রঙের উৎসব হোলি শুধু আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের নয়, বহু মানুষের কাছে এটি নতুন সূচনা ও সৌভাগ্যের প্রতীক। জ্যোতিষশাস্ত্রের একাংশের মতে, ২০২৬ সালের ৩ মার্চ উদযাপিত হোলি নাকি বিশেষ গ্রহণযোগে আরও তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। সেই কারণেই এই দিনে কিছু নির্দিষ্ট আচার বা শুভ বস্তু ঘরে আনার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে, যাতে ধন-সম্পদ ও সুখ-সমৃদ্ধির পথ সুগম হয়—এমনটাই বিশ্বাস।
হোলি ও চন্দ্রগ্রহণ: কী বলছে জ্যোতিষমত?
অনেক জ্যোতিষ বিশেষজ্ঞের মতে, এবারের হোলির দিনে চন্দ্রগ্রহণের সম্ভাব্য সংযোগ আধ্যাত্মিক শক্তিকে প্রভাবিত করতে পারে। গ্রহণকালকে অনেকেই তপস্যা, জপ ও পূজার বিশেষ সময় হিসেবে বিবেচনা করেন। বিশ্বাস করা হয়, এই সময়ে করা শুভ কর্ম বহুগুণ ফলদায়ক হতে পারে। তবে এই মতামত আধ্যাত্মিক বিশ্বাসভিত্তিক, বৈজ্ঞানিক প্রমাণসাপেক্ষ নয়।
হোলিকা দহনের ভস্ম: অশুভ শক্তি দূরের প্রতীক
হোলির আগের রাতে অনুষ্ঠিত হোলিকা দহনের পরের দিন সকালে সেই পবিত্র ভস্ম ঘরে আনা শুভ বলে মনে করা হয়। প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ঘরের চার কোণে সামান্য ভস্ম ছিটিয়ে দিলে নেতিবাচক শক্তি দূর হয়। পাশাপাশি প্রধান দরজায় আম বা অশোক পাতার তোরণ বাঁধাও শুভ বলে ধরা হয়। পূর্ণিমা তিথি দেবী লক্ষ্মী-র প্রিয়—এই ধারণা থেকেই এই আচারগুলির প্রচলন।
ধাতব কচ্ছপ: কূর্ম অবতারের প্রতীক
হিন্দু পুরাণে কচ্ছপকে ভগবান বিষ্ণু-র কূর্ম অবতারের প্রতীক হিসেবে মানা হয়। জ্যোতিষ মতে, হোলির দিনে রূপা, তামা বা পিতলের তৈরি একটি কচ্ছপ ঘরে আনলে ঐশ্বর্য বৃদ্ধি পেতে পারে।যদি কচ্ছপের পেছনে শ্রীযন্ত্র বা কুবের যন্ত্র খোদাই থাকে, সেটিকে আরও শুভ মনে করা হয়। অনেকেই কচ্ছপটি পরিষ্কার করে পূজাঘরে জলভরা পাত্রে উত্তরমুখী করে রাখেন—এতে ইতিবাচক শক্তি বৃদ্ধি পায় বলে বিশ্বাস।
রূপোর মুদ্রা: আর্থিক স্থিতির প্রতীক
দীর্ঘদিন অর্থসংকটে ভুগলে হোলির দিনে একটি রূপোর মুদ্রা কেনার পরামর্শ দেন কিছু জ্যোতিষ। পূজা শেষে সেই মুদ্রা লাল বা হলুদ কাপড়ে মুড়ে অর্থ রাখার স্থানে সংরক্ষণ করা হয়। রূপাকে চন্দ্র ও দেবী লক্ষ্মীর প্রতীক হিসেবে ধরা হয়। গ্রহণযোগে পূজিত রূপোর মুদ্রা আর্থিক স্থিতি আনতে পারে—এমন বিশ্বাস বহু পরিবারের মধ্যে প্রচলিত।
পিরামিড ও বাস্তু: ধন আকর্ষণের ধারণা
বাস্তু মতে, পিরামিড আকৃতির বস্তু মহাজাগতিক শক্তি আকর্ষণ করতে সক্ষম। তাই হোলির দিনে স্ফটিক বা ধাতুর তৈরি পিরামিড বাড়ির ঈশান (উত্তর-পূর্ব) বা উত্তর দিকে স্থাপন করলে ধনলাভ ও কর্মক্ষেত্রে সাফল্য আসতে পারে—এমনটাই অনেকে মনে করেন। যদিও এগুলি মূলত আস্থাভিত্তিক ধারণা।
২০২৬ সালের ৩ মার্চ পালিত হতে চলেছে হোলি। কিছু জ্যোতিষ মতে, এবারের উৎসব চন্দ্রগ্রহণের বিশেষ যোগে আধ্যাত্মিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে কয়েকটি শুভ বস্তু ঘরে আনলে আর্থিক স্থিতি ও সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পেতে পারে—এমনই বিশ্বাস প্রচলিত।













