শীর্ষে থেকেও এক ধাক্কায় খাদ
বলিউডে কেচ্ছা নতুন নয়। তবে কিছু ঘটনা এমন, যা দশকের পর দশক ধরে আলোচনায় থাকে। ঠিক তেমনই এক অধ্যায় এই অভিনেত্রীর—যিনি কম সময়ে পারিশ্রমিকে বহু তারকাকে ছাপিয়ে গিয়েছিলেন, কিন্তু কেরিয়ারের শিখরেই এক সিদ্ধান্তে সব ওলটপালট।
তারকার উত্থান: রেকর্ড ভাঙা সাফল্য
তিনি অভিনয় করেছেন ১২০-টিরও বেশি ছবিতে। প্রায় দুই দশক ধরে ইন্ডাস্ট্রিতে রাজত্ব, চার দশক কাজ—গুরু দত্ত থেকে দিলীপ কুমার, রাজেশ খান্না থেকে অমিতাভ বচ্চন—সবার সঙ্গেই কাজ করেছেন। সেই সময়ের হিসেবে তিনি ছিলেন শীর্ষ ধনী অভিনেত্রীদের একজন।
ব্যক্তিত্বের বৈপরীত্য: ধনসম্পদ বনাম কৃপণতা
শোনা যায়, বিপুল আয়ের পরেও তিনি ছিলেন অত্যন্ত হিসেবি। গৃহকর্মে লোক রাখতেন না, নিজেই সব করতেন—অর্থ অপচয় এড়ানোই নাকি ছিল তাঁর নীতি। উত্থান ছিল উল্কার মতো, কিন্তু পতনের বীজও সেখানেই রোপিত।
১৯৭৮: আয়কর হানা ও চাঞ্চল্য
১৯৭৮ সালে আচমকা আয়কর দফতরের হানা। তল্লাশিতে নাকি বাথরুমের দেওয়াল ভেঙে উদ্ধার হয় প্রায় ১২ লক্ষ টাকা—যা তখনকার দিনে ছিল বিপুল অঙ্ক। খবর ছড়াতেই ইন্ডাস্ট্রিতে শোরগোল পড়ে যায়।
আদালত ও বিতর্কিত জবানবন্দি
ঘটনা গড়ায় আদালত পর্যন্ত। সংবাদমাধ্যমে তখন নানা দাবি-পাল্টা দাবি। সূত্রের খবর অনুযায়ী, আদালতে দেওয়া এক জবানবন্দিতে অর্থের উৎস নিয়ে এমন এক কথা বলা হয়, যা মুহূর্তে নায়িকার ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত করে। পরবর্তীতে শোনা যায়, এই বক্তব্যটি পরামর্শের ফল—তবে এসব দাবির সত্যতা নিয়ে মতভেদ রয়েছে।
পরিণতি: রাতারাতি দূরত্ব
এই বিতর্কের পর একের পর এক বড় প্রজেক্ট থেকে তাঁর নাম বাদ পড়তে থাকে। প্রযোজক-পরিচালক থেকে সহকর্মীরা দূরে সরে যান। যে অভিনেত্রী বছরে ৫–৬টি ছবি করতেন, তাঁর কাজ কমতে থাকে দ্রুত। শেষমেশ তিনি অভিনয় জগত থেকে সরে আসতে বাধ্য হন।
পাঁচ–ছয়ের দশকের অন্যতম ধনী ও জনপ্রিয় অভিনেত্রী। কেরিয়ার তুঙ্গে থাকতেই আয়কর হানায় উদ্ধার হয় বিপুল নগদ। আদালতে দেওয়া একটি বিতর্কিত জবানবন্দি মুহূর্তে বদলে দেয় তাঁর ইমেজ—তারপরই শুরু হয় পতন।













