শুধু শাক-সবজি নয়, এই ৫ মাছেও থাকতে পারে ফিতাকৃমি! ৩০ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে পরজীবী, নিরাপদে মাছ খাবেন কীভাবে?

মাছেও থাকতে পারে ফিশ টেপওয়ার্ম। কোন ৫ ধরনের মাছে ঝুঁকি বেশি, কী কী উপসর্গ দেখা দেয় এবং কীভাবে রান্না ও সংরক্ষণ করলে সংক্রমণ এড়ানো যায়—জানুন বিস্তারিত।

মাছ বাঙালির প্রিয় খাবার। কিন্তু কাঁচা বা আধসেদ্ধ মাছ খাওয়ার অভ্যাস থাকলে শরীরে প্রবেশ করতে পারে বিপজ্জনক ফিশ টেপওয়ার্ম। এই পরজীবী মানুষের ক্ষুদ্রান্ত্রে বাসা বাঁধে এবং বিরল ক্ষেত্রে প্রায় ৩০ ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। তাই কোন মাছে ঝুঁকি বেশি এবং কীভাবে নিরাপদে মাছ খাবেন, তা জেনে রাখা জরুরি।

শুধু শাক-সবজি নয়, এই ৫ মাছেও থাকতে পারে ফিতাকৃমি! ৩০ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে পরজীবী, নিরাপদে মাছ খাবেন কীভাবে?
কী এই ফিশ টেপওয়ার্ম?

ফিশ টেপওয়ার্ম (Broad Fish Tapeworm) একটি পরজীবী কৃমি, যার বৈজ্ঞানিক নাম Dibothriocephalus latus। এটি সাধারণত কাঁচা বা ঠিকমতো রান্না না করা মিঠে জলের মাছের মাধ্যমে মানুষের শরীরে প্রবেশ করে। অন্ত্রে বাসা বেঁধে দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে পারে এবং ধীরে ধীরে বড় হতে থাকে।

শরীরে ঢুকলে কী সমস্যা হতে পারে?

ফিশ টেপওয়ার্ম সংক্রমণের ফলে দেখা দিতে পারে—

পেটে ব্যথা ও অস্বস্তি

ডায়রিয়া বা বমি

ভিটামিন বি১২-এর ঘাটতি

দুর্বলতা ও ওজন কমে যাওয়া

অন্ত্রে বাধা (Intestinal Obstruction)

গলব্লাডার বা পিত্তথলির জটিলতা

শুধু শাক-সবজি নয়, এই ৫ মাছেও থাকতে পারে ফিতাকৃমি! ৩০ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে পরজীবী, নিরাপদে মাছ খাবেন কীভাবে?
কোন ৫ ধরনের মাছে ঝুঁকি বেশি?

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু মাছে ফিশ টেপওয়ার্মের সংক্রমণের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি থাকতে পারে। যেমন—

ট্রাউট (Trout)

পার্চ (Perch)

হেরিং (Herring)

কড (Cod)

স্যামন (Salmon)

বিশেষ করে মিঠে জলের মাছ বা ঠিকভাবে সংরক্ষণ না করা মাছ খাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি।

শুধু শাক-সবজি নয়, এই ৫ মাছেও থাকতে পারে ফিতাকৃমি! ৩০ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে পরজীবী, নিরাপদে মাছ খাবেন কীভাবে?
কীভাবে মাছ খেলে সংক্রমণের ঝুঁকি কমবে?

ফিশ টেপওয়ার্ম থেকে বাঁচতে কয়েকটি বিষয় মেনে চলা উচিত—

কাঁচা বা আধসেদ্ধ মাছ খাবেন না।

মাছের ভেতরের তাপমাত্রা অন্তত ৬৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস (১৪৫°F) পর্যন্ত পৌঁছেছে কি না নিশ্চিত করে রান্না করুন।

দীর্ঘদিন সংরক্ষণ করতে হলে উপযুক্ত তাপমাত্রায় ডিপ ফ্রিজে রাখুন।

শুধু নুন মাখিয়ে, ধোঁয়ায় শুকিয়ে বা আচার বানিয়ে সংরক্ষণ করলে পরজীবী সম্পূর্ণ নষ্ট হয় না।

মাছের ফিতাকৃমি ও সবজির ফিতাকৃমির মধ্যে পার্থক্য

মাছের ফিতাকৃমি সাধারণত কাঁচা বা আধসেদ্ধ মাছের মাধ্যমে শরীরে ঢুকে ক্ষুদ্রান্ত্রে বাস করে। অন্যদিকে সবজির মাধ্যমে যে ফিতাকৃমির ডিম বা লার্ভা শরীরে প্রবেশ করে, তা অনেক সময় অন্ত্র ভেদ করে রক্তের মাধ্যমে চোখ, পেশী বা মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌঁছে গুরুতর জটিলতা তৈরি করতে পারে।

শুধু শাক-সবজি নয়, এই ৫ মাছেও থাকতে পারে ফিতাকৃমি! ৩০ ফুট পর্যন্ত বাড়তে পারে পরজীবী, নিরাপদে মাছ খাবেন কীভাবে?
বর্ষাকালে খাদ্যবাহিত পরজীবী সংক্রমণের ঝুঁকি বেড়ে যায়। অনেকেই মনে করেন শুধু শাক-সবজিতেই ফিতাকৃমির আশঙ্কা থাকে, কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে কিছু মাছেও ফিশ টেপওয়ার্ম থাকতে পারে। সঠিকভাবে সংরক্ষণ ও ভালোভাবে রান্না করলে এই ঝুঁকি অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।

Leave a comment