হাওড়া জেলা জঙ্গল অধ্যুষিত না হলেও নদী ও জলাভূমি ঘিরে এখানকার জীববৈচিত্র্য অত্যন্ত সমৃদ্ধ। সেই কারণেই মাঝেমধ্যেই নানা বিরল জলজ প্রাণীর দেখা মেলে। এবার উদয়নারায়ণপুরে উদ্ধার হল প্রায় ১৩ কেজি ওজনের এক বিরল ময়ূরী কাছিম। বিশাল আকৃতির এই কাছিমকে দেখতে মুহূর্তের মধ্যেই ভিড় জমিয়ে ফেলেন এলাকার মানুষ। পরে পরিবেশকর্মীদের উদ্যোগে প্রাণীটিকে নিরাপদে পুনর্বাসন করা হয়।
হাওড়ায় বিরল কাছিম উদ্ধারে চাঞ্চল্য
উদয়নারায়ণপুর থানার উত্তর পালিয়ারা গ্রামের বাসিন্দা প্রবীর পাত্র প্রথম বিশাল আকৃতির কাছিমটি দেখতে পান। প্রাণীটির অস্বাভাবিক আকার দেখে তিনি বিষয়টি স্থানীয় পরিবেশ সংস্থা তরুণোদয় ফাউন্ডেশনের হেল্পলাইনে জানান। খবর পেয়েই পরিবেশকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে সতর্কতার সঙ্গে কাছিমটিকে উদ্ধার করেন। প্রায় ১৩ কেজি ওজনের এই ময়ূরী কাছিম এলাকাবাসীর মধ্যেও ব্যাপক কৌতূহলের সৃষ্টি করে।
জলাভূমির জীববৈচিত্র্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাওড়া জেলায় বড় জঙ্গল না থাকলেও বিস্তীর্ণ নদী ও জলাভূমির কারণে বহু বিরল জলজ প্রাণীর আবাস গড়ে উঠেছে। জেলার বিভিন্ন অংশে তিল কাছিমের দেখা যেমন মেলে, তেমনই সমুদ্র থেকে নদীপথে মাঝে মাঝে অলিভ রিডলি সামুদ্রিক কচ্ছপও এই অঞ্চলে চলে আসে। তবে ময়ূরী কাছিমের দেখা এখন অত্যন্ত বিরল বলেই জানাচ্ছেন পরিবেশকর্মীরা।
সংরক্ষণে পরিবেশকর্মীদের তৎপরতা
পরিবেশপ্রেমীদের দাবি, সাম্প্রতিক বছরগুলিতে আবাসস্থল সংকুচিত হওয়া, দূষণ এবং মানুষের হস্তক্ষেপের কারণে এই ধরনের বিরল কাছিমের সংখ্যা ক্রমশ কমছে। তাই উদ্ধার হওয়া প্রাণীটিকে দ্রুত নিরাপদ পরিবেশে স্থানান্তর করা অত্যন্ত জরুরি ছিল। বন দফতরের নির্দেশিকা মেনে কাছিমটির পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
প্রকৃতি রক্ষায় সাধারণ মানুষের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ
পরিবেশকর্মীদের বক্তব্য, বিরল কোনও বন্যপ্রাণী দেখতে পেলে সেটিকে ধরার বা ক্ষতি করার চেষ্টা না করে দ্রুত বন দফতর বা অনুমোদিত উদ্ধারকারী সংস্থাকে খবর দেওয়াই উচিত। সাধারণ মানুষের সচেতনতার কারণেই এদিন একটি মূল্যবান প্রাণীর জীবন রক্ষা সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতেও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে সকলের সহযোগিতা প্রয়োজন বলেই মত তাঁদের।
হাওড়ার উদয়নারায়ণপুরে উদ্ধার হল প্রায় ১৩ কেজি ওজনের এক বিরল প্রজাতির ময়ূরী কাছিম। স্থানীয় বাসিন্দার খবর পেয়ে পরিবেশকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে প্রাণীটিকে উদ্ধার করেন। পরে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়। বিরল এই কাছিম উদ্ধারে খুশি পরিবেশপ্রেমী ও বনপ্রাণ সংরক্ষণে যুক্ত সংগঠনগুলি।












