Astrology: জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞদের মতে, শনির অশুভ ছায়া জীবনে একের পর এক বাধা, অস্থিরতা ও মানসিক চাপ সৃষ্টি করতে পারে। এ অবস্থায় বহু ভক্ত ভগবান হনুমান–এর আশ্রয় নেন, কারণ তাঁকে শক্তি, সাহস ও সুরক্ষার দেবতা হিসেবে মানা হয়। মঙ্গলবার ও শনিবার গোপনে কিছু বিশেষ জিনিস মন্দিরে অর্পণ করলে শনির কষ্ট কমে বলে বিশ্বাস। ভোপালের জ্যোতিষ পণ্ডিত হিতেন্দ্র কুমার শর্মা জানিয়েছেন, পাঁচটি নির্দিষ্ট নৈবেদ্য ভক্তের ভয় দূর করে জীবনে নতুন শক্তির বার্তা দিতে পারে।

গোপন নৈবেদ্য কেন বেশি কার্যকর?
ভক্তদের বিশ্বাস, ভক্তি তখনই ফলপ্রসূ হয় যখন তা নম্রতা, আন্তরিকতা ও নির্লোভ মন থেকে আসে। কোনও প্রদর্শনী ছাড়াই যখন হনুমানজিকে কিছু নিবেদন করা হয়, তা ভক্তের সত্যিকারের ভক্তিস্বরূপ বলে মনে করা হয়। এই গোপন নৈবেদ্য মনকে নম্র রাখে এবং দেবতার আশীর্বাদ লাভে সহায়ক বলে বিশ্বাস।অনেক জ্যোতিষ মতে, গোপনে করা দান–ধ্যান মানসিক শক্তি বাড়ায় এবং শনির দোষ থেকে সুরক্ষা প্রদান করে।

মঙ্গলবার ও শনিবার কেন বিশেষ?
হিন্দু শাস্ত্রে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার হল শক্তির প্রতীক এবং শনিবার শনির প্রভাবের দিন। এই দুই দিন ভগবান হনুমানের পূজায় বিশেষভাবে শুভ বলে মানা হয়। তাই এই দিনগুলোতে নৈবেদ্য দিলে তা দ্রুত ফল দেয় বলে বিশ্বাস।জ্যোতিষীরা বলেন, নিয়মিত এই প্রথা পালন করলে ব্যক্তির আত্মবিশ্বাস বাড়ে, মন শান্ত হয় এবং কাজের বাধা কমতে থাকে।

লবঙ্গ নিবেদন: ভয় ও অস্থিরতা দূর করার প্রতীক
লবঙ্গকে শুভ ও শক্তিবর্ধক হিসেবে ধরা হয়। হয় বিশ্বাস, হনুমানের সামনে নিভৃতে লবঙ্গ রাখলে ভয় ও নেতিবাচক চিন্তা দূর হয়। অনেকেই বলেন, লবঙ্গ নিবেদন মানসিক উত্তেজনা কমাতে সাহায্য করে এবং বাড়িতে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হয়।বিশেষজ্ঞদের মতে, সকালবেলা মন্দিরে এই নৈবেদ্য রাখলে ফল আরও দ্রুত মেলে।

দেশলাই: অন্তরের দুর্বলতা কাটানোর সংকল্প
দেশলাই আগুনের প্রতীক—যা শক্তি, তেজ ও পরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়। গোপনে দেশলাই অর্পণ ব্যক্তির ভেতর থেকে অলসতা, ভয় এবং দ্বিধা দূর করার প্রতীক বলে মানা হয়।ভক্তদের অভিজ্ঞতা, এই অভ্যাস কাজে উদ্যম বাড়ায় এবং অন্ধকার ও নেতিবাচক চিন্তা মন থেকে দূরে রাখতে সাহায্য করে।

তুলসী পাতা: ভক্তি ও শান্তির প্রতীক
তুলসীকে পবিত্র এবং ভগবান রামের প্রিয় হিসেবে মানা হয়। হনুমান রামের পরম ভক্ত হওয়ায় তাঁকে তুলসী নিবেদন করলে ঘরে ইতিবাচকতা বাড়ে বলে বিশ্বাস।জ্যোতিষ মতে, তুলসী অর্পণ মানসিক শান্তি প্রদান করে, স্বাস্থ্য সমস্যা ও আর্থিক অস্থিরতা কমাতে সাহায্য করে।
হলুদ কাপড়: সৌভাগ্য ও সিদ্ধান্তগ্রহণ ক্ষমতা বৃদ্ধি
হলুদ রংকে সৌভাগ্য, জ্ঞান ও শান্তির প্রতীক ধরা হয়। হনুমানজিকে একটি ছোট হলুদ কাপড় বা রুমাল নিবেদন করলে মন পরিষ্কার হয় এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা বাড়ে বলে বিশ্বাস।ভক্তদের মতে, এই প্রতিকার পারিবারিক ঝামেলা কমাতে এবং সম্মান বৃদ্ধি করতে সহায়তা করে।

জ্যোতিষ মতে শনির কুপ্রভাবে জীবনে ভয়, বাধা, বিভ্রান্তি ও মানসিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। ভক্তদের বিশ্বাস, হনুমানজিকে গোপনে পাঁচটি বিশেষ জিনিস নিবেদন করলে এই কষ্ট কমে এবং সাহস, শক্তি ও ইতিবাচকতা বৃদ্ধি পায়। মঙ্গলবার ও শনিবার এই নৈবেদ্য বিশেষ ফলদায়ক বলে মনে করা হয়।













