষ্টি পাওয়ার দিকে নজর দেওয়া জরুরি।













