ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের যুগেও টিকে আছে শতাব্দীপ্রাচীন রীতি! হাওড়ার এই গ্রামে এখনও ঢেঁড়া পিটিয়েই পৌঁছয় জরুরি খবর

ডিজিটাল যুগেও হাওড়ার গঙ্গাধরপুর গ্রামে এখনও ঢেঁড়া পেটিয়ে জানানো হয় গুরুত্বপূর্ণ খবর। শতাব্দীপ্রাচীন এই ঐতিহ্য কীভাবে আজও জীবন্ত রয়েছে, জানুন বিস্তারিত।

স্মার্টফোন, সোশ্যাল মিডিয়া আর ইনস্ট্যান্ট মেসেজিংয়ের দাপটের মাঝেও হাওড়ার গঙ্গাধরপুর গ্রাম আজও আঁকড়ে ধরে রেখেছে এক ঐতিহ্যবাহী যোগাযোগ ব্যবস্থা। কোনও গুরুত্বপূর্ণ সভা, পুজো কিংবা গ্রামসংক্রান্ত জরুরি সিদ্ধান্ত জানাতে এখনও ভরসা করা হয় ‘ঢেঁড়া পেটানো’ প্রথার ওপর। আধুনিকতার ভিড়েও এই প্রাচীন সংস্কৃতি গ্রামবাসীদের দৈনন্দিন জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে রয়েছে।

ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের যুগেও টিকে আছে শতাব্দীপ্রাচীন রীতি! হাওড়ার এই গ্রামে এখনও ঢেঁড়া পিটিয়েই পৌঁছয় জরুরি খবর
রাজ আমলের ঐতিহ্য এখনও জীবন্ত

ইতিহাস বলছে, একসময় রাজকীয় নির্দেশ বা জনসাধারণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বার্তা পৌঁছে দেওয়ার প্রধান মাধ্যম ছিল ঢেঁড়া পেটানো। ঢোল বাজিয়ে গ্রামের বিভিন্ন প্রান্তে ঘুরে উচ্চস্বরে ঘোষণা করা হতো প্রশাসনিক বা সামাজিক খবর। সময় বদলালেও গঙ্গাধরপুরে সেই ঐতিহ্যের ধারাবাহিকতা আজও অটুট রয়েছে।

ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের যুগেও টিকে আছে শতাব্দীপ্রাচীন রীতি! হাওড়ার এই গ্রামে এখনও ঢেঁড়া পিটিয়েই পৌঁছয় জরুরি খবর
কীভাবে পৌঁছে দেওয়া হয় বার্তা?

এই প্রথায় একজন নির্দিষ্ট ব্যক্তি কাঁধে ঢোল নিয়ে গ্রামজুড়ে বিভিন্ন মোড় ও পাড়ায় যান। প্রথমে ঢোলের শব্দে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। এরপর স্পষ্ট কণ্ঠে জানিয়ে দেওয়া হয় নির্ধারিত ঘোষণা বা বার্তা। ঢোলের আওয়াজ শুনলেই গ্রামবাসীরা বুঝে যান, গুরুত্বপূর্ণ কোনও খবর তাঁদের জন্য অপেক্ষা করছে।

পুজো, সভা থেকে জরুরি সিদ্ধান্ত—সবই জানানো হয় এই পদ্ধতিতে

গঙ্গাধরপুরে বছরজুড়ে বিভিন্ন ধর্মীয় অনুষ্ঠান, গ্রামসভা, সামাজিক বৈঠক কিংবা গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের খবর এই ঐতিহ্যবাহী পদ্ধতিতেই প্রচার করা হয়। বিশেষ করে গ্রহরাজের পুজো, ধর্মরাজের উৎসব, কালীপুজো এবং অন্যান্য সামাজিক কর্মসূচির দিনক্ষণ জানাতে ঢেঁড়া পেটানোর রীতি এখনও সমানভাবে কার্যকর।

ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের যুগেও টিকে আছে শতাব্দীপ্রাচীন রীতি! হাওড়ার এই গ্রামে এখনও ঢেঁড়া পিটিয়েই পৌঁছয় জরুরি খবর
প্রথা রক্ষায় নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন নিমাই দাস

বর্তমানে গ্রামের বাসিন্দা নিমাই দাস দীর্ঘদিন ধরে এই ঐতিহ্যের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিয়মিত গোটা গ্রাম ঘুরে পরিষ্কার ও জোরালো কণ্ঠে প্রত্যেকের কাছে বার্তা পৌঁছে দেন। তাঁর এই কাজ শুধু একটি ঘোষণা নয়, বরং গ্রামের বহু বছরের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে জীবিত রাখারও একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপের যুগেও টিকে আছে শতাব্দীপ্রাচীন রীতি! হাওড়ার এই গ্রামে এখনও ঢেঁড়া পিটিয়েই পৌঁছয় জরুরি খবর
ডিজিটাল যোগাযোগের যুগে যখন একটি বার্তা মুহূর্তে পৌঁছে যায় মোবাইলের পর্দায়, তখনও হাওড়ার গঙ্গাধরপুর গ্রামে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করা হয় শতাব্দীপ্রাচীন ‘ঢেঁড়া পেটানো’ প্রথায়। কাঁধে ঢোল নিয়ে গোটা গ্রাম ঘুরে মানুষের কাছে খবর পৌঁছে দেন নির্দিষ্ট ব্যক্তি।

Leave a comment