পুণ্যস্নানের মহাযজ্ঞ গঙ্গাসাগর মেলা ২০২৬ এবার শুধু ধর্মীয় আচারেই সীমাবদ্ধ নয়, প্রযুক্তির ছোঁয়ায় তা রূপ নিতে চলেছে এক আধুনিক ব্যবস্থাপনার দৃষ্টান্তে। প্রশাসনের লক্ষ্য—ভিড় নিয়ন্ত্রণ থেকে নিরাপত্তা, যাতায়াত থেকে স্বাস্থ্য পরিষেবা—সবকিছুতেই থাকবে নিখুঁত পরিকল্পনা ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার।
রেল পরিষেবায় রেকর্ড—১২৬টি স্পেশ্যাল ট্রেন
শিয়ালদহ ডিভিশনের আওতায় পুণ্যার্থীদের যাতায়াতের জন্য চালানো হবে মোট ১২৬টি স্পেশ্যাল ট্রেন। পাশাপাশি অতিরিক্ত কোচ ও বিশেষ টাইম টেবিলের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে, যাতে ভিড়ের চাপ সামলানো যায় নির্বিঘ্নে।
ইসরোর সাত স্যাটেলাইটে কড়া নজরদারি
এই প্রথম গঙ্গাসাগর মেলায় ব্যবহার করা হচ্ছে ইসরোর ‘নেভিক’ (NaVIC) প্রযুক্তি। সাতটি কৃত্রিম উপগ্রহের মাধ্যমে ভিড়ের গতিবিধি, আবহাওয়া ও জরুরি পরিস্থিতির রিয়েল-টাইম ডেটা সংগ্রহ করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেবে প্রশাসন।
ড্রোন ও থার্মাল ইমেজিংয়ে নিরাপত্তা বলয়
মেলা প্রাঙ্গণ ও সংলগ্ন এলাকায় বসানো হয়েছে ১২০০-র বেশি সিসিটিভি ক্যামেরা। পাশাপাশি ড্রোন ও থার্মাল ইমেজিং প্রযুক্তির সাহায্যে রাতদিন আকাশপথ থেকেও চলবে নজরদারি।
স্বাস্থ্য ও বিপর্যয় মোকাবিলায় বিশাল বাহিনী
পুণ্যার্থীদের স্বাস্থ্য পরিষেবায় মোতায়েন করা হয়েছে ১০ হাজারের বেশি স্বেচ্ছাসেবক। থাকছেন ২৫০০ সিভিল ডিফেন্স কর্মী, কুইক রেসপন্স টিম, এনডিআরএফ ও রাজ্য বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী—যেকোনও আপৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত।
নৌ-পরিবহণে বিশেষ ব্যবস্থা
মোট ২১টি জেটি চালু থাকছে। নামখানা ও ৮ নম্বর লটে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ১০০টি লঞ্চ, ৪৫টি ভেসেল ও ১৩টি বার্জ। প্রায় ৫৪ কিলোমিটার এলাকা ব্যারিকেড করে নিয়ন্ত্রিত যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
২০২৬ সালের গঙ্গাসাগর মেলাকে কেন্দ্র করে নজিরবিহীন প্রস্তুতি নিচ্ছে প্রশাসন। এক কোটির বেশি পুণ্যার্থীর সম্ভাব্য আগমনকে সামনে রেখে ১২৬টি স্পেশ্যাল ট্রেন, ইসরোর সাতটি স্যাটেলাইট, থার্মাল ড্রোন ও হাজারের বেশি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনার পরিকল্পনা করা হয়েছে।











