গোলাপকে অনেকেই ফুলের রানী বলেন, তবে গরমের বাগানে রঙের রাজত্ব কায়েম করতে এগিয়ে ‘বাগান বিলাস’ বা বোগেনভেলিয়া। বসন্তের আগেই নার্সারি ও খোলা বাজারে এই গাছ বিক্রি হচ্ছে হট কেকের মতো। বিশেষ করে ‘মহারানী’ জাতের গাছ প্রায় অমিল—১০০ টাকার চারা ১০০০ টাকাতেও কিনতে পিছপা নন বাগানপ্রেমীরা।
চাহিদার শিখরে বোগেনভেলিয়া, নার্সারিতে উপচে পড়া ভিড়
শহর ও শহরতলির নার্সারিগুলিতে এখন একটাই ট্রেন্ড—বোগেনভেলিয়া। কম পাতায় ভরপুর রঙিন ব্র্যাক্ট, কম জলেই টিকে থাকার ক্ষমতা আর টানা ফুল—এই তিন গুণেই জনপ্রিয়তা তুঙ্গে। এ বছর অন্যান্য বছরের তুলনায় চাহিদা কয়েকগুণ বেড়েছে বলে জানাচ্ছেন বিক্রেতারা।
বিভিন্ন ‘আইডি’ বা জাতের কদর, দামেও ঊর্ধ্বগতি
চিত্রা, থাইরানি, মহারানী, বারবার কাস্ট, পার্থ, সিলুয়েট সুবর্ণা—এমন বহু আইডির গাছ বাজারে মিলছে। রঙের ভিন্নতা ও ফুলের আকারে বৈচিত্র্যের জন্য সংগ্রাহকদের আলাদা আগ্রহ। চাহিদা বাড়তেই ৫০-৬০ টাকার চারা থেকে শুরু করে ১০০০-২০০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে বিশেষ জাতের গাছ।
কেন এত জনপ্রিয় ‘বাগান বিলাস’?
এই গাছের সবচেয়ে বড় গুণ—কম পরিচর্যা। প্রতিদিন জল না দিলেও চলে, সরাসরি রোদ পছন্দ করে, এবং ছাঁটাই করলে আরও বেশি ফুল দেয়। বারান্দা, ছাদবাগান কিংবা বাড়ির গেট—সব জায়গাতেই মানানসই। গরমে যখন অনেক গাছ নুইয়ে পড়ে, তখন বোগেনভেলিয়া রঙে রঙে ভরিয়ে তোলে পরিবেশ।
পরিচর্যার সঠিক পদ্ধতি জানলেই টানা ফুল
রোদ অপরিহার্য: প্রতিদিন অন্তত ৫-৬ ঘণ্টা সরাসরি রোদ দরকার।
অল্প জল, ভালো ড্রেনেজ: টবের মাটি শুকিয়ে এলে তবেই জল দিন। জল জমে থাকলে শিকড় পচে যেতে পারে।
ছাঁটাই জরুরি: শীতের শেষে হালকা প্রুনিং করলে নতুন ডাল বেরিয়ে ফুল বেশি আসে।
সার ব্যবস্থাপনা: মাসে একবার ফসফরাস সমৃদ্ধ সার বা হাড়ের গুঁড়ো ব্যবহার করলে ফুলের পরিমাণ বাড়ে।
স্ট্রেস টেকনিক: সামান্য জল-স্ট্রেস দিলে অনেক সময় বেশি ফুল ফোটে—এটি অভিজ্ঞ বাগানিরা প্রয়োগ করেন।
বসন্তের আগেই প্রস্তুতি, গরমে রঙের বিস্ফোরণ
শীত শেষ হওয়ার আগেই অনেকে গাছ কিনে টবে বসাচ্ছেন। কারণ এখন লাগালে গরমের শুরুতেই গাছ মানিয়ে নিয়ে ফুলে ভরে উঠবে। বিশেষজ্ঞদের মতে, ফেব্রুয়ারি-মার্চ হল রোপণের আদর্শ সময়।
শীত বিদায়ের মুখে বাজারে তুমুল চাহিদা ‘বাগান বিলাস’ বা Bougainvillea গাছের। কম পরিচর্যা, রঙিন ব্র্যাক্ট আর দীর্ঘদিন ফুল ধরে রাখার ক্ষমতার জন্য গরমের শুরুতেই এই গাছ কিনতে হুড়োহুড়ি। সঠিক পদ্ধতিতে যত্ন নিলে টানা কয়েক মাস থাকবে রঙের বাহার।













