লাল পলাশে আগুন রঙ, নতুন রাস্তায় স্বস্তি—বসন্তের আগে সেজে উঠছে শুশুনিয়া পাহাড়

লাল পলাশে আগুন রঙ, নতুন রাস্তায় স্বস্তি—বসন্তের আগে সেজে উঠছে শুশুনিয়া পাহাড়

ফাল্গুনের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে শুশুনিয়া পাহাড় যেন নতুন সাজে প্রস্তুত। লাল পলাশের আগুনে রঙে রাঙা প্রকৃতি উপভোগ করতে আসা পর্যটকদের জন্য এবার থাকছে বাড়তি সুবিধা। মরশুম শুরুর আগেই শুরু হয়েছে রাস্তা সংস্কারের কাজ, ফলে যাতায়াতে মিলবে স্বস্তি।

বসন্ত মানেই পলাশের রঙে রাঙা পাহাড়

বাঁকুড়া–পুরুলিয়া অঞ্চলে বসন্ত এলেই পাহাড়-জঙ্গল জুড়ে ফুটে ওঠে লাল পলাশ। শুশুনিয়া পাহাড় সেই সৌন্দর্যের অন্যতম কেন্দ্র। প্রকৃতিপ্রেমী, ফটোগ্রাফার ও ভ্রমণপিপাসুরা বছরভর অপেক্ষা করেন এই সময়টির জন্য। কয়েক সপ্তাহের এই মরশুমেই পর্যটকের ঢল নামে এলাকায়।

ছাতনা–শুশুনিয়া প্রধান সড়কে সংস্কারের কাজ শুরু

দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থায় থাকা ছাতনা থেকে শুশুনিয়া যাওয়ার রাস্তাটি ছিল বড় সমস্যা। গর্ত, ভাঙা পিচ ও বর্ষার জল জমে যাতায়াতে অসুবিধা হতো। প্রশাসন এবার আগাম পদক্ষেপ নিয়ে নতুন পিচ ঢালাই ও রাস্তা সমতল করার কাজ শুরু করেছে। বসন্তের ভিড়ের আগে কাজ শেষ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

পর্যটকের চাপ সামলাতে আগাম প্রস্তুতি

প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বসন্তকালে পর্যটকের সংখ্যা হঠাৎ বেড়ে যায়। শুধু জেলা নয়, রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্ত থেকেও মানুষ শুশুনিয়ায় আসেন। সেই বাড়তি চাপ সামাল দিতে রাস্তা উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি ছিল। উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাবে এবং যাত্রা করবে আরামদায়ক।

স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব

ভালো রাস্তা মানেই পর্যটন বৃদ্ধি। এতে উপকৃত হবেন স্থানীয় হোটেল ব্যবসায়ী, দোকানদার ও পরিবহন পরিষেবা প্রদানকারীরা। পর্যটকদের মতে, পরিবার নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিরাপদ ও মসৃণ রাস্তা বড় ভূমিকা রাখে। ফলে শুশুনিয়ার আকর্ষণ আরও বাড়বে।

বসন্তের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে বাঁকুড়ার শুশুনিয়া পাহাড়ে বাড়ছে পর্যটকদের উচ্ছ্বাস। লাল পলাশে ঢেকে যাওয়া পাহাড়-জঙ্গল দেখতে প্রতি বছর হাজারো মানুষ ভিড় জমান। চলতি মরশুমে পর্যটকদের সুবিধার্থে ছাতনা–শুশুনিয়া প্রধান সড়ক সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে প্রশাসন। উন্নত রাস্তা ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মেলবন্ধনে বাড়বে পর্যটনের সম্ভাবনা।

 

Leave a comment