আজকের ব্যস্ত জীবনে অনেকেই সকালে বা রাতে একবারে আটা মেখে ফ্রিজে রেখে দেন, যাতে বারবার ঝামেলা না করতে হয়। কিন্তু এই সুবিধার আড়ালে লুকিয়ে থাকতে পারে কিছু স্বাস্থ্যঝুঁকি। বিশেষজ্ঞদের মতে, নির্দিষ্ট সময়ের বেশি আটা সংরক্ষণ করলে তা শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে।
কেন ফ্রিজে আটা রেখে দেন অনেকেই?
প্রতিদিন নতুন করে আটা মাখার সময় বাঁচাতে বহু পরিবারেই মেখে রাখা ডো ফ্রিজে সংরক্ষণ করা হয়। কেউ সাধারণ রেফ্রিজারেটরে রাখেন, আবার কেউ ডিপ ফ্রিজেও সংরক্ষণ করেন। তবে সংরক্ষণের পদ্ধতি ও সময়—দুটিই গুরুত্বপূর্ণ।
বেশি সময় রাখলে কী সমস্যা হতে পারে?
ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাকের ঝুঁকি
দীর্ঘ সময় ধরে রাখা আটা আর্দ্র পরিবেশে ব্যাকটেরিয়া বা ছত্রাকের বৃদ্ধির ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে যদি ডো সঠিকভাবে বদ্ধ পাত্রে না রাখা হয়, তাহলে সংক্রমণের সম্ভাবনা বেড়ে যায়।
পুষ্টিগুণ কমে যেতে পারে
বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেকক্ষণ ধরে রাখা আটার কিছু পুষ্টিগুণ নষ্ট হতে পারে। পাশাপাশি স্টার্চের গঠনে পরিবর্তন ঘটায় রুটির গুণগত মানও আগের মতো থাকে না।
স্বাদ ও রঙে পরিবর্তন
দীর্ঘ সময় ফ্রিজে রাখা ডো দিয়ে তৈরি রুটি অনেক সময় শক্ত, শুকনো বা কালচে দেখাতে পারে। স্বাদেও তাজা আটার মতো সতেজ ভাব থাকে না।
হজমের সমস্যা
নির্দিষ্ট সময়ের বেশি সংরক্ষণ করা আটা খেলে অনেকের ক্ষেত্রে গ্যাস, অম্বল, বুকজ্বালা কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কত ঘণ্টা পর্যন্ত নিরাপদ?
সাধারণভাবে রেফ্রিজারেটরে রাখা আটা ৬ থেকে ৭ ঘণ্টার মধ্যে ব্যবহার করা ভালো। আর ডিপ ফ্রিজে সংরক্ষণ করলে ৯ থেকে ১০ ঘণ্টা পর্যন্ত ব্যবহার করা যেতে পারে। এর বেশি সময় রেখে দেওয়া ডো খাওয়ার আগে সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
আটা সংরক্ষণের সঠিক উপায়
পরিষ্কার ও বায়ুরোধী (এয়ারটাইট) পাত্রে রাখুন।
মেখে রাখার পর যত দ্রুত সম্ভব ফ্রিজে সংরক্ষণ করুন।
ব্যবহারের আগে রং, গন্ধ বা গঠনে পরিবর্তন হয়েছে কি না পরীক্ষা করুন।
একবার বের করা আটা বারবার ফ্রিজে রাখবেন না।
সময় বাঁচাতে অনেকেই একসঙ্গে বেশি আটা মেখে ফ্রিজে রেখে দেন। তবে এই অভ্যাস সবসময় নিরাপদ নয়। দীর্ঘ সময় ধরে সংরক্ষণ করা আটা থেকে স্বাদ, পুষ্টিগুণ ও স্বাস্থ্য—তিন ক্ষেত্রেই সমস্যা দেখা দিতে পারে। কত ঘণ্টা পর্যন্ত মেখে রাখা আটা ব্যবহার করা উচিত, জেনে নিন।













