গয়া সোনা লুঠকাণ্ড: রাজেশ সিংয়ের জামিন আবেদন খারিজ, বিচারবিভাগীয় হেফাজতেই থাকছেন অভিযুক্ত

গয়া সোনা লুঠকাণ্ড: রাজেশ সিংয়ের জামিন আবেদন খারিজ, বিচারবিভাগীয় হেফাজতেই থাকছেন অভিযুক্ত

গয়ার বহুচর্চিত সোনা লুঠকাণ্ডে অভিযুক্ত রাজেশ সিং আদালত থেকে আরও একবার বড় ধাক্কা খেয়েছেন। আদালত তাঁর জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছে, যার ফলে স্পষ্ট হয়েছে যে এই গুরুতর ফৌজদারি মামলায় আপাতত তাঁর স্বস্তি পাওয়ার কোনো সম্ভাবনা নেই। জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর রাজেশ সিংকে বিচারবিভাগীয় হেফাজতেই থাকতে হবে।

এই মামলাটি প্রকাশ্যে আসার পর থেকেই সমগ্র গয়া জেলায় আলোচনার বিষয় হয়ে আছে। সোনা লুঠের এই ঘটনা কেবল সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেনি, বরং পুলিশি ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তুলেছিল। তদন্তের সময় যখন একজন প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তার নাম অভিযুক্তদের মধ্যে উঠে আসে, তখন বিষয়টি আরও সংবেদনশীল হয়ে ওঠে। পুলিশ ও তদন্তকারী সংস্থাগুলির মতে, লুঠকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সূত্র ও প্রযুক্তিগত প্রমাণ রয়েছে, যা অভিযুক্তের ভূমিকার দিকে ইঙ্গিত করে।

শুনানির সময় প্রসিকিউশন পক্ষ আদালতে যুক্তি দেয় যে এই মামলাটি অত্যন্ত গুরুতর প্রকৃতির এবং এতে অভিযুক্তের ভূমিকা কেবল সন্দেহজনকই নয়, বরং বেশ কিছু তথ্যের ভিত্তিতে জোরালো বলে প্রতীয়মান হয়। প্রসিকিউশন আরও জানায় যে, যদি অভিযুক্তকে জামিন দেওয়া হয়, তাহলে সে তদন্তকে প্রভাবিত করতে পারে, সাক্ষীদের উপর চাপ সৃষ্টি করতে পারে অথবা প্রমাণ নষ্ট করার আশঙ্কাকে অস্বীকার করা যায় না। এছাড়াও, মামলার সঙ্গে জড়িত আরও কিছু দিকের তদন্ত এখনও সম্পূর্ণ হয়নি।

অন্যদিকে, ডিফেন্স পক্ষ আদালতে এই যুক্তি উত্থাপন করে যে অভিযুক্তকে রাজনৈতিক বা প্রশাসনিক ষড়যন্ত্রের অধীনে ফাঁসানো হয়েছে এবং সে তদন্তে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করছে। ডিফেন্স পক্ষ আরও বলে যে অভিযুক্ত দীর্ঘ সময় ধরে বিচারবিভাগীয় হেফাজতে রয়েছে, তাই তাকে জামিন দেওয়া উচিত। যদিও, আদালত উভয় পক্ষের যুক্তি শোনার পর উপলব্ধ রেকর্ড, কেস ডায়েরি এবং তদন্তের অগ্রগতি বিবেচনা করে জামিন দিতে অস্বীকার করে।

আদালত তাঁর আদেশে এই ইঙ্গিতও দিয়েছে যে প্রাথমিকভাবে মামলাটি গুরুতর এবং এই পর্যায়ে অভিযুক্তকে স্বস্তি দেওয়া ন্যায়সঙ্গত হবে না। আদালতের এই রায়ের পর স্পষ্ট যে এখন এই মামলায় আইনি প্রক্রিয়া আরও এগোবে এবং তদন্তকারী সংস্থাগুলির উপরও চাপ বাড়বে যাতে তারা সময়সীমার মধ্যে তদন্ত শেষ করে।

উল্লেখ্য, গয়া সোনা লুঠকাণ্ড স্থানীয় মানুষের মধ্যে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছিল। এখন জামিনের আবেদন খারিজ হওয়ার পর এই মামলাটি আরও একবার শিরোনামে এসেছে। আগামী দিনে চার্জশিট, সাক্ষীদের জবানবন্দি এবং আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের উপর সকলের নজর থাকবে।

Leave a comment