Ericsson রিপোর্টে 2031 সালের মধ্যে ভারতে 5G গ্রাহক সংখ্যা 1.1 বিলিয়ন ছাড়ানোর পূর্বাভাস

Ericssoসংখ্যা 1.1 বিলিয়ন অতিক্রম করতে পারে এবং মোট মোবাইল সাবস্ক্রিপশনের 81 শতাংশ 5G-এ রূপান্তরিত হতে পারে। একই সময়ে প্রতি স্মার্টফোনে গড় মাসিক ডেটা ব্যবহার বর্তমান 37GB থেকে বেড়ে প্রায় 70GB-এ পৌঁছানোর পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

ভারতে 5G পরিষেবার সম্প্রসারণ দ্রুত গতিতে এগোচ্ছে এবং আগামী কয়েক বছরে দেশের ডিজিটাল ও টেলিকম খাতে এর প্রভাব আরও বাড়বে বলে Ericsson Mobility Report-এ উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, 5G নেটওয়ার্কের বিস্তার, সাশ্রয়ী মূল্যের স্মার্টফোনের প্রাপ্যতা এবং উন্নত কভারেজের ফলে 5G ব্যবহারকারীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে। একই সঙ্গে দেশে মোবাইল ডেটা ব্যবহারের পরিমাণও ধারাবাহিকভাবে বাড়তে থাকবে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

Ericsson Mobility Report অনুসারে, ভারতে 5G পরিষেবার বিস্তার প্রত্যাশার তুলনায় দ্রুত হচ্ছে। উন্নত নেটওয়ার্ক প্রাপ্যতা, সাশ্রয়ী 5G স্মার্টফোন এবং দূরবর্তী এলাকায় নেটওয়ার্ক কভারেজ পৌঁছে যাওয়ার কারণে বিপুল সংখ্যক গ্রাহক নতুন প্রযুক্তি গ্রহণ করছেন। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ভারত বিশ্বের দ্রুততম বর্ধনশীল 5G বাজারগুলোর মধ্যে একটি এবং আগামী বছরগুলোতে এই প্রবৃদ্ধি আরও বাড়তে পারে।

রিপোর্ট অনুযায়ী, 2025 সালের শেষ নাগাদ ভারতে 5G সাবস্ক্রাইবারের সংখ্যা প্রায় 43 কোটি হতে পারে, যা মোট মোবাইল সাবস্ক্রিপশনের প্রায় 35 শতাংশ। আগামী বছরগুলোতে 5G নেটওয়ার্কের বিস্তার, উন্নত পরিষেবা এবং স্মার্টফোনের ক্রমবর্ধমান প্রাপ্যতা এই সংখ্যা আরও বাড়াবে। অনুমান করা হচ্ছে, 2031 সালের মধ্যে দেশে 5G ব্যবহারকারীর সংখ্যা 1.1 বিলিয়নের বেশি হবে। সে সময় মোট মোবাইল সাবস্ক্রিপশনের মধ্যে 5G-এর অংশীদারিত্ব প্রায় 81 শতাংশ হতে পারে।

Ericsson রিপোর্টে 2031 সালের মধ্যে ভারতে 5G গ্রাহক সংখ্যা 1.1 বিলিয়ন ছাড়ানোর পূর্বাভাস

বিশেষজ্ঞদের মতে, টেলিকম সংস্থাগুলোর অব্যাহত নেটওয়ার্ক অবকাঠামো বিনিয়োগ এবং গ্রামীণ এলাকায় সংযোগ সম্প্রসারণের উদ্যোগ এই বৃদ্ধিকে আরও এগিয়ে নেবে। 5G শুধুমাত্র উচ্চগতির ইন্টারনেট পরিষেবার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; শিক্ষা, স্বাস্থ্য, শিল্প এবং ডিজিটাল পরিষেবার মতো ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার বাড়বে।

ভারত ইতোমধ্যেই বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মোবাইল ডেটা ব্যবহারকারী দেশ। Ericsson-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, বর্তমানে প্রতি স্মার্টফোনে গড় মাসিক ডেটা ব্যবহার প্রায় 37GB। আগামী ছয় বছরে তা বেড়ে মাসে প্রায় 70GB-এ পৌঁছাতে পারে বলে অনুমান করা হয়েছে। ডিজিটাল কনটেন্টের চাহিদা বৃদ্ধি এবং উচ্চগতির নেটওয়ার্কের সহজলভ্যতাকে এই প্রবৃদ্ধির কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

ভিডিও স্ট্রিমিং, অনলাইন গেমিং, ক্লাউড কম্পিউটিং এবং সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বৃদ্ধির ফলে ডেটা ব্যবহারের পরিমাণ ক্রমাগত বাড়ছে। এছাড়া 5G Fixed Wireless Access (FWA) পরিষেবার সম্প্রসারণও ডেটা ব্যবহারে নতুন গতি যোগ করছে। এই প্রযুক্তি এমন এলাকায় উচ্চগতির ইন্টারনেট পৌঁছে দিতে সহায়তা করছে, যেখানে প্রচলিত ব্রডব্যান্ড পরিষেবার প্রবেশ সীমিত।

বর্তমানে ভারতে 4G-এর অংশীদারিত্ব সবচেয়ে বেশি থাকলেও আগামী বছরগুলোতে বিপুল সংখ্যক ব্যবহারকারী 5G নেটওয়ার্কে স্থানান্তরিত হবেন। রিপোর্ট অনুযায়ী, 2025 সালে 4G ব্যবহারকারীর সংখ্যা প্রায় 57 কোটি হতে পারে, যা 2031 সালের মধ্যে কমে প্রায় 16 কোটিতে নেমে আসতে পারে। এই পরিবর্তন ইঙ্গিত করে যে ব্যবহারকারীরা দ্রুততর এবং উন্নত সংযোগ সুবিধাসম্পন্ন পরিষেবাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছেন।

রিপোর্টে আরও বলা হয়েছে, কিছু টেলিকম সংস্থা ইতোমধ্যে Network Slicing-এর মতো উন্নত 5G পরিষেবা চালু করছে। এর ফলে এন্টারপ্রাইজ এবং প্রিমিয়াম গ্রাহকেরা আরও কাস্টমাইজড এবং উন্নত নেটওয়ার্ক অভিজ্ঞতা পাবেন। বৈশ্বিক স্তরেও 5G-এর সম্প্রসারণ অব্যাহত রয়েছে এবং ভারত এই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র হিসেবে উঠে আসছে।

 

Leave a comment