করোনা পরবর্তী সময়ে নতুন করে ভাইরাস আতঙ্কের আবহে উঠে এসেছে হান্টা ভাইরাসের নাম। সম্প্রতি আন্তর্জাতিক স্তরে একাধিক সংক্রমণের খবর সামনে আসতেই উদ্বেগ বেড়েছে সাধারণ মানুষের মধ্যে। বিশেষ করে বাড়িতে থাকা ছোট ইঁদুর বা রান্নাঘরে ঘোরাফেরা করা ইঁদুর কি এই ভাইরাস ছড়াতে পারে—এই প্রশ্নই এখন ঘুরছে বহু মানুষের মনে। চিকিৎসক ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অবশ্য বলছেন, আতঙ্ক নয়, সচেতনতাই সবচেয়ে বড় অস্ত্র।
![]()
সব ইঁদুর কি হান্টা ভাইরাস ছড়ায়?
বিশ্ব স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সব ধরনের ইঁদুর হান্টা ভাইরাস বহন করে না। নির্দিষ্ট কিছু বুনো ইঁদুর বা রডেন্ট এই ভাইরাসের প্রধান বাহক হিসেবে পরিচিত। উত্তর আমেরিকায় বিশেষত ডিয়ার মাউস, কটন র্যাট কিংবা রাইস র্যাটের শরীরে এই ভাইরাস বেশি দেখা যায়।তবে বাড়ির রান্নাঘর, বেসমেন্ট বা স্টোররুমে দেখা সাধারণ ছোট ইঁদুরকে হান্টা ভাইরাসের প্রধান উৎস হিসেবে ধরা হয় না। ফলে বাড়িতে ইঁদুর দেখলেই আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই বলে জানাচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।
কীভাবে মানুষের শরীরে ঢোকে এই ভাইরাস?
হান্টা ভাইরাস সাধারণত সংক্রমিত ইঁদুরের প্রস্রাব, লালা, মল বা তাদের বাসার সংস্পর্শ থেকে মানুষের শরীরে প্রবেশ করতে পারে। বিশেষত শুকনো মল বা বর্জ্য পরিষ্কার করার সময় সেই ধুলো বাতাসে মিশে গেলে শ্বাসের মাধ্যমে ভাইরাস শরীরে ঢোকার আশঙ্কা বাড়ে।বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা ঘর, গ্যারেজ, গোডাউন, পুরনো আলমারি বা খামারঘর পরিষ্কার করার সময় ঝুঁকি বেশি থাকে। কারণ সেখানে ইঁদুরের বর্জ্য জমে থাকতে পারে।
![]()
ফুসফুস ও কিডনিতে মারাত্মক প্রভাব
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের দাবি, হান্টা ভাইরাস মানুষের শরীরে ঢুকে প্রথমেই ফুসফুস ও কিডনিতে আঘাত হানে। এর ফলে শ্বাসকষ্ট, জ্বর, শরীর ব্যথা, দুর্বলতা, কিডনি জটিলতা বা গুরুতর সংক্রমণ দেখা দিতে পারে।আমেরিকায় এই ভাইরাস থেকে “হান্টাভাইরাস পালমোনারি সিনড্রোম (HPS)” এবং ইউরোপ-এশিয়ায় “হেমোরেজিক ফিভার উইথ রেনাল সিনড্রোম (HFRS)” রোগের সৃষ্টি হয় বলে জানা গিয়েছে।
ঘর পরিষ্কারের সময় কোন সতর্কতা জরুরি?
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইঁদুরের মল বা শুকনো বর্জ্য কখনও ঝাঁট দিয়ে বা ভ্যাকুয়াম ক্লিনার দিয়ে পরিষ্কার করা উচিত নয়। এতে ভাইরাসযুক্ত সূক্ষ্ম কণা বাতাসে ছড়িয়ে পড়তে পারে।তার বদলে প্রথমে জীবাণুনাশক স্প্রে করে জায়গাটি ভিজিয়ে নিতে হবে। তারপর গ্লাভস পরে কাপড় বা টিস্যুর সাহায্যে পরিষ্কার করাই সবচেয়ে নিরাপদ পদ্ধতি। পাশাপাশি ঘরে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থাও রাখতে হবে।
![]()
আতঙ্ক নয়, সচেতন থাকাই গুরুত্বপূর্ণ
বিশেষজ্ঞরা স্পষ্ট জানাচ্ছেন, সাধারণ গৃহস্থালির ইঁদুর দেখলেই আতঙ্কিত হওয়ার কোনও কারণ নেই। তবে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা, খাবার ঢেকে রাখা এবং বন্ধ জায়গা পরিষ্কার করার সময় সতর্ক থাকা অত্যন্ত জরুরি।সচেতনতা ও সঠিক স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে এই ধরনের ভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব বলে মত চিকিৎসকদের।
![]()
বিশ্বজুড়ে আবারও আলোচনায় হান্টা ভাইরাস। ইঁদুরজাতীয় প্রাণীর মাধ্যমে ছড়ানো এই ভাইরাস নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। তবে বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, সব ইঁদুর এই ভাইরাস বহন করে না। বাড়ির সাধারণ ছোট ইঁদুর থেকেও সংক্রমণ হতে পারে কি না, কীভাবে ছড়ায় এই ভাইরাস এবং কীভাবে সতর্ক থাকবেন—জানুন বিস্তারিত।








