অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় মজুত! মাটিক্ষয়-বন্যার আশঙ্কায় ‘বিরক্ত’ হাই কোর্ট, জেলাশাসকদের রিপোর্ট তলব

অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় মজুত! মাটিক্ষয়-বন্যার আশঙ্কায় ‘বিরক্ত’ হাই কোর্ট, জেলাশাসকদের রিপোর্ট তলব

অবৈধভাবে মাটি কেটে সেই মাটি ইটভাটায় জমা করার অভিযোগে ক্ষুব্ধ কলকাতা হাই কোর্ট। মাটিক্ষয়ের ফলে জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া এবং বন্যার আশঙ্কা বাড়ার অভিযোগে এবার রাজ্যের সব জেলাশাসকদের কাছে বিস্তারিত রিপোর্ট চাইল আদালত। আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অবৈধ মাটি কাটায় উদ্বেগ হাই কোর্টের

রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় অবাধে মাটি কাটা ও সেই মাটি ইটভাটায় মজুত করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই পরিস্থিতিতে অসন্তোষ প্রকাশ করে কলকাতা হাই কোর্টের ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পাল জানান, বিষয়টি অত্যন্ত গুরুতর এবং পরিবেশের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।

মাটিক্ষয় থেকে বন্যার আশঙ্কা

আদালতে জানানো হয়েছে, অবৈধভাবে মাটি কাটার ফলে জমির স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হচ্ছে। নদী ও জলাশয়ের গভীরতা বাড়ছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে বন্যা পরিস্থিতিতে। অভিযোগ অনুযায়ী, জলঙ্গি নদীর গভীরতা অনেক জায়গায় ২ থেকে ২.৫ ফুট পর্যন্ত বেড়ে গিয়েছে, যা প্রতি বছর বন্যার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

রাজ্যের কাছে কড়া প্রশ্ন ডিভিশন বেঞ্চের

শুক্রবার ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সুজয় পালের ডিভিশন বেঞ্চ রাজ্যের কাছে জানতে চায়—সব জেলায় কি অবৈধ মাটি কাটা বন্ধে নোটিস পাঠানো হয়েছে? সেই প্রশ্নের সন্তোষজনক উত্তর না মেলায় জেলাশাসকদের কাছ থেকে সরাসরি রিপোর্ট তলবের নির্দেশ দেয় আদালত।

আগেও নির্দেশ, তবু বন্ধ হয়নি মাটি কাটা

উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০২৪ সালের ২৬ জুন এই মামলায় হাই কোর্ট একটি সার্কুলার জারি করতে বলেছিল। তাতে স্পষ্টভাবে জানানো হয়, রাজ্যের কোথাও মাটি কাটা বা ইটভাটায় মাটি জমা করা যাবে না। অভিযোগ, সেই নির্দেশের পরও অবৈধ কাজ বন্ধ হয়নি।

জনস্বার্থ মামলার ভিত্তিতেই কড়া নির্দেশ

এই গোটা বিষয়টি নিয়ে হাই কোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের হয়। মামলাকারীদের দাবি, পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হয়ে ভবিষ্যতে ভয়াবহ বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সেই অভিযোগের প্রেক্ষিতেই এবার জেলাশাসকদের রিপোর্ট চাওয়া হয়েছে।

রাজ্যজুড়ে অবৈধভাবে মাটি কেটে ইটভাটায় জমা করার অভিযোগে কড়া অবস্থান কলকাতা হাই কোর্টের। মাটিক্ষয় ও বন্যার আশঙ্কা বাড়ায় আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে সব জেলার জেলাশাসকদের কাছ থেকে রিপোর্ট তলব করল আদালত।

Leave a comment