স্পিকার ওম বিরলার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে INDIA ব্লকের মধ্যে মতপার্থক্য

স্পিকার ওম বিরলার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব নিয়ে INDIA ব্লকের মধ্যে মতপার্থক্য

লোকসভা স্পিকার ওম বিরলার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব ঘিরে বিরোধী জোট INDIA ব্লকের ভেতরে মতপার্থক্য প্রকাশ্যে এসেছে। কংগ্রেস প্রস্তাবটি দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিলেও তৃণমূল কংগ্রেস তাৎক্ষণিক সমর্থন দিতে অস্বীকার করেছে। এই অবস্থান সংসদের ভেতরে বিরোধীদের সমন্বয় নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সূত্র অনুযায়ী, কংগ্রেসের দাবি, লোকসভায় বারবার বিরোধীদের বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ সীমিত করা হচ্ছে এবং বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য রাখার অনুমতি দেওয়া হচ্ছে না। এই অভিযোগের ভিত্তিতে কংগ্রেস স্পিকার ওম বিরলার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবের নোটিস প্রস্তুত করে INDIA ব্লকের সহযোগী দলগুলোর কাছ থেকে স্বাক্ষর সংগ্রহ শুরু করে।

তবে তৃণমূল কংগ্রেস এই কৌশল থেকে নিজেকে দূরে রেখেছে। দলের মতে, অনাস্থা প্রস্তাব শেষ পদক্ষেপ হওয়া উচিত, প্রথম বিকল্প নয়। তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান, প্রথমে স্পিকারের কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদন জানিয়ে বিরোধীদের উদ্বেগের বিষয়ে তাঁর প্রতিক্রিয়া জানানোর সুযোগ দেওয়া প্রয়োজন।

তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, তাঁর দল কংগ্রেসকে পরামর্শ দিয়েছে যাতে INDIA ব্লকের যৌথ দাবিগুলি নিয়ে স্পিকার ওম বিরলার কাছে আবেদন জানানো হয়। তিনি বলেন, স্পিকারকে বিরোধীদের আবেদনের জবাব দেওয়ার জন্য তিন দিনের সময় দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে তৃণমূল কংগ্রেস।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, কংগ্রেস যদি আজই আবেদন পেশ করে, তবে তৃণমূল কংগ্রেস সেই নোটিসে স্বাক্ষর করবে না। তবে তিন দিনের মধ্যে স্পিকার যদি বিরোধীদের দাবিতে সম্মতি না জানান, তাহলে তৃণমূল কংগ্রেস অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করতে প্রস্তুত থাকবে।

তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থানের বিপরীতে সমাজবাদী পার্টি, দ্রাবিড় মুনেত্র কড়গম এবং আরও কয়েকটি বিরোধী দল কংগ্রেসের পাশে রয়েছে। সূত্র অনুযায়ী, তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়া INDIA ব্লকের প্রায় সব বিরোধী সাংসদ স্পিকার ওম বিরলার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবে স্বাক্ষর করেছেন।

সূত্র জানিয়েছে, বিরোধী নেতা কে সুরেশ এবং মহম্মদ জাভেদ শীঘ্রই লোকসভার মহাসচিবের কাছে এই নোটিস জমা দিতে পারেন। এর মাধ্যমে কংগ্রেস ও তার সহযোগী দলগুলি বিষয়টিকে সংসদের ভেতরে পরবর্তী পর্যায়ে নিয়ে যেতে চায়।

এই বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে লোকসভায় বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য রাখার অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টি। বিরোধীদের অভিযোগ, রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনার সময় ইচ্ছাকৃতভাবে রাহুল গান্ধীকে বক্তব্য রাখতে দেওয়া হয়নি।

বিরোধী দলগুলোর দাবি, রাহুল গান্ধী ২০২০ সালের ভারত-চীন অচলাবস্থা নিয়ে আলোচনা করতে চেয়েছিলেন এবং এর জন্য প্রাক্তন সেনাপ্রধান জেনারেল এম এম নরভণের একটি অপ্রকাশিত স্মৃতিকথার উল্লেখ করেছিলেন। স্পিকারের পক্ষ থেকে অনুমতি না পাওয়ায় বিরোধীরা একে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের পরিপন্থী বলে উল্লেখ করেছে।

বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে, রাহুল গান্ধীকে লোকসভায় বক্তব্য রাখার অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে তাদের জানানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের তথ্য পাওয়ার পরই স্পিকার ওম বিরলাকে অপসারণের দাবিতে নোটিস আনুষ্ঠানিকভাবে দাখিল করা হবে বলে বিরোধীদের অবস্থান।

২ ফেব্রুয়ারি থেকে লোকসভায় ধারাবাহিক অচলাবস্থা ও বিক্ষোভ চলেছে। বিরোধী সাংসদরা বিভিন্ন বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন। এর মধ্যে প্রধান অভিযোগ, স্পিকারের মাধ্যমে বিরোধী নেতাদের বক্তব্য দেওয়া থেকে বিরত রাখা হচ্ছে।

জেনারেল নরভণের অপ্রকাশিত লেখার উদ্ধৃতি দেওয়ার অনুমতি না পাওয়ার বিষয়টিও এই বিতর্কের অংশ। বিরোধীদের অভিযোগ, অস্বস্তিকর প্রশ্ন এড়াতে শাসক পক্ষ স্পিকারের মাধ্যমে সংসদের কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে।

 

Leave a comment