বীরভূমের শান্তিনিকেতন চত্বরে বদলের হাওয়া। প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও আধুনিকতার লক্ষ্যে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে এপ্রিলের মধ্যেই সম্পূর্ণ ‘পেপারলেস’ ই-অফিসে পরিণত করার রূপরেখা প্রকাশ করলেন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক র্যাঙ্কিং, ডিজিটাল আর্কাইভ, পরিবেশবান্ধব প্রকল্প ও যোগ গ্রাম গড়ে তোলার মতো একাধিক পদক্ষেপে নতুন দিশা দেখাতে চাইছে কেন্দ্রীয় এই বিশ্ববিদ্যালয়।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্রথম পদক্ষেপ: কিউএস ও এনআইআরএফ র্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণ
বিশ্বভারতীর ইতিহাসে এই প্রথম ওয়ার্ল্ড কিউএস (QS) র্যাঙ্কিংয়ে অংশ নিচ্ছে প্রতিষ্ঠানটি। ইতিমধ্যেই প্রয়োজনীয় নথিপত্র জমা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন উপাচার্য। একই সঙ্গে জাতীয় স্তরের এনআইআরএফ (NIRF) র্যাঙ্কিংয়েও অংশগ্রহণ করছে বিশ্ববিদ্যালয়। প্রশাসনের দাবি, শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণার পরিধি বাড়াতে এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
এশিয়াটিক সোসাইটির সঙ্গে মউ: দু’বছরে সম্পূর্ণ ডিজিটাল আর্কাইভ
রবীন্দ্রভবন, কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার ও প্রশাসনিক দপ্তরের গুরুত্বপূর্ণ নথি আগামী দু’বছরের মধ্যে বিনা পারিশ্রমিকে ডিজিটালাইজেশন করবে এশিয়াটিক সোসাইটি। ইতিমধ্যেই এই মর্মে সমঝোতা স্মারক (MoU) স্বাক্ষর হয়েছে। ঐতিহাসিক দলিল ও দুর্লভ সংগ্রহ সংরক্ষণে এই উদ্যোগ বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা।

এপ্রিলের লক্ষ্য: সম্পূর্ণ ‘পেপারলেস’ ই-অফিস
বিশ্বভারতীর প্রশাসনিক কাঠামোকে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে স্থানান্তর করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ফাইল চলাচল, অনুমোদন, নথি সংরক্ষণ—সবই হবে অনলাইনে। এতে সময় সাশ্রয় ও স্বচ্ছতা বাড়বে বলে দাবি কর্তৃপক্ষের। এপ্রিলের মধ্যেই এই রূপান্তর সম্পূর্ণ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শ্রীনিকেতনে আধুনিক গোশালা ও বায়োগ্যাস প্রকল্প
শ্রীনিকেতনে মালিকানাহীন গোরুদের আশ্রয় দিয়ে একটি আধুনিক গোশালা গড়ে তোলা হবে। গোবর থেকে বায়োগ্যাস উৎপাদন করে ক্যাম্পাসের পথবাতি জ্বালানো হবে। পাশাপাশি উৎপাদিত দুধ পাঠভবনের ছাত্রাবাসে সরবরাহ করা হবে। পরিবেশবান্ধব ও স্বনির্ভরতার এই মডেল ইতিমধ্যেই নজর কেড়েছে।
ক্যাম্পাসে আয়রনমুক্ত জল ও জৈব সার উৎপাদন
ক্যাম্পাসে আয়রনমুক্ত পানীয় জলের পরিষেবা চালু করার কাজ শুরু হয়েছে। একই সঙ্গে শ্রীনিকেতন ও পূর্বপল্লীতে জৈব সার তৈরির প্রকল্প চালু হয়েছে। পরিবেশ সংরক্ষণ ও টেকসই উন্নয়নের দিকেই জোর দিচ্ছে প্রশাসন।

১০ কোটির যোগ গ্রাম: ধ্যান থেকে ন্যাচারোপ্যাথি
শিক্ষামন্ত্রকের প্রায় ১০ কোটি টাকার বরাদ্দে বিশ্বভারতী ক্যাম্পাসে গড়ে উঠছে যোগ গ্রাম ও যোগ পার্ক। এখানে ধ্যান কুঠির, প্রাণায়াম কুঠির, যোগাসন কুঠির, আয়ুর্বেদ ও যোগ থেরাপি কেন্দ্র থাকবে। দেশ-বিদেশের শিক্ষার্থীদের আকর্ষণ করতেই এই উদ্যোগ বলে জানানো হয়েছে।
বইমেলায় সাফল্য ও সমাবর্তনের প্রস্তুতি
আন্তর্জাতিক কলকাতা বইমেলায় প্রায় ১০ লক্ষ টাকার বই বিক্রি হয়েছে বিশ্বভারতীর স্টলে। দিল্লি বইমেলাতেও অংশগ্রহণের পরিকল্পনা রয়েছে। ফেব্রুয়ারিতেই সমাবর্তন অনুষ্ঠানের পরিকল্পনা করা হয়েছে এবং আচার্য তথা প্রধানমন্ত্রীকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।

বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়কে এপ্রিলের মধ্যে সম্পূর্ণ ‘পেপারলেস’ ই-অফিসে রূপান্তরের পরিকল্পনা ঘোষণা করলেন উপাচার্য প্রবীরকুমার ঘোষ। এশিয়াটিক সোসাইটির সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ নথির ডিজিটালাইজেশন, প্রথমবার ওয়ার্ল্ড কিউএস ও এনআইআরএফ র্যাঙ্কিংয়ে অংশগ্রহণ, শ্রীনিকেতনে আধুনিক গোশালা ও বায়োগ্যাস প্রকল্প, ক্যাম্পাসে আয়রনমুক্ত জল পরিষেবা এবং ১০ কোটি টাকার যোগ গ্রাম—একাধিক উদ্যোগে নতুন রূপে সাজতে চলেছে শান্তিনিকেতন।











