HDFC ব্যাংকের পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান এবং স্বাধীন পরিচালক অতনু চক্রবর্তী ১৮ মার্চ থেকে তাৎক্ষণিকভাবে পদত্যাগ করেছেন। এই পদক্ষেপ ব্যাংকিং খাতে আলোড়ন সৃষ্টি করেছে এবং ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।
অতনু চক্রবর্তী তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন যে গত দুই বছরে তিনি ব্যাংকের মধ্যে কিছু কার্যক্রম এবং কাজকর্ম পর্যবেক্ষণ করেছেন যা তার ব্যক্তিগত মূল্যবোধ এবং নৈতিকতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। এই কারণেই তিনি পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন। তবে তিনি স্পষ্ট করেছেন যে তার পদত্যাগের পেছনে অন্য কোনও বড় কারণ নেই।
তার পদত্যাগের পরপরই HDFC ব্যাংক ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাংকের অনুমোদন নিয়ে কেকি মিস্ত্রীকে আগামী তিন মাসের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ করেছে। এই সময়ে ব্যাংকের কার্যক্রম স্থিতিশীল রাখা এবং কোনও ধরনের অস্থিরতা এড়ানো তার দায়িত্বের মধ্যে পড়বে।

অতনু চক্রবর্তী ২০২১ সালে HDFC ব্যাংকের বোর্ডে যোগ দেন। তার দায়িত্বকালেই ব্যাংক এবং HDFC লিমিটেডের মধ্যে ঐতিহাসিক সংযুক্তি সম্পন্ন হয়, যার ফলে ব্যাংকটি দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম ব্যাংকে পরিণত হয়। তিনি তার পদত্যাগপত্রে উল্লেখ করেছেন যে এই সংযুক্তির পূর্ণ সুফল এখনও সম্পূর্ণভাবে প্রতিফলিত হয়নি এবং এই প্রক্রিয়ায় আরও সময় প্রয়োজন। ব্যাংকিং খাতে তার অবদানকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
তার পদত্যাগের প্রভাব বাজারেও প্রতিফলিত হয়েছে। HDFC ব্যাংকের আমেরিকান ডিপোজিটরি রিসিপ্টস (ADRs)-এ প্রায় ৩% পতন নথিভুক্ত হয়েছে। বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে যে ব্যাংকের অভ্যন্তরে কী ঘটেছিল যার ফলে পার্ট-টাইম চেয়ারম্যান পদত্যাগ করেছেন।
এই পরিস্থিতির মধ্যেও ব্যাংকের আর্থিক কার্যকারিতা স্থিতিশীল রয়েছে। ২০২৬ অর্থবছরের তৃতীয় ত্রৈমাসিকে ব্যাংকের মুনাফা ১১.৫% বৃদ্ধি পেয়ে ১৮,৬৫৪ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে নেট ইন্টারেস্ট ইনকাম (NII)-এও বৃদ্ধি নথিভুক্ত হয়েছে। এই তথ্য থেকে ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি স্থিতিশীল রয়েছে বলে প্রতীয়মান হয়।
অতনু চক্রবর্তীর পদত্যাগের পর ব্যাংকের অভ্যন্তরীণ কার্যক্রম নিয়ে বিভিন্ন প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে। কোন কার্যক্রম তার নৈতিক মানদণ্ডের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল তা এখনও স্পষ্ট নয়। এই ঘটনার পর ব্যাংকের শাসনব্যবস্থা এবং ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, পাশাপাশি বিনিয়োগকারীদের মধ্যে ব্যাংকের স্থিতিশীলতা এবং কৌশলগত সিদ্ধান্তের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।












