জীবনে সাফল্য অর্জনের জন্য অর্থ নয়, প্রয়োজন অদম্য ইচ্ছাশক্তি—এই কথার বাস্তব উদাহরণ রমেশ ঘোলপ। ছোটবেলায় পোলিও আক্রান্ত হওয়া, চরম দারিদ্র্য আর পরিবারের কঠিন পরিস্থিতির মধ্যেও তিনি স্বপ্ন দেখা থামাননি। সেই স্বপ্নই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রশাসনিক পদে।
দারিদ্র্যের সঙ্গে লড়াই করেই বড় হওয়া
মহারাষ্ট্রের সোলাপুর জেলার মহাগাঁও গ্রামের বাসিন্দা রমেশ ঘোলপের শৈশব কেটেছে অভাবের মধ্যে। ছোটবেলায় পোলিওর কারণে তাঁর বাঁ পা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। বাবা গাড়ির পাংচার সারানোর কাজ করতেন, আর সংসার চালাতে মা রাস্তায় চুড়ি বিক্রি করতেন। সেই কঠিন বাস্তবতার মধ্যেই বড় হয়েছেন তিনি।
অভাব থামাতে পারেনি পড়াশোনার ইচ্ছা
গ্রামের স্কুলে প্রাথমিক শিক্ষা শেষ করার পর উচ্চশিক্ষার জন্য অন্য গ্রামে যান রমেশ। দ্বাদশ শ্রেণিতে ৮৮.৫০ শতাংশ নম্বর পেয়ে নজর কাড়েন। পরে ডিপ্লোমা ইন এডুকেশন এবং বিএ ডিগ্রি সম্পন্ন করেন। অর্থাভাব সত্ত্বেও শিক্ষা থেকে কখনও সরে আসেননি।
মাত্র ২ টাকার জন্য অসহায় মুহূর্ত
রমেশের জীবনের সবচেয়ে কঠিন সময় আসে বাবার মৃত্যুর সময়। প্রতিবন্ধী হওয়ায় বাসভাড়া ছিল মাত্র ২ টাকা, কিন্তু সেই সামান্য অর্থও তাঁর কাছে ছিল না। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে জীবনে বড় কিছু করার জন্য আরও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ করে তোলে।
দ্বিতীয় চেষ্টাতেই UPSC-তে সাফল্য
দীর্ঘ প্রস্তুতি ও কঠোর পরিশ্রমের ফল মেলে ২০১১ সালে। দ্বিতীয় প্রচেষ্টাতেই UPSC পরীক্ষায় অল ইন্ডিয়া র্যাঙ্ক ২৮৭ অর্জন করেন রমেশ ঘোলপ। একই বছরে রাজ্য সিভিল সার্ভিস পরীক্ষাতেও তিনি প্রথম স্থান অধিকার করেন।
জেলাশাসক হিসেবে দায়িত্ব, সরল জীবনযাপনেই প্রশংসা
বর্তমানে ঝাড়খণ্ড ক্যাডারের IAS অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন রমেশ ঘোলপ। সাধারণ মানুষের সঙ্গে মাটিতে বসে কথা বলার একটি ছবি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর তাঁর বিনয়ী স্বভাব আরও বেশি প্রশংসা কুড়িয়েছে। প্রশাসনিক দায়িত্বের পাশাপাশি মানবিক আচরণও তাঁকে আলাদা পরিচিতি দিয়েছে।
দারিদ্র্য, শারীরিক প্রতিবন্ধকতা এবং পারিবারিক সংকট—সব বাধা অতিক্রম করে আইএএস অফিসার হয়েছেন মহারাষ্ট্রের রমেশ ঘোলপ। একসময় মায়ের সঙ্গে রাস্তায় চুড়ি বিক্রি করতেন, আর আজ তিনি প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে। তাঁর জীবনকাহিনি অসংখ্য তরুণ-তরুণীর কাছে অনুপ্রেরণার উৎস।










