চোখের ‘নীরব চোর’ গ্লুকোমা! উইপোকার মতো কুরে কুরে নষ্ট করে দৃষ্টি—লক্ষণ, কারণ ও চিকিৎসা জানুন

গ্লুকোমা চোখের একটি মারাত্মক রোগ যা ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারে। জানুন গ্লুকোমার লক্ষণ, কারণ, চিকিৎসা ও প্রতিরোধের উপায়।

চোখের দৃষ্টি হারানো মানুষের জীবনে বড় বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞদের মতে, চোখের এমনই এক মারাত্মক রোগ Glaucoma, যা ধীরে ধীরে চোখের স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। রোগটি অনেক সময় এতটাই নীরবে বাড়ে যে রোগী বুঝতেই পারেন না কখন দৃষ্টিশক্তি কমতে শুরু করেছে। চিকিৎসা দেরি হলে স্থায়ীভাবে অন্ধত্বের ঝুঁকি তৈরি হয়।

নীরবে বাড়ে ‘দৃষ্টি চোর’ রোগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, Glaucoma-কে অনেক সময় “Silent Thief of Sight” বা দৃষ্টির নীরব চোর বলা হয়। কারণ এই রোগ ধীরে ধীরে চোখের অপটিক নার্ভকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। চোখের ভেতরে তরলের চাপ বেড়ে গেলে স্নায়ুর ক্ষতি শুরু হয় এবং ধীরে ধীরে দৃষ্টিশক্তি সংকুচিত হতে থাকে।

ভারতে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, ভারতে প্রায় ১ কোটি ২০ লক্ষ মানুষ Glaucoma-এ আক্রান্ত। বিশ্বজুড়েও এই রোগের প্রকোপ দ্রুত বাড়ছে। সমস্যা হল—অনেক ক্ষেত্রেই রোগ ধরা পড়ে দেরিতে, যখন চোখের ক্ষতি ইতিমধ্যেই অনেকটা হয়ে যায়।

সুড়ঙ্গের মতো দৃষ্টি—এটাই বড় লক্ষণ

এই রোগ বাড়তে থাকলে রোগীর দৃষ্টিক্ষেত্র ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়। অনেক সময় রোগীরা এমন অনুভব করেন যেন একটি সুড়ঙ্গের ভিতর দিয়ে বাইরে তাকাচ্ছেন। এই অবস্থাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানে ‘টানেল ভিশন’ বলা হয়, যা Glaucoma-এর অন্যতম গুরুতর লক্ষণ।

চিকিৎসা সম্ভব, তবে পুরোপুরি নিরাময় নয়

চিকিৎসকদের মতে, একবার অপটিক স্নায়ু ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে গেলে তা পুরোপুরি আগের অবস্থায় ফিরিয়ে আনা সম্ভব নয়। তবে ওষুধ, লেজার থেরাপি কিংবা অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি অনেকটাই থামিয়ে দেওয়া যায়। তাই দ্রুত রোগ নির্ণয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

৪০ বছরের পর নিয়মিত চোখ পরীক্ষা জরুরি

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ অনুযায়ী, ৪০ বছরের বেশি বয়স হলে নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে চোখের চাপ বা IOP (Intraocular Pressure) পরীক্ষা করলে Glaucoma প্রাথমিক পর্যায়েই ধরা পড়তে পারে এবং দৃষ্টিশক্তি রক্ষা করা সম্ভব হয়।

চোখের অন্যতম মারাত্মক রোগ Glaucoma। ধীরে ধীরে অপটিক স্নায়ুকে ক্ষতিগ্রস্ত করে এই রোগ দৃষ্টিশক্তি কেড়ে নিতে পারে। ভারতে প্রায় ১ কোটিরও বেশি মানুষ এই রোগে আক্রান্ত বলে বিশেষজ্ঞদের দাবি। বড় সমস্যা হল—রোগটি অনেক সময় কোনও লক্ষণ ছাড়াই বাড়তে থাকে। তাই নিয়মিত চোখ পরীক্ষা এবং দ্রুত চিকিৎসাই হতে পারে অন্ধত্ব থেকে বাঁচার একমাত্র উপায়।

Leave a comment