এমএম নারাভানে’র বই ফাঁস মামলায় দিল্লি পুলিশের এফআইআর, প্রাথমিক তদন্তে আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত

Delhi Police has registered an FIR oveMMDestiny’ without Defence Ministry clearance. Preliminary investigation indicates the book was distributed in India and internationally, including in the United States, Canada, Germany and Australia, through coordinated digital channels.

দিল্লি পুলিশ প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এমএম নারাভানে’র আত্মজীবনী ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’ প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়াই ফাঁস হওয়ার ঘটনায় এফআইআর নথিভুক্ত করেছে। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটিকে পরিকল্পিত ও আন্তর্জাতিকভাবে সমন্বিতভাবে ছড়ানো হয়েছে বলে জানা গেছে।

দিল্লি পুলিশের স্পেশাল সেলের প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, বইটি অনিচ্ছাকৃতভাবে ফাঁস হয়নি। সূত্রের দাবি, প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া এড়িয়ে সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে বইটি ফাঁস করা হয়েছে। এ ঘটনায় ফৌজদারি ষড়যন্ত্রের ধারায় এফআইআর দায়ের করা হয়েছে।

তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’ বইটির প্রচার কেবল ভারতে সীমাবদ্ধ ছিল না। এটি কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি ও যুক্তরাষ্ট্রে পৌঁছে যায় এবং ওই দেশগুলিতে অনলাইনে প্রথম বিক্রি হয়। ডিজিটাল বিতরণের মাধ্যমে বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

বিতর্কটি মূলত জেনারেল নারাভানে’র আত্মজীবনী ‘ফোর স্টার্স অফ ডেস্টিনি’কে কেন্দ্র করে। বইটি তাঁর সামরিক জীবন ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে রচিত। তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বাধ্যতামূলক অনুমোদন পাওয়ার আগেই এটি ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে উপলব্ধ হয়ে যায়।

এমএম নারাভানে’র বই ফাঁস মামলায় দিল্লি পুলিশের এফআইআর, প্রাথমিক তদন্তে আন্তর্জাতিক পরিকল্পনার ইঙ্গিত

তদন্তের উদ্দেশ্য হলো কীভাবে অপ্রকাশিত বইটির কপি যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছায় এবং কীভাবে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধীর কাছে এর একটি কপি পৌঁছায় তা নির্ধারণ করা। সূত্রের মতে, ঘটনাটি কেবল ফাঁস নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অংশ।

স্পেশাল সেলের সূত্র জানিয়েছে, এটি সাধারণ চুরির ঘটনা নয়, বরং একটি পরিকল্পিত ও সমন্বিত অভিযান, যেখানে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হয়েছে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ডিজিটাল ও আর্থিক মাধ্যম ব্যবহার করে বইটি আন্তর্জাতিক বাজারে পৌঁছে দেওয়া হয়।

তদন্তকারীরা বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, জার্মানি ও অস্ট্রেলিয়ায় ডিজিটাল লেনদেন ও অনলাইন কার্যকলাপ বিশ্লেষণ করছেন। লক্ষ্য হলো অননুমোদিত কপি কারা এবং কীভাবে বিতরণ করেছে তা চিহ্নিত করা।

এফআইআর দায়েরের পর স্পেশাল সেল একটি পৃথক দল গঠন করেছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতার মাধ্যমে ডিজিটাল ও আর্থিক তথ্য পর্যালোচনা করছে। তদন্তে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অফিসিয়াল অনুমোদন প্রক্রিয়া এড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টিও গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। কর্মকর্তাদের মতে, এটি কেবল বই ফাঁসের ঘটনা নয়, বরং জাতীয় নিরাপত্তা-সংক্রান্ত প্রোটোকল লঙ্ঘনের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত।

 

Leave a comment