ভারত ও বাংলাদেশের ক্রিকেট সম্পর্ক আরও জটিল মোড় নিল। একদিকে আইপিএল থেকে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে বাদ দেওয়ার নির্দেশ, অন্যদিকে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নির্ধারিত সফর স্থগিত—পরপর দুই সিদ্ধান্তে স্পষ্ট, এবার কোনও আপসের পথে হাঁটতে রাজি নয় ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড।
বাংলাদেশ সফর আপাতত বন্ধ, সরকারের অনুমতির অপেক্ষা
সংবাদমাধ্যমের দাবি অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ভারতের নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক সফর আপাতত স্থগিত করেছে BCCI। বোর্ড সূত্রে জানা গিয়েছে, কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন না মিললে ভবিষ্যতে এই সিরিজ আয়োজনের কোনও সম্ভাবনা নেই। ফলে ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্ক অনেকটাই ভারত-পাকিস্তান মডেলের দিকে এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আগেই পিছিয়েছিল ২০২৫ সালের সিরিজ
এই সফরটি মূলত ২০২৫ সালেই হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু দুই দেশের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের অবনতির জেরে সেই সময়ই সিরিজ স্থগিত হয়ে যায়। এমনকি গত ডিসেম্বর মাসে ভারত ও বাংলাদেশের মহিলা ক্রিকেট দলের একটি নির্ধারিত ম্যাচও বাতিল করা হয়েছিল।
বিশ্বকাপ সূচি নিয়েও অনিশ্চয়তা
আগামী মাসেই শুরু হতে চলেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। সেই টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দল ভারতেই নিজেদের ম্যাচ খেলবে। তবে দুই দেশের সম্পর্কের এই টানাপড়েনের প্রভাব বিশ্বকাপের সূচিতে পড়ে কি না, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই জল্পনা শুরু হয়েছে ক্রিকেট মহলে।
ইউনূস সরকারের পর থেকেই সম্পর্কের অবনতি
বিশ্লেষকদের মতে, ইউনূস সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ভাঙন ধরতে শুরু করে। বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগে ভারতের বিভিন্ন প্রান্তে বিক্ষোভও হয়। এরই মধ্যে আইপিএলে বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।
মুস্তাফিজুর ইস্যুতে কড়া বিসিসিআই
এই প্রেক্ষাপটেই শনিবার বিসিসিআই কলকাতা নাইট রাইডার্সকে নির্দেশ দেয়, ৯.২ কোটি টাকায় কেনা মুস্তাফিজুর রহমানকে ছেড়ে দিতে হবে। বোর্ডের নির্দেশ মেনে নেয় কেকেআর ফ্র্যাঞ্চাইজি। এই সিদ্ধান্তই ইঙ্গিত দেয়, বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের নিয়ে আর কোনও ঝুঁকি নিতে রাজি নয় ভারতীয় বোর্ড।
ভারত-বাংলাদেশ ক্রিকেট সম্পর্কে বড়সড় টানাপড়েন। মুস্তাফিজুর রহমানকে IPL থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশের পর এবার বাংলাদেশের বিরুদ্ধে নির্ধারিত দ্বিপাক্ষিক সফর স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নিল BCCI। কেন্দ্রীয় সরকারের অনুমোদন ছাড়া ভবিষ্যতে কোনও সিরিজে খেলবে না ভারত—এমনই কড়া অবস্থান নিচ্ছে বোর্ড।













