আলমারি ভর্তি খালি কৌটো, বারান্দায় ভাঙা চেয়ার, পুরনো খেলনা কিংবা অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্র—এসব ফেলতে মন চায় না? অনেকেই ভবিষ্যতে কাজে লাগবে ভেবে বছরের পর বছর এসব জিনিস জমিয়ে রাখেন। কিন্তু এই অভ্যাস যদি ক্রমশ বাধ্যতামূলক হয়ে ওঠে, তাহলে সেটি কেবল শখ নয়, বরং একটি মানসিক সমস্যার ইঙ্গিতও হতে পারে।
কী এই হোর্ডিং ডিজঅর্ডার?
হোর্ডিং ডিজঅর্ডার এমন একটি মানসিক অবস্থা, যেখানে মানুষ প্রয়োজনহীন জিনিসও ফেলে দিতে পারেন না। তাঁদের মনে হয়, এসব জিনিস ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে বা ফেলে দিলে বড় ক্ষতি হবে। ফলে ধীরে ধীরে বাড়ি অপ্রয়োজনীয় জিনিসে ভরে যায়।
কেন হয় এই সমস্যা?
বিশেষজ্ঞদের মতে, আগে এটিকে অবসেসিভ কম্পালসিভ ডিসঅর্ডার (OCD)-এর অংশ হিসেবে ধরা হলেও বর্তমানে এটি একটি স্বতন্ত্র মানসিক রোগ হিসেবে বিবেচিত হয়। জিনগত কারণ, নিরাপত্তাহীনতা, উদ্বেগ বা অতীতের মানসিক আঘাত থেকেও এই সমস্যা তৈরি হতে পারে।
কী কী লক্ষণ দেখা যায়?
অপ্রয়োজনীয় জিনিস ফেলতে না পারা
ঘরজুড়ে জিনিসপত্র জমিয়ে রাখা
জিনিস ফেলে দেওয়ার কথা উঠলেই অস্বস্তি বা উদ্বেগ তৈরি হওয়া
দৈনন্দিন জীবন ও পরিবারের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়া
চিকিৎসা কীভাবে হয়?
চিকিৎসকদের মতে, এই সমস্যার চিকিৎসা দীর্ঘমেয়াদি। কারণ অনেক সময় আক্রান্ত ব্যক্তি নিজের সমস্যাই স্বীকার করতে চান না। সাধারণত কগনিটিভ বিহেভিয়ারাল থেরাপি (CBT)-এর সঙ্গে প্রয়োজন অনুযায়ী SSRI শ্রেণির ওষুধ ব্যবহার করা হয়। নিয়মিত চিকিৎসা ও কাউন্সেলিংয়ের মাধ্যমে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
বাড়িতে অপ্রয়োজনীয় ও পুরনো জিনিস জমিয়ে রাখার প্রবণতা অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তবে এই অভ্যাস যদি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় এবং দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত করে, তাহলে তা মানসিক রোগ ‘হোর্ডিং ডিজঅর্ডার’-এর লক্ষণ হতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা না হলে সমস্যা আরও জটিল হয়ে উঠতে পারে।













